রাঙ্গুনিয়ায় সোলার সেচে বোরোর বাম্পার ফলনের আশা
Printed Edition
শান্তি রঞ্জন চাকমা রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাই (চট্টগ্রাম)
সূর্যের আলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সেচ কার্যক্রম পরিচালনার ফলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কৃষিতে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। ডিজেল ও বিদ্যুতের সঙ্কট কাটিয়ে তিনটি সোলার সেচ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৪ হেক্টর জমিতে চলতি বোরো মৌসুমসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করছেন কৃষকরা। এতে উৎপাদন ব্যয় কমেছে, বেড়েছে ফসলের পরিমাণ, ফলে বাম্পার ফলনের আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) আওতায় ‘ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট’ প্রকল্পের অধীনে গত বছর উপজেলার মরিয়মনগর ইউনিয়নের কাটাখালী গুমাইবিল, লালানগর ইউনিয়নের গজালিয়া ও চাঁদনগর এলাকায় সোলার সেচ প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে পাম্পের সাহায্যে কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সেচ পাম্প চালু থাকায় কৃষকদের ডিজেল বা বিদ্যুতের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। এতে সেচ কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন থাকছে এবং সময়মতো জমিতে পানি দেয়া সম্ভব হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, আগে যেখানে ঘণ্টাপ্রতি সেচের জন্য ১৫০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতো, এখন তুলনামূলক কম খরচে সেচ দেয়া যাচ্ছে।
কাটাখালী গুমাইবিল এলাকার এক কৃষক জানান, সোলার প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫০ জন কৃষক ৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করছেন। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে আগামীতে আরো বেশি জমি এই সুবিধার আওতায় আসবে। একইভাবে গজালিয়া ও চাঁদনগর এলাকার কৃষকরাও জানান, পানির অভাবে আগে অনেক জমি অনাবাদি থাকলেও এখন সেগুলোতে চাষাবাদ সম্ভব হচ্ছে।
উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমার বলেন, আগে প্রতি কানি জমিতে চাষে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা খরচ হতো, যা এখন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তিনি জানান, যেখানে আগে দুই ফসল হতো, সেখানে এখন ইরি, বোরো, আমন ও সরিষাসহ চার ফসলি চাষ হচ্ছে।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস বলেন, সৌর সেচ প্রকল্প চালুর ফলে জ্বালানি সঙ্কট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা গেছে। কৃষকরা সাশ্রয়ীভাবে সেচ সুবিধা পাচ্ছেন এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যাও মোকাবেলা করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি আরো জানান, সময়মতো সেচ নিশ্চিত হওয়ায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।