বগুড়ায় ৭টি আসনে মান্নাসহ ২০ প্রার্থী জামানত হারালেন
জামানত রক্ষা করতে হলে মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ বা এক-অষ্টমাংশ ভোট পেতে হয়
Printed Edition
বগুড়া অফিস
বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ ২০ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম এক-অষ্টমাংশ না পাওয়ায় তারা এ অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না। এর মধ্যে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের সাতজন প্রার্থীও রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ বা এক-অষ্টমাংশ ভোট পেতে হয়।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে কেটলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মাহমুদুর রহমান মান্না পেয়েছেন তিন হাজার ৪২৬ ভোট। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে দুই লাখ ৪৮ হাজার ৪৯৩টি। নিয়ম অনুযায়ী জামানত ফিরে পেতে তার প্রয়োজন ছিল ৩১ হাজারের বেশি ভোট। একই আসনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বগুড়া জেলা সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ পেয়েছেন ৪৩৪ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জামাল উদ্দিন পেয়েছেন ৯১৩ ভোট। তারাও জামানত হারিয়েছেন।
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে ইসলামী আন্দোলনের এ বি এম মোস্তফা কামাল পাশা, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. আসাদুল হক এবং গণফোরামের মো: জুলফিকার আলী প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত রক্ষা করতে পারেননি।
বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে জাতীয় পার্টির শাহিনুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের শাহজাহান আলী তালুকদার একই পরিণতির মুখে পড়েন। বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে জাতীয় পার্টির শাহীন মোস্তফা কামাল ও ইসলামী আন্দোলনের মুহা. ইদ্রিস আলী ন্যূনতম ভোটে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। জেলার সবচেয়ে বড় আসন বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট)-এ মোট চার লাখ ৯ হাজার ১৯৫টি ভোট পড়লেও এলডিপির খান কুদরত-ই-সাকলায়েন, ইসলামী আন্দোলনের মীর মাহমুদুর রহমান এবং সিপিবির শিপন কুমার রবিদাস জামানত রক্ষা করতে পারেননি।
এ ছাড়া বগুড়া-৬ (সদর) আসনে জেএসডির আবদুল্লাহ আল ওয়াকি, ইসলামী আন্দোলনের মামুনুর রশিদ এবং বাসদের একমাত্র নারী প্রার্থী দিলরুবা প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত হারান। বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে মুসলিম লীগের আনছার আলী ও ইসলামী আন্দোলনের শফিকুল ইসলাম একই পরিস্থিতির শিকার হন।
বগুড়া জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো: ফজলুল করিম বলেন, আইন অনুযায়ী মোট প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ পেতে ব্যর্থ হওয়ায় এসব প্রার্থীর জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত হয়েছে।