জাপানে পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ

Printed Edition
onno-3
টোকিওর একটি কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন এক নারী : ইন্টারনেট

আলজাজিরা

জাপানে পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল জোটের বড় জয় প্রত্যাশা করা হচ্ছে। গতকাল রোববারের এ আকস্মিক ভোটে তাকাইচি নতুন ম্যান্ডেট চাইছেন। তার এজেন্ডায় রয়েছে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি ও কঠোর অভিবাসন নীতি। তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জাপান ইনোভেশন পার্টি (ইশিন) মিলে ৪৬৫ আসনের মধ্যে ৩০০টির বেশি আসন পেতে পারে বলে জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আগেরবার তারা ২৩৩ আসন ধরে রেখেছিল। বিরোধীরা নতুন জোট গঠন করলেও বিভক্ত অবস্থায় থাকায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেনি।

৬৪ বছর বয়সী তাকাইচি জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি গত অক্টোবরে দায়িত্ব নেন। তার কর্মঠ ও দৃঢ় নেতৃত্ব তরুণ ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তিনি বলেছেন, এলডিপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পদত্যাগ করবেন। ভোটাররা ২৮৯ আসনে সরাসরি প্রার্থী বেছে নেবেন, বাকিগুলো দলীয় ভোটে নির্ধারিত হবে। স্থানীয় সময় রাত ৮টায় ভোট শেষ হবে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নির্বাচনের প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। মূল্যস্ফীতি বাড়লেও প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ায় পরিবারগুলো বিপাকে পড়েছে। অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে স্থবিরতায় ভুগছে। তাকাইচি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, দুই বছরের জন্য খাদ্যে ৮ শতাংশ বিক্রয় কর স্থগিত করবেন। এর আগে তিনি ২১.৩ ট্রিলিয়ন ইয়েনের প্রণোদনা প্যাকেজ অনুমোদন করেছিলেন, যাতে বিদ্যুৎ বিল ভর্তুকি, নগদ সহায়তা ও খাদ্য কুপন অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি প্রতিরক্ষা নীতি সংশোধন করে আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন। অস্ত্র রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া এবং অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

টোকিও থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাকাইচির জনপ্রিয়তা তাকে বড় জয় এনে দিতে পারে। কয়েক মাস আগে এলডিপি দুর্নীতির কেলেঙ্কারিতে বিপর্যস্ত ছিল, কিন্তু তাকাইচির নেতৃত্বে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। রেকর্ড তুষারপাতের মধ্যেই ভোট হচ্ছে। উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ৭০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষারপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। তবে এটি নির্বাচনের ফলকে প্রভাবিত করবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকাইচির অর্থনৈতিক এজেন্ডা দীর্ঘমেয়াদে দেশকে এগিয়ে নেবে বলে অনেক ভোটার বিশ্বাস করছেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টর খাত উন্নয়নের পরিকল্পনা করেছেন। রাজনীতিবিদ স্টিফেন নাগি বলেছেন, বড় জয় পেলে তাকাইচি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে জোট আরো শক্তিশালী করবেন এবং চীনের সাথে বাণিজ্য ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত নীতি গ্রহণ করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকাইচিকে সমর্থন জানিয়েছেন। যদিও এ সমর্থন মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে, তবে জাপান-যুক্তরাষ্ট্র জোটকে আরো দৃঢ় করার ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হতে পারে।