রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস
শীতের দাপটে কাঁপছে দেশ, নষ্ট হচ্ছে বীজতলা
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
হাড়কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ সারাদেশ। রাজশাহীতে একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে নেমে এসেছে ৭ ডিগ্রিতে, যা চলতি মৌসুমের সর্বনি¤œ। শৈত্যপ্রবাহ ও ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে ঘন কুয়াশায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ। প্রচণ্ড কুয়াশায় বিভিন্ন জায়গায় ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
রাজশাহী ব্যুরো জানান, রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায়, গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। যে কারণে জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর আগে সোমবার রাজশাহীতে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সে সময় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৬ শতাংশ।
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। চলতি শীত মৌসুমে এটিই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, জেলার ওপর দিয়ে আগামী ১১/১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, সকাল ৯টায় তেতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্র রেকর্ড করা করেছে। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৯ শতাংশ। বাতাস প্রতি ঘণ্টায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার গতিবেগে চলাচল করছে। শীত ও কুয়াশার কারণে সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগে পড়েছে অসহায় গরিব ও সাধারণ মানুষ। কুয়াশার কারণে তারা বাইরে কাজে যেতে পারছে না। এখান থেকে হিমালয় সন্নিকটে হওয়ায় প্রতিবারের মতো এবারো শীতের তীব্রতা বেশি।
নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, জেলার তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বইছে মৃদু শৈত্য প্রবাহ। ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে জনপদ। সেই সাথে গত চার দিন ধরে সূর্যের দেখা মেলেনি এই জেলায়। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ চরম বেকায়দায় পড়েছে।
দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭। গত সপ্তাহ থেকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ থেকে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়। তাপমাত্রা ওঠানামার মধ্যেও চলছে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ।
কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, মঙ্গলবার কুয়াশার চাদরে ঢেকে ছিল পিরোজপুরের আকাশ। রাতে বৃষ্টির মত কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় শীতের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। এদিকে শীতার্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে সরকারি ও বেসরকারি ভাবে শীতবস্ত্র পায়নি ছিন্নমূলের মানুষেরা। এতে শীতার্ত মানুষ নিদারুণ কষ্টে জীবনযাপন করছে। এদিকে তীব্র হাড় কাঁপানো কনকনে শীত ও হিমেল হওয়ার কারণে অনেক অসুস্থ রোগী মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষেরা গরম কাপড় পাওয়ার জন্য বিভিন্ন স্থানে ধরনা দিচ্ছেন।
নলডাঙ্গা (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় কনকনে ঠাণ্ডা ও ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা ও লাইলা পেঁয়াজের ক্ষতি হচ্ছে। বোরো ধানের বীজতলার চারা ও লাইলা পেঁয়াজ হলদে হয়ে পাতা পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন উপজেলার কৃষকেরা। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বোরো বীজতলা রক্ষার জন্য পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। তবে যেসব বীজতলার চারা বড় হয়ে গেছে, সেগুলো ক্ষতি হবে না।
মেলান্দহ (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, মেলান্দহ উপজেলায় নষ্ট হচ্ছে বোরো ধানের বীজতলা। শীতকালীন বিভিন্ন ফসল ভালো হলেও কোল্ড ইনজুরিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ধানের চারা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, আগাম বীজতলা যারা তৈরি করেছে তাদের তেমন ক্ষতি হবে না। শৈত্যপ্রবাহ কেটে উষ্ণ আবহাওয়া শুরু হলেই সেরে উঠবে বীজতলা। এতে চাষাবাদে কোনো প্রভাব পড়বে না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি, যেমন পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেয়া, পানি দেয়া-পানি বের করা, ছাই ছিটানো।
শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে আমন পরবর্তী রবি মৌসুমের বিভিন্ন ফসলের বীজতলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বোরো ধান, শাকসবজি ও মরিচের বীজতলায় পচন ধরছে, গাছ হলুদ হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক জায়গায় চারা মরে যাচ্ছে। উপজেলার কাওরাইদ, গোসিংগা, মাওনা ও শ্রীপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশা থাকায় সূর্যের আলো না পাওয়ায় বীজতলা দুর্বল হয়ে পড়ছে। অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ছত্রাকজনিত রোগ বাড়ছে, যা কৃষকদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ধামরাই (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলা গত সাত দিন ধরে সূর্যের দেখা মেলেনি। এতে শীতের তীব্রতা আরো বেড়েছে। এতে জনজীবন বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। বেলা ১১টায়ও কুয়াশাচ্ছন্নতা কাটে না। বিশেষ করে খেটে খাওয়ার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ। এর আগে, গত সোমবার সাতক্ষীরায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরো ওঠানামা করতে পারে বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন।