গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ

Printed Edition

সাজ্জাতুল ইসলাম ময়মনসিংহ

  • সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েও কাজবঞ্চিত
  • কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার অভিযোগ

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোটির টাকার ওষুধ, যন্ত্রপাতি, গজ-ব্যান্ডেজ, লিলেন, ক্যামিক্যাল ও আসবাবপত্র ক্রয়ের টেন্ডারে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: দিবাকর ভাটের বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে গত বুধবার ইউএনও কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জুয়াইরিয়া ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজার এনামুল হক। রোববার ইউএনও আফিয়া আমীন পাপ্পা অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছন। তিনি বলেন, অভিযোগ যাচাইয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েও কাজবঞ্চিত : অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ছয়টি গ্রুপে অনুষ্ঠিত টেন্ডারের মধ্যে চারটি গ্রুপে সর্বোচ্চ দরদাতা হয় ইলেক্টোসায়েন্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং বাকি দু’টি গ্রুপে সর্বোচ্চ দরদাতা ছিল জুয়াইরিয়া ইন্টারন্যাশনাল। টেন্ডার প্রক্রিয়ার শুরুতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সর্বোচ্চ দরদাতাদেরই কাজ দেয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার ব্যতিক্রম ঘটেছে।

ইলেক্টোসায়েন্সকে চারটি গ্রুপের কাজের কার্যাদেশ দেয়া হলেও জুয়াইরিয়া ইন্টারন্যাশনাল সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়া সত্ত্বেও দু’টি গ্রুপের কাজ পায়নি। কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা ছাড়াই ওই দু’টি গ্রুপ পুনরায় রি-টেন্ডার দেয়া হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার অভিযোগ : ইলেক্টোসায়েন্স প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী ১২ আগস্ট ২০২৫ থেকে ১১ আগস্ট ২০২৭ পর্যন্ত দুই বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্ত। বিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির টেন্ডারে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ইলেক্টোসায়েন্সের এজিএম রেজাউল করিম দাবি করেন, উচ্চ আদালতে আপিলের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা আদেশ বাতিল হয়েছে।

টেন্ডারের আর্থিক বিবরণ : মেডিসিন ক্রয়ে ৫০ লাখ ৫০ হাজার ৯৮৬ টাকা, যন্ত্রপাতি ২৫ লাখ ৯০ হাজার ২৪০ টাকা, গজ, ব্যান্ডেজ ও কটন ১২ লাখ ৯৫ হাজার ১২০ টাকা, লিলেন ১২ লাখ ৯৫ হাজার ১২০ টাকা, কেমিক্যাল পাঁচ লাখ ১৮ হাজার ৪৮ টাকা, ফার্নিচার পাঁচ লাখ ১৮ হাজার ৪৮ টাকা, খাদ্য ৩২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা, লিলেন আইটেম ধৌতকরণ আট লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা। মেডিসিন ক্রয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা ছিল ইলেক্টোসায়েন্স (৪৯ লাখ ১২ হাজার ৯৯৯ টাকা) এবং সর্বনিম্ন দরদাতা মেসার্স সাইফুল ট্রেডার্স (৪১ লাখ ৪৩ হাজার ৩৮৬ টাকা)। যন্ত্রপাতি ক্রয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা ছিল জুয়াইরিয়া ইন্টারন্যাশনাল।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য : উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: দিবাকর ভাট জানান, অভিথযোগ ভিত্তিহীন, সফটওয়্যার সিস্টেম অনুযায়ী টেন্ডার মূল্যায়ন করা হয়েছে। দু’টি গ্রুপ বাতিল হওয়ায় পুনরায় দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে। দরপত্র কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা: রাজেন্দ্র দেবনাথ জানান, দরপত্র মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে জুয়াইরিয়া ইন্টারন্যাশনাল মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি। তবে আর্থিক সক্ষমতার অজুহাতে সর্বোচ্চ দরদাতাকে বাদ দেয়া এবং কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে দাবি অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানের।