এখনো ফাঁকা রাজধানী নেই চিরচেনা রূপ
Printed Edition
আব্দুল কাইয়ুম
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হলেও এখনো ফাঁকা রাজধানীর সড়ক ও অলিগলি। নেই চিরচেনা ঢাকার যানজট ও মানুষের কোলাহল। যেন নীরব হয়ে আছে ঢাকার প্রতিটি প্রান্ত। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার ছিল নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি ছুটি, সেই সাথে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ হওয়ায় এখনো ফেরেনি বাড়িতে যাওয়া নগরবাসী। তবে নির্বাচনের পরদিন গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও ধীরে ধীরে কিছু ব্যবসায়ী ও লোকজন আসতে শুরু করে। এতে করে কিছুটা স্বাভাবিক হচ্ছে নগরজীবন।
রাজধানীর নিউ মার্কেট, ধানমন্ডি, কলাবাগান, সাইন্সল্যাব, শাহবাগ ও গুলিস্তান এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এসব এলাকায় নেই আগের মতো মানুষের আগাগোনা। চারিদিকে শুনশান নিরবতা। গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকলেও গতকাল রাজপথে কিছু সময় পর পর গণপরিবহন চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে যাত্রী সংখ্যা ছিল খুবই কম। তা ছাড়া আগের মতো দেখা যায়নি ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা। এতে অনেকটাই ফাঁকা প্রধান সড়কগুলো। অন্য দিকে গলির সড়কে নেই চায়ের দোকানে বসে আড্ডার দৃশ্য। যেখানে ছোট ছোট টং দোকানে বসে সবাই মিলে ধুমায়িত চায়ের কাপে চুমুক দিতো। এখন সেখানে শুধু সে দোকানটিই পড়ে আছে, নেই চা বানানো টুনটুন শব্দ।
এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিছু কিছু ছোট-বড় শপিংমল, মার্কেট ও বিপণিবিতানও খুলতে দেখা গেছে। তবে মার্কেটে ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম। বিশেষ করে মূল সড়কের পাশেরগুলো দেখা গেছে। তবে নেই ক্রেতা, অলস সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। অন্য দিকে গুলিস্তানের ফুটপাতে ছিল না ব্যবসায়ীদের হাঁকডাক। অল্প কিছু ফুটপাত ব্যবসায়ী তাদের দোকান নিয়ে বসলেও আগের মতো নেই ক্রেতার চাপ।
রাজধানীর কলাবাগন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন এক ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক। তিনি জানান, কয়েক বছর ধরে গাড়ি চালাচ্ছেন কিন্তু ঢাকাকে কখনো এত ফাঁকা দেখেননি। অন্যান্য দিন এতক্ষণে মালিকের জমার টাকা ওঠে যায়। এখন মনে হচ্ছে বাসা থেকে টাকা এনে জমা দিতে হবে। ঈদের সময়ও রাস্তায় মানুষে ভরপুর থাকে; কিন্তু নির্বাচনের কারণে ঢাকা একেবারেই ফাঁকা। মানুষ সব বাড়ি চলে গেছে।
ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনের ছুটির কারণে নেই ক্রেতার চাপ। তবে জীবিকার তাগিদেই তারা দোকানপাট খুলেছেন। তা ছাড়া শুক্রবার ও শনিবার হওয়ায় মানুষ এখনো ঢাকায় আসেনি। আশা করা যাচ্ছে রোববার থেকে আবার ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়বে। এখন মাঝে মাঝে কিছু লোক আসে।
এ দিকে নির্বাচন শেষ হওয়ায় ঢাকা সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরা গতকাল থেকেই রাস্তাঘাটে ঝুলিয়ে রাখা ছোট-বড় ব্যানার, বিলবোর্ড, ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারণ শুরু করেছেন। তাদের পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষদেরও নিজেদের উদ্যোগে ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণ করে কাঠের টুকরো সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।
গণপরিবহনের বেশির ভাগই নির্বাচনের জন্য পুলিশ রিকুইজিশন করেছিল। আরো একদিন রিকুইজিশনে থাকার কথা থাকলেও নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ায় অধিকাংশ বাস সকালে ছেড়ে দিয়েছে বলে জানায় পরিবহন চালকরা।
এ দিকে রাজধানী ফাঁকা থাকলেও নির্বাচনের পরের দিনও সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। নির্বাচনপরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, র্যাব ও সেনাবাহিনীকে টহলরত দেখা গেছে। তা ছাড়া যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি প্রতিরোধে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।