পাঞ্জাবিতে চাহিদা বেড়েছে

আবুল কালাম
Printed Edition
3rd-1
রাজধানীর শাহবাগে আজিজ মার্কেটে ঈদের পাঞ্জাবি দেখছেন এক ক্রেতা : নয়া দিগন্ত

ঈদ ঘিরে এবার মানুষের মধ্যে পাঞ্জাবির চাহিদা বেড়েছে। নামকরা ব্রন্ড থেকে শুরু করে পাঞ্জাবির সাধারণ দোকান, মল, সর্বত্রই ভিড় করছেন ক্রেতারা।

পছন্দের পাঞ্জাবির খোঁজে মার্কেট চষে বেড়াচ্ছেন আগতরা। বিষয়টি মাথায় রেখে বিক্রেতারাও বসে নেই। দোকান নানা ডিজাইনের পাঞ্জাবিতে সাজিয়েছেন তারা।

বিক্রেতারা জানান, এ বছরও দেশীয় তাঁত, সুতি, খাদির পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে দেশীয় ব্রান্ডের পাঞ্জাবি। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় পাঞ্জাবিতে এসেছে নানা বৈচিত্র্য ও বাহারি ডিজাইন। তবে গরম বেড়ে যাওয়ায় সুতি, চায়না পেনসিলসহ পাতলা কাপড়ের পাঞ্জাবির বিক্রি এবার সবচেয়ে বেশি।

পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, এবার বিক্রি কয়েক গুণ বেড়েছে। যেহেতু তারা পাইকারি বিক্রি করেন তাই শবে বরাতের পর থেকে তাদের শুরু হয়ে এখন প্রায় শেষ।

তবে এবার দাম একটু বেড়েছে। পাঞ্জাবির সর্বনিম্ন দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। এগুলোর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। ডিজাইন বা অ্যামব্রয়ডারির পাঞ্জাবির ক্ষেত্রে দাম আরো বেশি।

এ ছাড়া ফ্যাশন হাউসগুলোতে রয়েছে হাফসিল্ক, ব্লেন্ডেড সিল্ক, মেশানো সুতি, জর্জেটের পাঞ্জাবি। তবে এবার জামদানি ও ফুলের নকশায় অনুপ্রাণিত সংগ্রহ ক্রেতাদের নজর কাড়বে বলে আশা করছেন ডিজাইনাররা। পাঞ্জাবির সাথে মিলিয়ে অনেকে কোটিও কিনছেন।

ফ্যাশন ব্র্যান্ড অঞ্জন’স-এর প্রধান নির্বাহী শাহীন আহমেদ বলেন, ‘আগের থেকে এখন ফিটিং পাঞ্জাবি বেশি চলছে। তবে সেটা আঁটসাঁট নয়। পাঞ্জাবির দৈর্ঘ কিছুটা কমেছে। এ ছাড়া আমরা ব্যান্ড কলারই ব্যবহার করেছি। পাঞ্জাবির হাতা ও গলায় এমব্রয়ডারির কাজ এবার বেড়েছে।

এলিফ্যান্ট রোডের দোকানগুলোয় কাপড় ও নকশাভেদে ১ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে পাঞ্জাবি কেনা যাচ্ছে। আর ব্রান্ড সেইলরের পাঞ্জাবি পেতে গুনতে হবে ২ হাজার ৭৫০ থেকে প্রায় ৮ হাজার টাকা। ১ হাজার ৬০০ থেকে ৬ হাজার টাকার ভেতরে পাঞ্জাবি পাওয়া যাবে ‘লা রিভ’-এ।

আড়ঙের পাঞ্জাবির দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। ইলিয়েনের পাঞ্জাবির দাম ৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা। টুয়েলভ ক্লদিং পাঞ্জাবির দাম রাখছে ১ হাজার ৪৯০ থেকে ১৩ হাজার টাকা। ৩ থেকে ৮ হাজার টাকায় এক্সট্যাসির ঈদের পাঞ্জাবি কেনা যাবে।

পাঞ্জাবির বৃহত্তম পাইকারি বাজার পুরান ঢাকার শরীফ মার্কেট। এ মার্কেটের ৪৩২ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রমজান শুরুর আগে থেকেই সারা দেশে একযোগে পাঞ্জাবি সরবরাহে ব্যস্ত সময় ব্যস্ত ছিলেন।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, দেশের মোট পাঞ্জাবির চাহিদার ৮০ শতাংশই সরবরাহ করে থাকে শরীফ মার্কেট। এবার ঈদ উপলক্ষে শরীফ মার্কেট থেকে প্রতিদিন সারা দেশে প্রায় ৭ লাখেরও বেশি পাঞ্জাবি সরবরাহ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ঈদ মার্কেট সামনে রেখে শব-ই-বরাতের আগে থেকে শরীফ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা শুরু করেছেন পাঞ্জাবি তৈরির কাজ। কেরানীগঞ্জসহ ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় এ মার্কেটের পাঞ্জাবি দিনরাত তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া সারা দেশে এ মার্কেটের পাঞ্জাবির চাহিদা থাকায় ব্যবসায়ীরা পাঞ্জাবি তৈরি ও বিপণনেও যথেষ্ট যত্নশীল।

শরীফ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি জানায়, এবার মার্কেটের অধিকাংশ পাইকারি ব্যবসায়ীরই ঈদ উপলক্ষে গড়ে এক লাখ পাঞ্জাবি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। বড় মাপের প্রতিষ্ঠানগুলোর লক্ষ্যমাত্রা আরো বেশি। এবার ঈদ উপলক্ষে এ মার্কেট থেকে প্রতিদিন সারা দেশে ৭/৮ লাখেরও বেশি পাঞ্জাবি সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। এ ধারা ২০ রমজান পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ মার্কেটে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন রঙের ও মানের কাপড়ে তৈরি এবং আধুনিক কারুকার্য শোভিত ছোট, বড় ও মাঝারি আকারের পাঞ্জাবি ও ফতুয়া। ক্রেতাদের চাপের কারণে শরীফ মার্কেট খোলা রাখা হচ্ছে রাত ১২টা পর্যন্ত।

দোকান মালিক সমিতির একজন জানান, অন্যবারের তুলনায় এবার অনেক আগে থেকেই পাঞ্জাবির বাজার জমে উঠেছে। তিনি বলেন, ক্রেতা চাহিদা মাথায় রেখেই পাঞ্জাবিতে আধুনিক ডিজাইন ও উন্নতমানের কাপড় সংযোজন করা হয়েছে।

এদিকে শরীফ মার্কেট ছাড়াও রাজধানীর পীর ইয়ামেনী, মালিবাগ এলাকার আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স, সায়েন্স ল্যাবরেটরিসংলগ্ন মিরপুর ও এলিফ্যান্ট রোডের কয়েকটি মার্কেটে পাঞ্জাবির পাইকারি বিক্রির কথা জানা গেছে। তবে সেগুলো নিতান্তই অল্প এবং এদের অধিকাংশ পাইকারই শরীফ মার্কেটের সাথে সংশ্লিষ্ট। এর বাইরে রাজধানীতে পাঞ্জাবির খুচরা বিক্রির অসংখ্য দোকান রয়েছে। যেগুলোতে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কেনাবেচা চলছে।