স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট যেকোনো সময়
সবার জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় অগ্রাধিকার
Printed Edition
প্রস্তুত স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট। প্রধান উপদেষ্টার অনুমতি পেলে স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন যেকোনো সময় রিপোর্ট জমা দিতে পারবে বলে কমিশনের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন। কমিশন উপদেষ্টা বরাবর মোটা দাগে কিছু সুপারিশ করেছে, সেগুলোর অন্যতম হলো, ‘সবার জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে’। কমিশন এই কথাটি সংবিধানে সন্নিবেশিত করার সুপারিশ করেছে, তাদের রিপোর্টে।
তা ছাড়া অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকায় ৩০০-এর কাছাকাছি বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধের দাম নির্ধারণ করে দেয়ার সুপারিশও করেছে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, দেশের সব বেসরকারি হাসপাতালে ১০ শতাংশ সিট যেন দরিদ্র রোগীদের জন্য বাধ্যতামূলক বরাদ্দ রাখে যেখানে দরিদ্র রোগীরা বিনামূল্যে সেবা পাবেন।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে এখন দুই বিভাগের সাথে আরো একটি বিভাগ যোগ করে তিনটি বিভাগ করার সুপারিশ করেছে কমিশন। বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দুইটি বিভাগ কাজ করছে। এর একটি হলো- স্বাস্থ্যসেবা এবং অপরটি হলো স্বাস্থ্য শিক্ষা। স্বাস্থ্যসেবার আওতায় দেশের হাসপাতাল, জনবল, চিকিৎসকরা রয়েছেন। অন্য দিকে স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ দেখে শুধু স্বাস্থ্য শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো। বর্তমান স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য নামে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তিনটি ভাগে ভাগ করার সুপারিশ করেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই তিনটি বিভাগে তিনজন সিনিয়র সচিব দায়িত্ব পালন করবেন। এই তিনজন সিনিয়র সচিবের কাজ তত্বাবধান করবেন একজন রুখ্যসুচিব।
জানা গেছে, কমিশনের সুপারিশে আরো থাকবে, সরকারকে একটি স্বাস্থ্য কমিশন গঠন করতে হবে, কমিশনের কাজ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক কাজকে ওভারসাইট করা। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা (হেলথ সার্ভিস) নামে একটি স্বতন্ত্র ক্যাডার সার্ভিস গঠন করা হবে। এই সার্ভিসটি জুডিশিয়াল কমিশনের মতো স্বনিয়ন্ত্রিত হবে যেন তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে পারে। চিকিৎসক ও এই মন্ত্রণালয়ে নিয়োগের জন্য একটি স্বতন্ত্র পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সুপারিশ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন এ দেশের সব বিশেষায়িত হাসপাতাল, ইনস্টিটিউট ও মেডিক্যাল কলেজকে স্বায়ত্তশাসন দেয়ার সুপারিশ করেছে। আবার হেলথ সার্ভিসের আওতায় কয়েকটি আঞ্চলিক অধিদফতর করার সুপারিশও করেছে। সুপারিশ অনুযায়ী চিকিৎসক. স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর কথাও বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন চিকিৎসকদের ওষুধের কোম্পানি নামে (ব্র্যান্ড) না লিখে জেনেরিক নামে (ওষুধটির মূল নাম, যা সব কোম্পানির বড় অক্ষরে ওষুধের নামের নিচে সবাই এই নাম ব্যবহার করে) লিখতে বাধ্য করার সুপারিশ করেছেন। এটা এ কারণে সুপারিশ করা হয়েছে যেন, রোগীরা চিকিৎসকের ইচ্ছামতো নয়, তার নিজের ইচ্ছামতো যেকোনো কোম্পানির ওষুধ কিনে খেতে পারেন।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা: এ কে আজাদ খানকে প্রধান করে ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১২ সদস্যের একটি ‘স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হয়। ১২ সদস্যের মধ্যে ১০ জনই দেশের চিকিৎসক, তাদের অনেকেই বিভিন্ন সরকারি দফতরে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ১২ সসদ্যের একজন আমলা এবং একজন মেডিক্যাল কলেজের পঞ্চম বর্ষের ছাত্র। কমিশন ৯০ দিনের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কাছে রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা থাকলেও তারা গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে নেয়। কমিশনের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা রিপোর্ট সম্পূর্ণ করে রেখেছেন। এটা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়কে জানানো হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা সময় দিলে যেকোনো সময় রিপোর্ট জমা দেয়ার প্রস্তুতি তাদের আছে।
রিপোর্ট প্রস্তুত করার আগে কমিশন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত অন্য অংশীজনদের সাথে কথা বলে তাদের মতামত নিয়েছেন। তাদের দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দলের সমর্থিত চিকিৎসক সংগঠন বিএনপির ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), জামায়াতের ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) দায়িত্বশীলদেরও অভিমত নিয়েছেন। এর বাইরে বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদকের অভিমতও নিয়েছেন।