ফাইনালে যেভাবে দেখা হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
১২টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে শুরু হওয়া বিশ্বকাপের ইতোমধ্যে গ্রুপ পর্ব শেষ হয়ে শুরু হয়েছে নকআউট পর্ব। বিশ্বকাপের দাবিদার শক্তিশালী দলগুলোর পাশাপাশি চমক দেখানো কয়েকটি আন্ডারডগও জায়গা করে নিয়েছে শেষ ৩২-এ। নকআউটে গতকাল প্রথম ম্যাচে সহআয়োজক কানাডার প্রতিপক্ষ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। আজ রাত ১১টায় মাঠের লড়াইয়ে এশিয়ার দেশ জাপানের প্রতিপক্ষ রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে দেখার স্বপ্ন দীর্ঘদিনের ফুটবলপ্রেমীদের। এখন পর্যন্ত শেষ হওয়া ২২তম বিশ্বকাপ পর্যন্ত কখনোই একে অপরের মুখোমুখি হয়নি ল্যাটিন এই দুই জায়ান্ট। এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল নিজেদের মধ্যে অসংখ্যবার খেললেও ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে কোনো মহারণ অনুষ্ঠিত হয়নি। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে দল দু’টির মুখোমুখি হওয়ার রেকর্ডগুলো ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮২ ও সর্বশেষ ১৯৯০ সালে। প্রথমবার বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হয়েছিল দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে। যেখানে ব্রাজিল ২-১ গোলে জয়ী হয়েছিল। ১৯৭৮ সালে দ্বিতীয় রাউন্ডে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। ১৯৮২ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে ব্রাজিল ৩-১ ব্যবধানে জিতেছিল। ১৯৯০ সালে এই দুই জায়ান্টের একমাত্র নকআউট লড়াই। শেষ ষোলোর এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়েছিল। কোপা আমেরিকার মতো মহাদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনালে একাধিকবার এই দুই দল লড়াই করলেও ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ভক্তদের সেই স্বপ্নের ফাইনাল দেখার অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি।
বিশ্বকাপের চলমান ২৩তম আসরের রোডম্যাপ অনুযায়ী দুই দলের মুখোমুখি লড়াই একমাত্র ফাইনালেই সম্ভব। সে ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে ব্রাজিলকে। রাউন্ড অব ৩২-এ জাপানকে হারাতে পারলে শেষ ষোলোতে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ আইভরি কোস্ট ও নরওয়ের মধ্যকার লড়াইয়ে জয়ী দল। সেখান থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলে প্রতিপক্ষ হতে পারে মেক্সিকো, ইকুয়েডর, ইংল্যান্ড কিংবা ডিআর কঙ্গো। সেমিফাইনালে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস কিংবা মরক্কোর মতো শক্তিশালী দলের।
সে হিসেবে রাউন্ড অব ৩২-এ অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচ জিতলে শেষ ষোলোতে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হবে অস্ট্রেলিয়া অথবা মিসর। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়া, ঘানা, সুইজারল্যান্ড বা আলজেরিয়ার কোনো এক দলের বিপক্ষে লড়াই হতে পারে। সেমিফাইনালে পৌঁছালে প্রতিপক্ষ হতে পারে স্পেন, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র বা ক্রোয়েশিয়ার মতো ইউরোপীয় শক্তি।
দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ভিন্ন অংশে থাকায় সব ম্যাচ জিততে পারলে দেখা হবে কেবল ফাইনালেই। ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘ দিনের স্বপ্নের ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনাল বাস্তবে রূপ নিতে হলে দুই দলকেই একের পর এক কঠিন বাধা পেরোতে হবে। এখন দেখার বিষয়, নকআউটের চাপ সামলে শেষ পর্যন্ত কে পৌঁছাতে পারে নিউ জার্সির মহারণে।