জার্মানির সামনে অগ্নিপরীক্ষা প্যারাগুয়ের
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার জার্মানি। চলমান আসরে দলটির শুরুটাও ছিল দুর্দান্ত। প্রথম ম্যাচে নবাগত কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দেয়ার পর আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে গ্রুপ ‘ই’-এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে উঠেছে জার্মানি। অন্য দিকে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে প্যারাগুয়ে। শেষ ৩২-এর ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। দুই ভিন্ন ধরনের যাত্রাপথের দুই দল মুখোমুখি হচ্ছে এমন এক ম্যাচে, যেখানে একটিমাত্র ভুলই বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের কারণ হতে পারে। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সময় রাত ২.৩০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন স্টেডিয়ামে।
জুলিয়ান নাগেলসম্যানের জার্মানি টুর্নামেন্টে শুরুর ম্যাচে কুরাসাওকে হারানোর পর আইভরি কোস্টকে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে তারা। তবে শেষ গ্রুপ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে ২-১ গোলে হেরে কিছুটা ধাক্কা খায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেই হার তাদের টানা ১১ ম্যাচের অপরাজিত থাকার রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে এবং শিরোপার দাবিদার হিসেবে দলটির ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
জার্মানির সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আক্রমণভাগ। সৃজনশীল ফুটবলে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে সক্ষম তরুণ তারকা ফ্লোরিয়ান ভির্টজ ও জামাল মুসিয়ালা। পাশাপাশি কাই হাভার্টজ, লেরয় সানেও বদলি হিসেবে দারুণ কার্যকর। বদলি হিসেবে নেমে যেকোনো সময় ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন ডেনিজ উনদাভ। তবে শেষ ম্যাচে আক্রমণভাগের নিষ্প্রভতায় নকআউটের ম্যাচের আগে নতুন পরিকল্পনা করতে বাধ্য করতে পারে নাগেলসমানকে।
প্যারাগুয়ের যাত্রা ছিল অনেক বেশি সংগ্রামের। প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারলেও পরে তারা দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। তুরস্ককে হারানো এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ড্রয়ে নকআউট নিশ্চিত করে। দলটির বড় শক্তি তাদের রক্ষণ, শারীরিক সক্ষমতা এবং পাল্টা আক্রমণ। কোচ গুস্তাভো আলফারো দায়িত্ব নেয়ার পর দলটি আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে এবং কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও লড়াই করার মানসিকতা তৈরি করেছে। প্যারাগুয়ের গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার দিয়েগো গোমেজ ও ডিফেন্ডার ওমার আলদারেতে ইনজুরি ও নিষেধাজ্ঞার কারণে এই ম্যাচে অনিশ্চিত। তবে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফিরছেন মিগুয়েল আলমিরন।
দুই দলের অতীত বিশ্বকাপ ইতিহাসও এই লড়াইকে বাড়তি মাত্রা দিচ্ছে। বিশ্বকাপে এর আগে একবারই মুখোমুখি হয়েছিল তারা। ২০০২ সালের শেষ ষোলোতে অলিভার নয়ভিলের শেষ মুহূর্তের গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল জার্মানি। সেই স্মৃতি প্যারাগুয়ের জন্য তিক্ত হলেও এবার তারা ইতিহাস বদলানোর স্বপ্ন দেখছে। অন্য দিকে জার্মানি চাইবে নকআউটে নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে। চাপের দিক থেকেও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর জার্মানির সামনে এবার নিজেদের পুনরায় বিশ্বসেরাদের কাতারে প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ। তাই শেষ ৩২ থেকে বিদায় তাদের জন্য হবে বড় ধাক্কা। প্যারাগুয়ের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। তারা তুলনামূলকভাবে চাপমুক্ত অবস্থায় খেলবে এবং আন্ডারডগ পরিচয় নিয়েই চমক দেখানোর লক্ষ্য দলটির।
জার্মানিই স্পষ্ট ফেবারিট হলেও নকআউট ফুটবলে একটি ভুল কিংবা একটি সফল পাল্টা আক্রমণই পুরো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। তাই শুরু থেকেই মনোযোগ ধরে রাখা এবং সুযোগ কাজে লাগানো- দুই দলের জন্যই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।