আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক

‘কিছু পেলে আমাকে ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে’

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ, নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য ও পাঁচ দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে পৃথক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ দিকে দুর্নীতির এ অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। রোববার বিকেলে দেয়া ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’

দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ জানান, রোববার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশন এ বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আগে থেকে চলমান অনুসন্ধানের সাথে নতুন অভিযোগগুলোও যাচাই-বাছাই শেষে সংযুক্ত করে অনুসন্ধান করা হবে। এর আগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগে দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছিল।

দুদক সূত্রে জানা যায়, নতুন অভিযোগে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুই বোন জামাই ও ভাগ্নের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে দুবাইয়ে চার হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করে বিলাসবহুল ভিলা কেনা ও ব্যবসায় বিনিয়োগ, সিঙ্গাপুরে তিন হাজার কোটি টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় দুই হাজার কোটি টাকা এবং সুইজারল্যান্ডে দেড় হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। পর্তুগালে জমি কেনার তথ্যও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের ৩৬ জন জেলা প্রশাসক পদায়নে দুই থেকে ১০ কোটি টাকা করে লেনদেন হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেয়ারও অভিযোগ আনা হয়েছে।

গ্রামীণ অবকাঠামো ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাৎ, ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। ঢাকা ওয়াসার এমডি নিয়োগে ১০ কোটি টাকা, এলজিইডির সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগে ৫২ কোটি টাকা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সিইও নিয়োগে ৬৫ কোটি টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগও অভিযোগপত্রে রয়েছে। আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য বরাদ্দ ৪৫৩ কোটি টাকার প্রক্রিয়াও প্রশ্নবিদ্ধ বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, যেখানে তার বাবা ও এপিএসের বিরুদ্ধে ঠিকাদার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ-বদলি ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুদক, যার নেতৃত্বে রয়েছেন উপপরিচালক মো: জাহিদ কালাম। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত নথি তলব করেছে দুদক।

অস্বীকার আসিফ মাহমুদের : এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ‘অভিযোগ বনাম বাস্তবতা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, বিএনপির আমলে হওয়া পদোন্নতি ও বদলির জন্য তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে তাকে নিয়ে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বারবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে নথি চেয়ে তা নিয়মিত সংবাদ তৈরির উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

তবে তিনি বলেন, অনুসন্ধানে প্রকৃত সদিচ্ছা থাকলে তিনি তা স্বাগত জানাবেন এবং সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছেন। সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু নথি দেখিয়ে তিনি বলেন, দুদক চাইলে সেগুলো নিতে পারে, কারণ তার নিজস্ব অনুসন্ধান ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে।