প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করবে প্রতিনিধিদল

সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল নিয়ে হেফাজতের উদ্বেগ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬’ এ মুসলিমদের হেবা (দান) নিয়ে যে নতুন আইনি জটিলতার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে, সে ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এ বিষয়ে হেফাজত আমিরের পক্ষ থেকে হেফাজত নেতৃবৃন্দসহ ইসলামী ফিকাহ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গতকাল রাজধানীর একটি মিলনায়তনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ কথা জানানো হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন, হেফাজত মহাসচিব মাওলানা শায়খ সাজিদুর রহমান, আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসিম উদ্দিন হাটহাজারী, মুফতি আরশাদ রহমানী, মাওলানা আব্দুল আউয়াল নারায়ণগঞ্জ, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, মাওলানা ইকরাম হুসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা খুবাইব বিন তৈয়ব, মুফতি বশিরুল্লাহ, মুফতি কেফায়েত উল্লাহ আজহারী, মাওলানা সালাহউদ্দিন, মুফতি এনামুল হক কাসেমী প্রমুখ।

সভায় ইসলামী শরিয়া বিশেষজ্ঞদের মতামত না নিয়ে, তড়িঘড়ি করে জাতীয় সংসদে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬’ পাস করায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, এই আইন কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক। মুসলিম প্রধান এ দেশে ইসলামী শরিয়াহ বিরোধী কোনো আইন গ্রহণযোগ্য হবে না। এই বিল সংশোধন করতে হবে। সরকারের উচিত ছিল বিলটি সংসদে উত্থাপন করার আগে ইসলামী শরিয়া বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করা। আমরা মনে করি আল্লাহর কিতাব কুরআনের নিজস্ব আইনি কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের মতো করে আইন বানানো শরিয়াহকে অবজ্ঞা করার শামিল।

হেফাজত নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, রাষ্ট্রের আইন প্রণয়নের ক্ষমতাকে আমরা অস্বীকার করি না; কিন্তু মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন ও ধর্মীয় বিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আলেম-ওলামা, ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ ও আইনজ্ঞদের যথাযথ পরামর্শ গ্রহণ করা অপরিহার্য।

আইনমন্ত্রী, চিফ হুইপের সাম্প্রতিক দেয়া বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে হেফাজত নেতৃবৃন্দ বলেন, সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের প্রতি আমাদের পয়গাম হলো আলেম-ওলামাকে উপো না করে তাদের বক্তব্য গুরুত্বের সাথে শুনুন। কোনো বিষয়ে আপত্তি জানানো ব্যক্তিরা আইন পড়েছেন কিনা এমন প্রশ্ন তোলার পরিবর্তে তাদের আপত্তির শরিয়াগত ও আইনগত ভিত্তি যাচাই করাই দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় আচরণ।

আমরা মনে করি, মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন ও শরিয়তসম্মত সম্পত্তি বণ্টন ব্যবস্থার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। হেফাজত নেতারা বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত উপায়ে এই পাস হওয়া বিলের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখব। একই সাথে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, কোনো ধরনের অহেতুক বিরোধে না গিয়ে আলেম-ওলামা ও আইন বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টির গ্রহণযোগ্য সমাধান করুন। হেবা প্রথা ও মুসলিম উত্তরাধিকারীদের অধিকার সুরায় বিতর্কিত বিধান অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধন করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চক্রান্ত থেকে রক্ষা করুন।