ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কেশম দ্বীপের কাছে একটি কনটেইনারবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে বিস্ফোরক বস্তুর আঘাতে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন।
কেশমের গভর্নর হোসেইন আমিরতেইমৌরি ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিমকে জানান, গতকাল রোববার স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে হেঙ্গাম দ্বীপ ও শিব দেরাজ গ্রামের কাছাকাছি জলসীমায় জাহাজটিতে একটি বিস্ফোরক বস্তু আঘাতে হানে। তিনি দাবি করেন, ‘আমেরিকান-জায়নবাদী শত্রু’র ছোড়া বিস্ফোরক বস্তুই জাহাজটি আক্রান্ত হয়েছে। এতে একজন নিহত এবং চারজন আহত হন। গভর্নর জানান, আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তদন্ত শেষে আরো তথ্য জানানো হবে। এর আগে শনিবার কেশম দ্বীপের উপকূলে সমুদ্রের দিক থেকে দু’টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছিল। তবে ওই বিস্ফোরণের সাথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।
এদিকে, পৃথকভাবে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, রোববার হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী একটি জাহাজ অজ্ঞাত অস্ত্রের আঘাতে আক্রান্ত হয়েছে। তবে ওই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
তেল সরবরাহে বাড়ছে শঙ্কা
নতুন করে চালানো হামলায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে। শনিবার সৌদি আরব জানিয়েছে, ড্রোন হামলার পর পূর্ব সতর্কতা হিসেবে তারা পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে রেখেছে। ওই ড্রোন হামলাটি ইরাক থেকে চালানো হয়েছে বলে বাগদাদ ও রিয়াদ উভয়েই জানিয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের ব্যারেল প্রতি মূল্য ইতোমধ্যে ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে হামলা-পাল্টা হামলা চলতে থাকায় এ দাম আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা যুদ্ধের কারণে গত ছয় মাস ধরে হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। এ সময়জুড়ে বিশ্বে পশ্চিম এশিয়ার তেল সরবরাহের প্রধান রুট হিসেবে কাজ করেছে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন। এটি প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল আরব উপদ্বীপের পূর্ব পাশ থেকে ১২০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে পশ্চিম পাশের লোহিত সাগরের উপকূলীয় বন্দরে নিয়ে গেছে। তেলের এই পরিমাণটি বৈশ্বিক সরবরাহের ৪ থেকে ৫ শতাংশ।
ইউরোপেও বেড়েছে পেট্রলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতেও পেট্রলের দাম গড়ে ২৪ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় জ্বালানির দামও দ্রুত বেড়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের সাপ্তাহিক তেলবাজার প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে ২৩ ফেব্রুয়ারি ইইউতে করসহ প্রতি লিটার ইউরো-সুপার ৯৫ পেট্রলের গড় দাম ছিল ১.৬৪ ইউরো। গত ৭ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে দাঁড়ায় ২.০৪ ইউরোতে।
ডিজেলের দাম আরো দ্রুত বেড়েছে। একই সময়ে প্রতি লিটার ডিজেলের গড় দাম ১.৫৯ ইউরো থেকে বেড়ে ২.১১ ইউরোতে পৌঁছেছে, অর্থাৎ প্রায় ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্ঘাত তীব্র হওয়ায় তেল উৎপাদন কেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার আশঙ্কা বেড়েছে। একই সাথে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি পরিবহন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সঙ্ঘাত বাড়ার সাথে সাথে সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। এর প্রভাব ইউরোপের খুচরা জ্বালানি বাজারেও পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে ডিজেলের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কম থাকায় পেট্রলের চেয়ে ডিজেলের দাম বেশি হারে বেড়েছে।
ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে পেট্রলের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডে। ডেনমার্কে পেট্রলের দাম প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি লিটার ১.৯৪ থেকে ২.৬৩ ইউরো হয়েছে। ফিনল্যান্ডে দাম প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়ে ১.৭১ থেকে ২.৩২ ইউরো হয়েছে।
হরমুজ খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৭ শর্ত
হরমুজ প্রণালী আবার খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাতটি শর্ত দিয়েছে ইরান। সেইসাথে সব শর্ত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগত এই নৌপথটি বন্ধই থাকবে বলে জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের গণমাধ্যমগুলো আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনের পর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে এসব শর্ত পাঠানো হয়েছে। সূত্রগুলো আরো বলেছে, সম্প্রতি ইরান ও ওমানের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, সেটিকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাবে না। প্রণালীটি কবে খুলবে, তা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ এবং ইরানের মূল্যায়নের ওপর।
দিল্লিতে ইরান-আমিরাত বৈঠক
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সঙ্ঘাত ও বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যেই ভারতের নয়াদিল্লিতে বৈঠক করেছেন ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতারা।
ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি জোটের যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রথম বৈঠক।
এনডিটিভি লিখেছে, ভারতের মধ্যস্থতায় এই বৈঠক আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ের পাশাপাশি ‘উত্তেজনা প্রশমন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টাকে সমর্থন করার গুরুত্ব’ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। নয়াদিল্লিতে ইরানের দূতাবাসও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে দুই নেতার একটি ছবি প্রকাশ করেছে।
সৌদি হামলায় ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই : পেজেশকিয়ান
এদিকে সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গতকাল রোববার আলজাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, সৌদি আরবের সাথে আমরা যুদ্ধ করছি না। হুথিদের সাথে সৌদির নিজস্ব ইস্যু আছে। আমি বারবার বলেছি, এই অঞ্চলের সব দেশের উচিত একসাথে আলোচনায় বসা এবং এখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের একে অপরের বিরুদ্ধে দ্বন্দ্বে জড়ানোর কোনো কারণ নেই।
এদিকে ইয়েমেনের লোহিত সাগর তীরবর্তী বন্দরনগরী মোখা দখল করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। তাদের এই জয় নিয়ে ইরানের রাজনৈতিক মহল ও সংবাদমাধ্যমে উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। অনেকে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের জয় হিসেবেও দেখছেন।
ওমানে হরমুজের নতুন নৌপথ নিয়ে আলোচনা
হরমুজ ইস্যুতে ওমানের সাথে চুক্তি হলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি আবার খুলে দেয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে মাস্কাটের সাথে চুক্তি হওয়া অর্থ এই নয়, সমুদ্রপথটি খুলে দেয়া হচ্ছে। ‘আল-আরাবি আল-জাদিদ’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাকচি জানান, ওমানে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী বৈঠকে হরমুজ প্রণালীর নতুন নৌপথ ঘিরে মূল আলোচনা হবে। ওমান সালতানাতের সাথে হওয়া এই চুক্তিকে কোনোভাবেই সমুদ্রপথটিকে খুলে দেয়ার ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। তিনি আরো জানান, মাস্কাটের সাথে হওয়া চুক্তির বিস্তারিত বিষয় এবং নতুন নৌপথ সংক্রান্ত মানচিত্র সম্পর্কে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে অবহিত করা হবে। আরাকচি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর আওতায় তাদের প্রতিশ্রুতিতে ফিরে আসতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওমানের এই আলোচনা আঞ্চলিক দেশগুলোর উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে ভবিষ্যতে আরো আলোচনার পথ প্রশস্ত করবে। এই কূটনৈতিক জোর দিয়ে বলেন, ইরান বিশ্বাস করে, আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেরাই তাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য দায়ী। আর টেকসই নিরাপত্তা তখনই অর্জন করা সম্ভব, যখন এই অঞ্চলের দেশগুলো কোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই অভিন্ন বিষয়গুলোতে পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে।
আরাকচি স্পষ্ট করেন, ওমানের এই বৈঠকের লক্ষ্য কোনো নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা নয়; তবে তিনি এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেন, যা পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করতে পারে।
ইয়েমেন প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তেহরান বিশ্বাস করে এই সঙ্ঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই এবং আরব দেশটির ভবিষ্যৎ ইয়েমেনের জনগণকেই আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। আরাকচি হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড ও অবৈধ হস্তক্ষেপকে দায়ী করেন বলেন, এই জলপথে নিরাপত্তার অভাবের পেছনে ওয়াশিংটনের আচরণই প্রধান কারণ। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, হরমুজ দিয়ে নৌচলাচলের একটি কাঠামো বা রূপরেখা নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাকে সেই ব্যবস্থার বিষয়ে অবহিত করতে আজ ওমানে আঞ্চলিক আরব রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসবেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের আগ্রাসন ও হামলা বন্ধ করে, তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই নৌপথ উন্মুক্ত থাকবে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সহযোগিতা করতে ইরান প্রস্তুত।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়িও জানিয়েছেন, এই আঞ্চলিক বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে; এতে ইরান, ইরাক এবং পারস্য উপসাগরীয় উপকূলবর্তী অন্যান্য রাষ্ট্র অংশ নেবে। তিনি জানান, অংশগ্রহণকারীরা আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ পথ তৈরির বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনার ফলাফল নিয়েও আলোচনা করবেন। বাকায়ি জোর দিয়ে বলেন, যদিও ইরান এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড এবং নৌ-অবরোধ ও অর্থনৈতিক যুদ্ধসহ অন্যান্য অবৈধ হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে সেই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব নয়।