স্কটিশদের উড়িয়ে নকআউট পর্বে ব্রাজিল
Printed Edition
ব্রাজিল ৩-০ স্কটল্যান্ড, ভিনিসিয়াস (২), কুনহা (১)
ক্রীড়া প্রতিবেদক
মায়ামির রাতটা যেন রূপ নিয়েছিল ছোট্ট এক রিও ডি জেনেইরোতে। গ্যালারি-জুড়ে হলুদ জার্সির ঢেউ, ড্রামের তালে তালে সাম্বার ছন্দ, আর মাঠে ব্রাজিলের শিল্পময় ফুটবল। সেই উৎসবের কেন্দ্রে ছিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তার জোড়া গোলে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব শেষ করল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষে থেকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। অন্য দিকে পরাজিত স্কটল্যান্ডকে এখন তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের দিকে। আর ব্রাজিল? তারা যেন ধীরে ধীরে জানিয়ে দিচ্ছে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্নটা মোটেও কল্পনা নয়।
তবে স্কোরলাইনের বাইরে সবচেয়ে বড় আনন্দের মুহূর্ত ছিল নেইমারের প্রত্যাবর্তন। তার ফেরার গল্পে রঙ ছড়ালেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র! দীর্ঘ দুই বছর আট মাস পর জাতীয় দলে ফিরলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার, আর সেই ম্যাচেই ভিনিসিয়াসের জোড়া গোল ও কুনহার এক গোলে জয় পেল সেলেকাওরা। সান্তোস তারকা চোট ও পুনর্বাসনের কঠিন সময় পেরিয়ে এই প্রত্যাবর্তন ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য ছিল বড় স্বস্তির খবর।
মায়ামি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই স্কটল্যান্ডের রণভাগের দুর্বলতা কাজে লাগাতে থাকে ব্রাজিল। সপ্তম মিনিটে স্কট ম্যাককেনার ভুল পাস থেকে বল পেয়ে গোলরক অ্যাঙ্গাস গানকে কাটিয়ে প্রথম গোলটি করেন ভিনিসিয়াস। এই গোলে ব্রাজিল শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় (১-০)। স্কটল্যান্ড অবশ্য দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। বলের দখলে এগিয়ে থেকেও তারা আক্রমণভাগে কার্যকর হতে পারেনি। উল্টো নিজেদের রণ সামলাতেই বারবার হিমশিম খেতে হয়েছে তাদের।
২২তম মিনিটে দ্বিতীয়বার বল জালে পাঠিয়েছিলেন ভিনিসিয়াস। তবে ভিএআর পর্যালোচনায় ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবুও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে তিনি নিজের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেন। ডান দিক থেকে ভেসে আসা ক্রসে দারুণ হেডে স্কটিশদের জালে বল জড়িয়ে ব্রাজিলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই ফরোয়ার্ড।
ব্রাজিলের প্রথম গোলটিতে অ্যাসিস্ট করে নজর কাড়েন তরুণ রায়ান। ১৯ বছর ৩২৫ দিন বয়সে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে অ্যাসিস্ট করা অন্যতম কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে রেকর্ড গড়েন তিনি। পাশাপাশি ১৯৭০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল একাদশে সুযোগ পাওয়া ব্রাজিলের প্রথম কিশোর খেলোয়াড় হিসেবেও নাম লেখান রায়ান।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে কুনহার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে আসে ব্রাজিলের তৃতীয় গোল। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তার তৃতীয় গোল (৩-০)। এরপর আর কোনো গোল না হলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের কাছেই রাখে ব্রাজিল।
নেইমারের প্রত্যাবর্তন, ভিনিসিয়াসের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং কুনহার গোল-সব মিলিয়ে স্মরণীয় এক রাতে বড় জয় তুলে নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এ দিকে একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে গ্রুপ রানার্স আপ হয়ে নকআউট পর্বে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো। তাদের পয়েন্টও ব্রাজিলের সমান ৭ হলেও গোল ব্যবধানে তারা পিছিয়ে পড়ে।