গাজা পরিচালনা বোর্ডকে ব্যাপক আইনি দায়মুক্তির পরিকল্পনা
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
গাজা উপত্যকার প্রশাসন পরিচালনার জন্য গঠিত শান্তি বোর্ড নিজেদের এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ব্যাপক আইনি দায়মুক্তি দেয়ার পরিকল্পনা করছে বলে একটি ফাঁস হওয়া খসড়া প্রস্তাবে জানা গেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। খসড়া অনুযায়ী, বোর্ডের সদস্য, উচ্চ প্রতিনিধির কার্যালয়, আন্তর্জাতিক বাহিনী, ফিলিস্তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে গাজায় কোনো ধরনের গ্রেফতার, আটক বা আইনি মামলা করা যাবে না। একই সাথে বোর্ডকে গাজার সরকারি ভবন ও স্থাপনা বিনামূল্যে ব্যবহারের অধিকার দেয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। খসড়ায় আরো বলা হয়েছে, বোর্ডের চেয়ারম্যান ডোনাল্ড ট্রাম্প সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন সাপেক্ষে কারো দায়মুক্তি প্রত্যাহার করতে পারবেন। তবে বোর্ডের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এমন কোনো চূড়ান্ত দায়মুক্তির কাঠামো এখনো অনুমোদিত হয়নি এবং আইনের ঊর্ধ্বে থাকার অভিযোগ সঠিক নয়।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রস্তাব কার্যকর হলে গাজায় বোর্ড, বিদেশী সেনা বা ঠিকাদারদের কর্মকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতি, প্রাণহানি বা সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাদের মতে, এতে কার্যত একটি স্বতন্ত্র আইনি ব্যবস্থা তৈরি হবে, যেখানে বাইরের কোনো আদালত বা আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকর নজরদারি থাকবে না।
খসড়ার আরেকটি বিতর্কিত অংশে বোর্ডকে গাজার সরকারি সম্পত্তি ও স্থাপনা বিনা মূল্যে ব্যবহারের সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এটি ফিলিস্তিনিদের জমি ও সম্পত্তি অধিগ্রহণের পথ খুলে দিতে পারে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।
‘ভয় ও যন্ত্রণায়’ গাজার শিশুদের জীবন
ইসরাইলি হামলায় গাজার হাজারো শিশু পরিবার হারিয়ে চরম মানবিক সঙ্কটের মুখে পড়েছে। আলজাজিরা জানায়, সাত বছর বয়সী হালা লুব্বাদ তার বাবা-মা ও দুই ভাইবোনকে হারিয়ে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় আল-শিফা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, তার হাতের আঙুল রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। তবে হালাকে এখনো জানানো হয়নি যে তার বাবা-মা আর বেঁচে নেই; প্রতিদিনই সে তাদের খোঁজ করছে।