হাসারাঙ্গার অভাব কি ঘোচাতে পারবে শ্রীলঙ্কা

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

লঙ্কান বোলিং লাইনের প্রাণ ভোমরা ছিলেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। তাকে নিয়েই প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জিতেছিল তারা। তবে আজ এই স্পিনারকে পাচ্ছে না শ্রীলঙ্কা। কারণ আইরিশদের বিপক্ষে জয়ের পর হ্যামেস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ে দল থেকে ছিটকে গেছেন হাসারাঙ্গা। ফলে আজ তাকে ছাড়াই ওমানের বিপক্ষে খেলতে হচ্ছে টি-২০ বিশ^কাপের সাবেক চ্যাম্পিয়নদের। এখন প্রশ্ন হাসারাঙ্গার অভাব কি ঘোচাতে পারবে দ্বীপ রাষ্ট্রটি। আজ পাল্লেকেলেতে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে এগারোটায় শুরু হবে এই ম্যাচ।

এবারের টি-২০ বিশ^কাপের যৌথ স্বাগতিকরা প্রথম ম্যাচে জয়ের দেখা পেলেও ওমান হেরেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। মাত্র ১০৩ রানে গুটিয়ে যাওয়া দলটির এই স্কোর ৮ উইকেট হাতে রেখে টপকে যায় জিম্বাবুয়ে। শ্রীলঙ্কা অবশ্য আইরিশদের ভুলের খেসারতে জিততে পেরেছিল ২০ রানে। ওই ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের ফিল্ডাররা ৭টি ক্যাচ ছেড়েছিল। আর শেষ ৪ ওভারে ৫৯ রান দিয়েছিল তাদের বোলাররা। সেই ম্যাচে ২৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে জিততে সহায়তা করেছিলেন হাসারাঙ্গা।

ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে বোলিং করেন হাসারাঙ্গা। ঝড়ো গতিতে রান তোলার ক্ষেত্রেও দক্ষ ছিলেন তিনি। এখন তার অনুপস্থিতিতে মাঝের ওভার গুলোতে রান তোলার সুযোগটা কাজে লাগাবে ওমান। যদিও হাসারাঙ্গার বদলে দুশান হেমান্তাকে নিয়েছে লঙ্কা। তিনিও লেগ স্পিনার। তবে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার অতটা উজ্জ্বল নয়। ফলে স্পিনে ভালো করার চাপ বাড়বে মাহেশ থিকসানা ও দুনিথ ওয়াল্লালাগের উপর। পাশাপাশি ওমানের স্পিন অ্যাটাকের বিপক্ষে মিডল ও লোয়ার মিডল অর্ডারে রান তোলার ক্ষেত্রেও সমস্যা হবে। কারণ এই স্থানে ব্যাট করতেন হাসারাঙ্গা। ওমান কিন্তু স্পিন অ্যটাকে ভালো। তাদের শাকিল আহমেদের ঘূর্ণি বল বেকায়দায় ফেলতে পারে স্বাগতিকদের। এ ছাড়া পাল্লেকেলের পিচও স্পিন সহায়ক। ব্যাটিংয়ে পাথুম নিশাঙ্কা এবং কুশাল মেন্ডিস ও কামিন্দু মেন্ডিসরা ভরসা। আইরিশদের বিপক্ষে কুশাল মেন্ডিস অপরাজিত ৫৬ রান করেন। কামিন্দু মেন্ডিস ১৯ বলে ৪৪ এবং পাথুম নিশাঙ্কা ২৩ বলে ২৪ রান তোলেন।

গ্রুপ ‘বি’ এর এই ম্যাচটি ওমানের জন্য ডু অর ডাই। সুপার এইটের আশা টিকিয়ে রাখতে আজ মধ্য প্রাচ্যের এই দেশটিকে জিততেই হবে। এ ক্ষেত্রে তাদের বড় প্রেরণা প্রস্তুতি ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে জয়। সেই ম্যাচে আমির কলিম ৮০ রান করেছিলেন। অবশ্য লঙ্কানদের পেস বোলিং অ্যাটাকও ভয়ের কারণ ওমানিদের জন্য। দুশমান্তা চামেরা এবং মাথিশা পাথিরানাদের পেস বোলিং ঝড় বইয়ে দিতে পারে ওমানের ব্যাটিং লাইনের উপর। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওমানের ব্যাটিং ধ্বসের নেপথ্যে ছিল বিপক্ষ পেস বোলিং। আফ্রিকান দেশটির পেসাররাই মধ্য প্রাচ্যের দেশটির ৯ উইকেট শিকার করেছিল।

আগের ম্যাচে আইরিশদের হারানোটা শ্রীলঙ্কার জন্য স্বস্তিরও। কারণ এর আগের পাঁচ ম্যাচের তিনটিতে হেরেছে তারা। জয় দুটিতে। অবশ্য বিপরীতে ওমান বিশ^কাপের আগে ৫ ম্যাচের তিনটিতে জিতেছে। হার অপর দুই ম্যাচে।

পাল্লেকেলের মাঠ অবশ্য লঙ্কানদের পক্ষে কথা বলছে না। এই স্টেডিয়ামে ২৪ ম্যাচের ১১টিতে হেরেছে তারা। জয় ১০টিতে। এই মাঠে গত পাঁচ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয়ের মুখ দেখে তারা। টি-২০তে এ পর্যন্ত টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে একটি মাত্র জয় ওমানের। তা হয়েছিল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৯ সালে। আজ তারা যদি শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারে তাহলে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে প্রথম জয় পাওয়ার রেকর্ড গড়বে।