যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যাচাই করে দেখতে পারে : আরাকচি

Printed Edition
Int-3
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। চাইলে ওয়াশিংটন ‘যাচাই’ করে দেখতে পারে। তবে ইরান আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনের জবাবে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার হুমকি দেয়ার পর এই মন্তব্য করলেন আরাকচি।

স্থানীয় সময় সোমবার আল জাজিরা আরবিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আরাকচি বলেন, চলমান অস্থিরতার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগের চ্যানেল খোলা রয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার দেশ ‘সব বিকল্পের জন্য প্রস্তুত’ এবং দাবি করেন, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় এখন ইরানের ‘ব্যাপক ও বিস্তৃত সামরিক প্রস্তুতি’ রয়েছে।

রোববার ট্রাম্পের মন্তব্যের পর এই বক্তব্য এলো ইরানের তরফ থেকে। ইরানজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয় অর্থনৈতিক সঙ্কটকে কেন্দ্র করে, যা পরে আরো বিস্তৃতভাবে কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নেয়। এসব বিক্ষোভ দমনে সরকারের পদক্ষেপের কারণে ইরানের বিরুদ্ধে ‘কঠোর বিকল্প’ বিবেচনার কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যার মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপও রয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য তেহরানের সাথে একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, ‘কিন্তু বৈঠকের আগেই যা ঘটছে, তার কারণে আমাদের হয়তো পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।’ এর জবাবে আরাকচি বলেন, ‘ওয়াশিংটন যদি সামরিক বিকল্প দিয়ে ইরানকে যাচাই করে দেখতে চায়, যা তারা আগেও করেছে, আমরা তার জন্য প্রস্তুত।’ একই সাথে তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘বুদ্ধিমান বিকল্প’ হিসেবে সংলাপই বেছে নেবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘কিছু পক্ষ ওয়াশিংটনকে যুদ্ধে জড়াতে চায়, যাতে ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা হয়।’

সাক্ষাৎকারে আরাকচি ক্রমবর্ধমান প্রাণহানির প্রসঙ্গও তোলেন এবং আগের দাবির পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ‘সন্ত্রাসী উপাদানগুলো’ বিক্ষোভকারীদের ভিড়ে ‘অনুপ্রবেশ করেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।’ গত দুই সপ্তাহের অস্থিরতার জন্য ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করে আসছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ১০০ জনের বেশি নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে বিরোধী কর্মীরা বলছেন, নিহতের সংখ্যা আরো বেশি এবং এতে শত শত বিক্ষোভকারীও অন্তর্ভুক্ত। আলজাজিরা এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

গত বৃহস্পতিবার থেকে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ইরান থেকে তথ্যপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার বলেন, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু করা হবে। নেটব্লকস জানায়, সোমবার পর্যন্ত ইরান টানা ৯৬ ঘণ্টা অফলাইনে ছিল। আরাকচি আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সাথে তার যোগাযোগ ‘বিক্ষোভের আগে ও পরে অব্যাহত ছিল এবং এখনো চলছে।’ তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের সাথে যে ধারণাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেগুলো তেহরানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে তিনি যোগ করেন, ‘ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত ধারণা ও আমাদের দেশের বিরুদ্ধে দেয়া হুমকি পরস্পরের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।’