আর্জেন্টিনায় শ্রম অধিকার সীমিতকরণে বিক্ষোভ
Printed Edition
আলজাজিরা
আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে হাজারো মানুষ শ্রম সংস্কারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। প্রস্তাবিত আইনটি ধর্মঘটের অধিকার সীমিত করবে এবং চাকরির সুবিধা কমাবে। বুধবারের এ বিক্ষোভ হয় যখন দেশটির সিনেটে আইনটি নিয়ে আলোচনা চলছিল। আইনটি সমর্থন করছেন লিবার্টারিয়ান প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার মিলে।
সংস্কারগুলোকে সংগঠিত শ্রমের ক্ষমতা কমানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মিলে দাবি করেছেন, মুক্তবাজার অর্থনীতি গড়তে এ সংস্কার জরুরি। শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বুধবার ব্যাপকভাবে রাস্তায় নেমে আসে। এর ফলে শহরের কেন্দ্রে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়। নিরাপত্তা বাহিনী জলকামান, রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে। অন্য দিকে কিছু বিক্ষোভকারী মলোটভ ককটেল, পাথর ও পানির বোতল ছোড়ে। শ্রমিক ইউনিয়নের জোট জেনারেল কনফেডারেশন অব লেবার এক বিবৃতিতে সংস্কারকে শ্রমিক অধিকার আক্রমণ হিসেবে নিন্দা জানায়।
প্রস্তাবিত আইন ব্যবসায়ীদের কর্মী ছাঁটাই সহজ করবে এবং ক্ষতিপূরণ কমাবে। এ ছাড়া ইউনিয়নের সম্মিলিত দরকষাকষির ক্ষমতাও সীমিত করবে। সংগঠনটি বলেছে, ‘এটি আধুনিকায়ন নয়, শ্রমিকদের জন্য কৃচ্ছ্রসাধন।’ কিন্তু মিলে সরকার বলছে, বিনিয়োগ আকর্ষণে এ পরিবর্তন প্রয়োজন। সিনেটর প্যাট্রিসিয়া বুলরিচ শ্রম ও কর্মসংস্থান বাজারকে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এটি ‘অতিরিক্ত বিচারিক জটিলতায়’ ভুগছে। জাভিয়ার মিলে ২০২৩ সালের নির্বাচনে অপ্রত্যাশিতভাবে জয়ী হন। তীব্র মুদ্রাস্ফীতি ও স্থবির অর্থনীতির মধ্যে তিনি বামপন্থী পেরোনিস্ট আন্দোলনকে হারান। তিনি প্রায়ই প্রচারণায় চেইনসো নিয়ে হাজির হতেন, যা সরকারি ব্যয় কমানো ও নিয়মকানুন বাতিলের প্রতীক ছিল। তার শাসনামলে কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন নীতি নেয়া হয়েছে, যা সমালোচকদের মতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য আরো বাড়াচ্ছে।