খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণেই দেশের অগ্রগতি সম্ভব : রিজভী
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন,অসীম ধৈর্য ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে সঙ্কট মোকাবেলা করে বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের পাশে ছিলেন। তার দেখানো পথ অনুসরণ করলেই দেশ এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, সংবাদপত্রের জগৎ একটি বিশাল জগৎ। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে এই জগতের সাথে যার সম্পর্ক সবচেয়ে গভীর, আদর্শিক ও ব্যক্তিগত তিনি হলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ভিত্তি দৃঢ় হয়।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত
শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, পাকিস্তান আমল থেকে বিভিন্ন সময়েই সংবাদপত্রের ওপর কমবেশি নিয়ন্ত্রণ ছিল। কিন্তু বাকশালের মাধ্যমে যেভাবে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল, তা আর কখনো হয়নি। অনেক মানুষ ও পরিবার সাংবাদিকতা কিংবা লেখালেখির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন তাদের সবকিছু বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেই অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করেন। সংবাদপত্র শিল্প, সাংবাদিকতা, লেখনী ও মুক্তবাক্যের অবাধ প্রবাহ আবার চালু হয়। আর সেই ধারাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যান বেগম খালেদা জিয়া। ফলে সংবাদপত্র ও সাংবাদিক সমাজের সাথে তার গভীর ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে।
রিজভী স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পরপরই তিনি সাংবাদিকদের নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এর জন্য তাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করতে হয়নি। সম্ভবত রমজান মাসের একটি ইফতার মাহফিল ছিল। সাংবাদিকদের কথাতেই তিনি সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আমরা তাকে কাছ থেকে দেখেছি, তার ব্যক্তিত্বের ব্যাপ্তি ছিল বিশাল। তার ইন্তেকালের পর মানুষের যে আবেগ, শোক ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে সমাজের গভীরে তিনি কীভাবে নিজের অবদান রেখে গেছেন।
রিজভী আরো বলেন, তার নামাজে জানাজার দিন মানুষের যে ঢল নেমেছিল, তা কোনোভাবেই সংগঠিত ছিল না। কেউ কাউকে ডাকেনি। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই সাধারণ মানুষ নিজ নিজ তাগিদে রাস্তায় নেমে এসেছিল। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, কেরানি, পানের দোকানদার সব শ্রেণী-পেশার মানুষ অন্তরের টানেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিল।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন এক মহীরুহ। মহীরুহের ছায়ায় আশ্রয় পাওয়া বড় সৌভাগ্যের বিষয়। আমরা এমন এক মহীরুহের ছায়াতলে বসবাস করতাম। আজ সেই ছায়া যেন সরে গেছে। একটি পরিবারে বাবা-মা বৃদ্ধ হলেও তাদের অস্তিত্বই এক ধরনের সাহস দেয়। সেই অভিভাবকত্বের অনুভূতিটাই আজ আমরা হারিয়েছি।
শোকসভায় ডিইউজে সভাপতি মো: শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজের সাবেক সভাপতি কবি আব্দুল হাই সিকদার, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, সাংবাদিক নেতা মুহাম্মদ খায়রুল বাশার, এ কে এম মহসিন, রাশেদুল হক, বাছির জামাল, এরফানুল হক নাহিদ, জাহিদুল ইসলাম রনি, দিদারুল আলম, সাঈদ খান ও নুর উদ্দিন নুরু।
খালেদা জিয়া সাড়ে ৪ দশকের এক অনবদ্য রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান
এদিকে গতকাল দলীয় আরেক কর্মসূচিতে রিজভী বলেছেন, সদ্যপ্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাড়ে চার দশকের এক অনবদ্য রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। তিনি গোটা জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছেন, প্রেরণায় উদ্দীপ্ত করেছেন এবং জাগিয়েছেন। দেশের সবরাজনীতিবিদের পথপ্রদর্শক হিসেবে তিনি ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন। রাজধানীর জিয়া উদ্যানে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় রিজভী বলেন, কিভাবে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের মুখে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে হয়, কি করে জনগণের পাশে থাকতে হয় এবং অনেক দুঃখ, সঙ্কট, চাপ ও হুমকির মুখেও জনগণকে ছেড়ে না যাওয়ার যে দৃষ্টান্ত আছে- তা বেগম খালেদা জিয়া দেখিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া হেঁটে কারাগারে গেলেও সেখান থেকে বের হয়েছিলেন মুমূর্ষু অবস্থায়। কেন তার এমন অবস্থা হলো- এ প্রশ্ন এখন গোটা জাতির। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার কারাগারে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও ঠিকমতো খাবার-দাবার দেয়নি। তাকে তিলে তিলে শেষ করে দেয়ার নানা চক্রান্ত হয়েছে।
রিজভী বলেন, জাতি বেগম খালেদা জিয়ার অসীম জনপ্রিয়তা দেখেছে তার জানাজায়। দেশের ইতিহাসে এর চেয়ে বড় জানাজা আর হয়নি। দেশের আপামর জনগণ চোখের পানি ফেলেছে, তার জন্য দোয়া করেছে- এটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে নানা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করলেও তিনি কখনো প্রতিহিংসামূলক আচরণ বা কোনো বাজে আচরণ করেননি। দেশের সব রাজনীতিবিদের কাছে এটিও উদাহরণ হয়ে থাকবে। বেগম খালেদা জিয়া সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু কখনো অন্যায়ের কাছে আপস করেননি। তার দেখানো পথেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে বলে জনগণ বিশ্বাস করে। খালেদা জিয়ার আদর্শে বিএনপি আজ আরো শক্তিশালী। তার দেখানো পথ ধরে এগিয়ে গেলেই আমরা দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও জাতীয় পতাকার সম্মান অক্ষুণœ রাখতে পারবো।