এএফইডির অনুষ্ঠানে ইসি সানাউল্লাহ
লাইনচ্যুত ট্রেনকে লাইনে ফেরানোর চেষ্টা এই ভোটে
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন লাইনচ্যুত একটি ট্রেনকে আবার লাইনে ফিরিয়ে এনে চালু করার মতো উদ্যোগ। ন্যূনতম মেরামত ও কিছু যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের মাধ্যমে যদি নির্বাচনব্যবস্থাকে সচল করা যায়, সেটাকেই বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হবে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনজিও ব্যুরো কার্যালয়ে ৮১টি সংস্থার মোর্চা অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসির (এএফইডি) একটি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এএফইডির কো-চেয়ার অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, ডেমোক্র্যাসি ওয়াচের চেয়ারপারসন তালেয়া রেহমান, ইইউ প্রকল্প পরিচালক আনাস্তাসিয়া এস উইবাওয়া, সুইস চার্জ দি অ্যাফেয়ার্স দিপক এলমার, ইইউ পলিটিক্যাল অফিসার সিবাস্তিয়ান রিগার ব্রোন, এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক এম দাউদ মিয়া, সংগঠনের কো-চেয়ার রফিকুল ইসলাম খোকন। প্রকল্পের ওপর তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির সদস্যসচিব হারুন-অর-রশীদ।
নির্বাচনী ব্যবস্থা ও সংস্কারকার্যক্রম প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনকে যদি রূপকভাবে বলি, তাহলে এটি লাইনচ্যুত একটি ট্রেনকে আবার লাইনে ফিরিয়ে এনে চালু করার চেষ্টা। ন্যূনতম রিপেয়ার করে, কিছু যন্ত্রাংশ বদলে অন্তত গতি দেয়ার উদ্যোগ। আমরা যদি এটা করতে পারি, তাহলে এটিই হবে আমাদের প্রথম বড় সাফল্য। তিনি বলেন, তারপরে আমাদের সাবসিকোয়েন্ট ইলেকশনগুলোতে আমাদের আরো উন্নত করতে হবে। কারণ আমাদের প্রত্যাশা তো অনেক এবং যৌক্তিক প্রত্যাশা। কারণ ২০২৬ এ দাঁড়িয়ে আমরা যে প্রত্যাশাগুলো ব্যক্ত করছি যৌক্তিক প্রত্যাশা সেগুলো।
সানাউল্লাহ বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে আমাদের একটা বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। এ কারণে আমরা এখনো বলতে পারি ২০০৮ এর আগে-পরে আছি। এই বাস্তবতায় আমাদের মনে হয় প্রত্যাশার সাথে আমাদের যৌক্তিক প্রত্যাশার একটা সমন্বয় ঘটাতে হবে। তিনি বলেন, সব ক্ষেত্রে এবং ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডি হিসেবে ইলেকশন কমিশন যেমন এই চ্যালেঞ্জগুলো ফেস করছে আমি নিশ্চিত সিটিজেন অবজারভেশনও একই চ্যালেঞ্জ ফেস করছে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সানাউল্লাহ বলেন, পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন কমিশনের তৃতীয় নয়ন। আমরা চাই তাদের পর্যবেক্ষণ মানসম্মত হোক। মৌলিক বিষয়ে যেন কোনো ব্যত্যয় না ঘটে। নীতিমালার মধ্যে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে।
তিনি বলেন, আমি আজকে খুব খুশি হতাম যদি ৮১টা নয়, দুই শ’টা সংস্থা পেতাম। আমাদের কাছে অ্যাপ্লিকেশন করেছিল তিন শতাধিক। তার মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে ৮১টা প্রতিষ্ঠানকে কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা দিতে পেরেছি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।