নয়া দিগন্তে সংবাদ প্রকাশ
আগৈলঝাড়ায় ব্রিজ ভাঙার নির্দেশ
Printed Edition
বি এম রবিউল ইসলাম উজিরপুর (বরিশাল)
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় নির্মাণাধীন একটি আয়রন ব্রিজের ঢালাই কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের ঘটনা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সমাজমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর; প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অনিয়ম ধরা পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ব্রিজটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার রতœপুর ইউনিয়নের দুশুমি-করিমবাজার খালের ওপর নির্মাণাধীন ব্রিজটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী। তিনি অনিয়মের সত্যতা পেয়ে ব্রিজটি অপসারণের নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, রতœপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের রুহুল আমিনের বাড়ির সামনে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ চলছিল। গত মঙ্গলবার ব্রিজের উত্তর প্রান্তে শেষ অংশে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই দেয়া হয়। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা প্রতিবাদ জানালেও কাজ বন্ধ না হওয়ায়; পরে ওই দৃশ্যের ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা নিজ উদ্যোগে এ ঢালাই কাজ করিয়েছেন এবং সেখানে নিয়মবহির্ভূতভাবে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর প্রকৌশলীকে তদন্তে পাঠানো হয় এবং তদন্তে বাঁশ ব্যবহারের সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি জানান, ব্রিজের মূলকাঠামো আগের অর্থবছরে ১ শতাংশ তহবিলের আওতায় নির্মিত হলেও উপরের ঢালাইয়ের জন্য চলতি অর্থবছরে কোনো বরাদ্দ বা অনুমোদন ছিল না। ইউপি সদস্য নিজ উদ্যোগে এলাকাবাসীর সহায়তায় ঢালাই কাজ সম্পন্ন করেন। তিনি আরো বলেন, এভাবে বাঁশ ব্যবহার করায় ব্রিজটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তাই এটি ভেঙে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নতুন করে নির্মাণ করা হবে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজ নির্মাণে একাধিক অনিয়ম হয়েছে। নির্ধারিত ৫৫ ফুটের পরিবর্তে মাত্র ৪৫ ফুট ঢালাই করা হয়েছে। যেখানে ৫ ইঞ্চি পুরু ঢালাই দেওয়ার কথা, সেখানে দেয়া হয়েছে সাড়ে ৩ ইঞ্চি। এ ছাড়া ৮ ইঞ্চি পরপর রড বসানোর নিয়ম থাকলেও তা বসানো হয়েছে প্রায় ১ ফুট পরপর, আর উত্তর প্রান্তে রডের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশের কঞ্চি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের এ ধরনের নির্মাণ শুধু সরকারি অর্থের অপচয়ই নয়, জননিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। দ্রুত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে মানসম্মত নির্মাণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।