মেসি-কার্লোসের মতো গোল আছে আমার

Printed Edition

রফিকুল হায়দার ফরহাদ

চলমান প্যারাগন ডেইরি দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবলে কয়েকটি হ্যাটট্রিক হয়েছে। এর একটি করেছেন গৌরীপুর স্পোর্টিং ক্লাবের শ্রাবণ ইকবাল রোমান। তা আবার রাইট ব্যাক হিসেবে খেলে। তার এই হ্যাটট্রিকটি ছিল বিজি প্রেসের বিপক্ষে। এবারের লিগে এ পর্যন্ত চারটি গোল করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই ফুটবলার। তার অপর গোল ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে। সাধারণত ম্যাচে হ্যাটট্রিক পান স্ট্রাইকাররা। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারদের ভাগ্যেও হ্যাটট্রিক জোটে। তবে ডিফেন্ডার এক ম্যাচে পরপর তিন গোল করবেন এটা কালে-ভদ্রে ঘটে। ডিফেন্ডাররা ফ্রি-কিক বা কর্নারের সময় উপরে উঠে হেডে গিয়ে গোল পান। অনেক সময় ওই সেটপিচ থেকে সৃষ্ট জটলায় শটেও তারা বল জালে পাঠান। তবে রাইট ব্যাক এক ম্যাচে তিন গোল করবেন এটা কালে ভদ্রেই ঘটে। সেই কাজই করেছেন এবারের দ্বিতীয় বিভাগ লিগে রোমান। এরপর জানান, আমার হ্যাটট্রিকের তিন গোলের মধ্যে একটি গোল ছিল লিওনেল মেসির মতো। মেসি যেমন বক্সে কোনা থেকে বাম পায়ে বাঁকানো শটে গোল করেন তেমন গোলও করেছি। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক টুর্নামেন্টে রবার্তো কার্লোসের মতোও গোল করেছিলাম। বলটি বাতাসে বাঁক খেয়ে এরপর দিক পরিবর্তন করে জালে গিয়েছিল।

ঢাকার মাঠে এবারই লিগ খেলতে এলেন রোমান। তবে এর আগেও ঢাকায় ম্যাচ খেলেছেন। যে কমলাপুর বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে খেলছেন সেখানেই তিনি দুই বছর আগে অ্যাকাডেমি কাপ খেলেছেন। ছিলেন চ্যাম্পিয়ন ফিরোজ কামাল ফুটবল অ্যাকাডেমির নিয়মিত সদস্য। সেই আসরের স্মৃতি এখনো মনে ভাসছে রোমানের। জানান, ঢাকায় প্রথম এসেই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। ফিরোজ কামাল অ্যাকাডেমির হয়ে সেই অ্যাকাডেমি কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর কোচ, ম্যানেজার, কর্মকর্তা সবার কাছ থেকেই প্রশংসা পেয়েছি। সবাই বেশ গুরুত্ব দিয়েছিলেন আমাদের।

এরপর এবারের লিগে হ্যাটট্রিক প্রসঙ্গে বলেন, আমি আসলে আশা করিনি যে রাইট ব্যাক হিসেবে হ্যাটট্রিক পাবো। স্রেফই মাঠে আমার দায়িত্ব পালন করেছিলাম। এরপর প্রাপ্ত চান্স কাজে লাগিয়ে গোল করেছি। এতে হ্যাটট্রিকও হয়ে গেছে।

রোমানের বাবা সৌদি প্রবাসী। চাচার হাত ধরেই ফুটবলে আসা। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে ছোট ভাইটি অ্যাকাডেমিতে ফুটবল খেলে। রোমানের প্রিয় খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। আর বাংলাদেশে হামজা চৌধুরী। তার খুব ভালো লাগে ফুটবল ক্যাম্পে থাকার সয়মটা। কারণ তখন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ফুটবলাররা এক পরিবার হিসেবে ক্যাম্পে ওঠে। তাদের সাথে সময়টা বেশ ভালো কাটে। দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবলেই আটকে থাকতে চান না রোমান। জানান, অন্য সবার মতোই আমি খেলতে চাই জাতীয় দলে। লাল-সবুজ জার্সিতে মাতাতে চাই মাঠ- সাফল্য এনে দিতে চাই দেশকে।’