গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ দ্রুত বাস্তবায়নে ট্রাম্পের আশাবাদ

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা শান্তি পরিকল্পনার ‘দ্বিতীয় ধাপ’ দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। একই সাথে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস যদি দ্রুত অস্ত্র সমর্পণ না করে, তবে তাদের ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে। সোমবার ফ্লোরিডায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ২০ দফার গাজা শান্তি পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, যা বাস্তবায়ন ছাড়া স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়। খবর বিবিসির। ট্রাম্প বলেন, আমরা যত দ্রুত সম্ভব দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন করতে চাই। তবে এর জন্য অবশ্যই হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে। তারা এ বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। এখন যদি তা না করে, তা হলে তাদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের অস্ত্র ছেড়ে দিতে হবে। গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলেও ট্রাম্প দাবি করেন, শান্তি পরিকল্পনার শর্তগুলো ইসরাইল ‘শতভাগ মেনে চলছে’। গাজা পরিস্থিতির পাশাপাশি ইরান নিয়েও কড়া বার্তা দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান যদি পুনরায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করার চেষ্টা করে, তা হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে আবারো বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে। ট্রাম্প দাবি করেন, গত জুনে মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘বিধ্বস্ত’ হয়েছে। বর্তমানে ইরান নতুন কোনো স্থানে কার্যক্রম চালাচ্ছে কি না, তা যুক্তরাষ্ট্র নজরদারিতে রেখেছে বলে জানান তিনি।

গত অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে গাজায় একটি কারিগরি (টেকনোক্র্যাট) সরকার গঠন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। এর পর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠন শুরু হওয়ার কথা। তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৪১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্য দিকে, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই তারা হামলা চালিয়েছে। এ সময় তাদের তিনজন সেনা নিহত হয়েছে। বৈঠকে সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিও আলোচনায় আসে। গত বছর বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় আসা নতুন প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট ভালো করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন। উল্লেখ্য, গত জুনে সিরিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প।

পশ্চিম তীর ইস্যুতে ইসরাইলের সাথে মতানৈক্য স্বীকার : ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর নিয়ে এখনো পূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। তবে শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ফ্লোরিডায় বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘পশ্চিম তীর নিয়ে ইসরাইলের সাথে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। তবে আমি বলব না আমরা শতভাগ একমত, কিন্তু একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।’ খবর আনাদোলু এজেন্সির।

পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে মন্তব্য এবং এ বিষয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কোনো বার্তা দিয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ট্রাম্প আরো বলেন, ‘উপযুক্ত সময়ে সিদ্ধান্তের বিষয়টি ঘোষণা করা হবে। আমরা সঠিক কাজটাই করতে চাইছি।’ এ সময় নেতানিয়াহু তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন।

গাজায় শীতজনিত দুর্ভোগে আরো এক শিশুর মৃত্যু : গাজায় তীব্র শীতের কারণে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ইসরাইলি অবরোধের ফলে পর্যাপ্ত আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে না পারায় উপত্যকাজুড়ে মানবিক সঙ্কট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাত্র দুই মাস বয়সী আরকান ফরাস মুসলেহ নামের এক শিশু তীব্র ঠাণ্ডায় মারা গেছে। চলতি ডিসেম্বরের শুরু থেকে শীতজনিত কারণে গাজায় এটি শিশু মৃত্যুর তৃতীয় ঘটনা। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

গাজা সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিকূল আবহাওয়ায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন শিশু রয়েছে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি বৃষ্টির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় এই প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে। সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, সাম্প্রতিক ঝড়ো হাওয়ায় গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ তাঁবু উপড়ে গেছে অথবা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে খোলা আকাশের নিচে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত পরিবার। ইসরাইলি হামলায় আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি ভবন এই বৈরী আবহাওয়ায় পুরোপুরি ধসে পড়েছে। এ ছাড়াও শতাধিক ভবনের একাংশ ভেঙে পড়েছে।

কাসসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু ওবায়দার মৃত্যুর খবর স্বীকার হামাসের : ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস তাদের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডের দীর্ঘদিনের মুখপাত্র আবু ওবায়দার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। সোমবার বিকেলে এক টেলিভিশন ভাষণে সংগঠনের নতুন মুখপাত্র এ ঘোষণা দেন বলে জানিয়েছে প্রেস টিভি।

প্রচারিত ভিডিও বার্তায় জানানো হয়, গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় আবু ওবায়দা নিহত হয়েছেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে হামলাটি কোথায় বা কখন চালানো হয়েছিল সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ভাষণ চলাকালীন প্রথমবারের মতো আবু ওবায়দার আসল নাম প্রকাশ করে কাসসাম ব্রিগেড। নতুন মুখপাত্র জানান, মরহুম নেতার প্রকৃত নাম ছিল হুজাইফা সামির আল-কাহলুত।

দীর্ঘ দুই দশক ধরে তিনি হামাসের সামরিক শাখার মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সবসময়ই তার মুখমণ্ডল আবৃত থাকত। নতুন মুখপাত্রের পরিচয় গোপন রেখে জানানো হয়, তিনি এখন থেকে ‘আবু ওবায়দা’ নামেই সম্বোধন লাভ করবেন এবং পূর্বসূরির রেখে যাওয়া দায়িত্ব পালন করবেন।

গত ৩১ আগস্ট ইসরাইলি বাহিনী দাবি করেছিল, গাজা শহরের উত্তরাঞ্চলে এক বিমান হামলায় আবু ওবায়দা নিহত হয়েছেন। হামাসের এই বিবৃতির মাধ্যমে সেই খবরের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মিলল। ভাষণে আবু ওবায়দার পাশাপাশি হামাসের আরো কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন গাজায় হামাসের নেতা মোহাম্মদ সিনওয়ার, রাফাহ ব্রিগেডের সাবেক কমান্ডার মুহাম্মদ শাবানা ওরফে আবু আনাস এবং কাসসাম ব্রিগেডের যুদ্ধ ও প্রশাসনিক সহায়তা বিভাগের প্রধান হাকেম আল-ঈসা। নতুন মুখপাত্র তার বক্তব্যে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে চালানো ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’-এর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ইসরাইলের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন এবং আল-আকসা মসজিদের অবমাননার বিরুদ্ধে এটি ছিল এক শক্তিশালী জবাব। শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুতে হামাসের সাংগঠনিক কাঠামো বা লড়াইয়ের মানসিকতা ভেঙে পড়বে না উল্লেখ করে তিনি জানান, দখলদারিত্ব বজায় থাকা পর্যন্ত তারা অস্ত্র ত্যাগ করবেন না এবং প্রয়োজনে নখ দিয়ে হলেও লড়াই চালিয়ে যাবেন। এ ছাড়া গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিন সমর্থকদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

গাজায় ইসরাইলের অব্যাহত হামলা, বন্যায় বিপর্যস্ত বাস্তুচ্যুতরা : ইসরাইলি বাহিনী গাজা উপত্যকাজুড়ে হামলা চালিয়েছে, যা প্রায় প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অংশ হয়ে উঠেছে। ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের মধ্যে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা শীতকালীন ভারী বৃষ্টিতে প্লাবিত ক্যাম্পে তাদের অবশিষ্ট সামান্য সম্পদটুকুও হারাচ্ছেন। গতকাল মঙ্গলবার ইসরাইলি বিমান রাফাহর উত্তরে, খান ইউনুসের পূর্বে, মধ্য গাজার মাঘাজি ক্যাম্পে এবং উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়ায় হামলা চালায়। গাজা সিটি থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খুদারি জানিয়েছেন, দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে গোলাবর্ষণ হয়েছে এবং গাজা সিটির শুজাইয়া এলাকায় একটি পরিবারের তাঁবুর কাছেও হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে প্রায় এক হাজার হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জন্য পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে, কারণ ভারী বৃষ্টি ও ঝড় তাদের অস্থায়ী ক্যাম্প ধ্বংস করে দিয়েছে। গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর থেকে ইসরাইল মোট ৯৬৯ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এতে ৪১৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন এক হাজারের বেশি। খুদারি বলেন, ‘ফিলিস্তিনিরা এখনো আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন। বৃষ্টি চলতে থাকায় পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে।’

সরবরাহের দাবি : সহায়তাকারী সংগঠনগুলো বারবার আহ্বান জানিয়েছে, ইসরাইল যেন সীমাবদ্ধতা তুলে নিয়ে আশ্রয় সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় সরবরাহ গাজায় প্রবেশ করতে দেয়। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো মাসের পর মাস ব্যবহৃত ক্ষতিগ্রস্ত তাঁবুতে বৃষ্টি থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন। খুদারি বলেন, ‘পরিবারগুলো অসহায়, আর ইসরাইল সব ধরনের আশ্রয় সামগ্রী গাজায় প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।’ কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, প্রতিকূল আবহাওয়া নতুন বিপদ ডেকে আনছে। ক্ষতিগ্রস্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্যার পানিকে দূষিত করছে, ফলে রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ছে। ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ে ভবন ধসে পড়ারও আশঙ্কা রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা ধসে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন।

মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর পূর্বে একটি বাস্তুচ্যুত ক্যাম্পে ভারী বৃষ্টিতে তাঁবুগুলো কাদামাটিতে ডুবে গেছে। এতে পরিবারগুলোর সাথে আনা সামান্য জিনিসপত্রও নষ্ট হয়ে গেছে। আলজাজিরার দল তাঁবুর ভেতরে বালিশ, গদি ও বিছানার চাদর কাদামাটিতে ভিজে থাকতে দেখেছে। বাসিন্দা মোহাম্মদ আল-লুহ বলেন, ‘তাঁবু প্লাবিত হয়েছে। আমি পরিবারকে বের করেছি, কিন্তু একটি কম্বল, গদি বা ময়দার ব্যাগও নিতে পারিনি। সন্তানদের সাথে ঘুমানোর বা উষ্ণ রাখার কোনো উপায় নেই।’ আরেকজন হাইথাম আরাফাত বলেন, তিনি ইসরাইলের যুদ্ধে তার ছেলে-মেয়ে ও বাড়ি হারিয়েছেন। এখনো প্রতিকূল আবহাওয়ায় ভুগছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে পালিয়ে এসেছি। এর মানে কি যুদ্ধ শেষ? না, আমরা এখনো কষ্টে আছি। ভারী বৃষ্টির কারণে দুই দিন ঘুমাতে পারিনি।’ ক্যাম্প থেকে আলজাজিরার ইব্রাহিম আল-খালিলি জানান, শীতকালীন ঝড় ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন এক ‘দুর্ভোগের অধ্যায়’ নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, ‘যা তাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয় হওয়ার কথা ছিল, তা এখন প্লাবিত ফাঁদে পরিণত হয়েছে।’