দাগনভুঞায় থামছে না ফসলি জমির মাটি লুট
Printed Edition
দাগনভুঞা (ফেনী) সংবাদদাতা
ফেনীর দাগনভুঞা উপজেলায় ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কাটার তৎপরতা থামছেই না। উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও জরিমানা করলেও প্রভাবশালী মাটি খেকো চক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এতে একদিকে কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে মারাত্মক পরিবেশগত ঝুঁকির মুখে পড়ছে পুরো এলাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গভীর রাত ও ভোরে ড্রেজার ও এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে জমির মাটি কাটা হচ্ছে। প্রশাসনের অভিযানের খবর পেলেই এসব চক্র সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখে। তবে ম্যাজিস্ট্রেট চলে যাওয়ার পরপরই আবার শুরু হয় মাটি লুট। মাটি ব্যবসায়ীদের প্রভাবের কারণে অনেক কৃষক প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। আবার পাশের জমির মাটি কেটে নেয়ায় নিজের জমি ধসে পড়ার আশঙ্কায় অনেকে বাধ্য হয়ে মাটি বিক্রি করছেন।
কৃষিবিদরা বলছেন, জমির উপরিভাগের ৬ থেকে ১০ ইঞ্চির মধ্যেই থাকে প্রধান উর্বরতা শক্তি। এই অংশ নষ্ট হলে কয়েক বছর ধরে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায়। একই সাথে মাটির জৈব উপাদান ধ্বংস হয়ে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া ভারী ট্রাক চলাচলে গ্রামীণ সড়ক ভেঙে পড়ছে এবং গভীর গর্তের কারণে পাশের জমিতে সেচের পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না।
উপজেলার মাতুভুঞা, পৌর এলাকা, রাজাপুর, সিন্দুরপুর ও রামনগর ইউনিয়নে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে চারটি ট্রাক্টর জব্দ ও দুটি এস্কেভেটর অকেজো করা হয়। দক্ষিণ আলীপুর বাগডুবি বাজার এলাকায় একজনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেয়া হয় এবং একাধিক ট্রাক্টর ও এস্কেভেটর জব্দ করা হয়েছে।
দাগনভুঞা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিদুল আলম বলেন, কৃষিজমির মাটি কাটা রোধে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। তবে ইটভাটার অতিরিক্ত চাহিদার কারণে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। জনগণের সচেতনতা ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।