বিমানে পাখির আঘাত, ১৫৪ যাত্রী নিয়ে উড্ডয়নের পর জরুরি অবতরণ

পাইলট ও যাত্রীরা নিরাপদ : ১ বছরে ২০ দুর্ঘটনা

যাত্রীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ অন্য একটি এয়ারক্র্যাফটে যাত্রীদের তুলে দেন। সেটি নির্ধারিত সময়ের ৬ ঘণ্টা পর সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition
Biman

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিঙ্গাপুরগামী ফ্লাইট (বোয়িং-৭৩৭-৮০০) ঢাকা থেকে উড্ডয়নের পরই এর একটি ইঞ্জিন পাখির আঘাতের শিকার হয়েছে। পাইলট বিষয়টি আঁচ করতে পেরে দ্রুত সিঙ্গাপুর যাওয়ার ঝুঁকি না নিয়ে আবার ঢাকার হজরত শাহজালাল রহ: আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান। এর ফলে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় এই ফ্লাইটের পাইলট, কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা।

গতকাল সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গারে নিয়ে প্রকৌশলীরা এয়ারক্র্যাফটটি উড্ডয়ন উপযোগী করার চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে যাত্রীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ অন্য একটি এয়ারক্র্যাফটে যাত্রীদের তুলে দেন। সেটি নির্ধারিত সময়ের ৬ ঘণ্টা পর সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যায়।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনাল সংশ্লিষ্টরা গতকাল নয়া দিগন্তকে অভিযোগ করে বলেন, সিভিল এভিয়েশন অথিরিটির মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের গাফিলতির কারণে মাঝেমধ্যে বার্ডহিটের মতো ঘটনা ঘটছে। এতে বিমান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের মতে, গত এক বছরে অন্তত ২০টির মতো উড়োজাহাজে পাখির আঘাতের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার রাত সোয়া ৭টার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) এ বি এম রওশন কবীর এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, সকাল সোয়া ৮টায় বিমানের ফ্লাইটটি ওড়ার পরই বার্ডহিটের শিকার হয়। এয়ারক্র্যাফটের ইঞ্জিনে সমস্যার বিষয়টি পাইলট টের পান। তিনি সিঙ্গাপুর না গিয়ে দ্রুত ঢাকায় ফিরে জরুরি অবতরণ করান। ঢাকায় নামার পর যাত্রীদের অফলোড করে এয়ারক্র্যাফটটি মেরামত করার জন্য হ্যাঙ্গারে পাঠানো হয়। ওই এয়ারক্র্যাফট সার্ভিসেবল না হওয়ায় অন্য একটি এয়ারক্র্যাফটে ১৫৪ জন যাত্রীকে তুলে দেয়া হয়। সেটি গতকাল শুক্রবার দুপুর পৌনে ২টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে গিয়ে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে সিঙ্গাপুরে অবতরণ করে। রাতেই বার্ডহিটের শিকার এয়ারক্র্যাফটটি সার্ভিসেবল করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরগামী ফ্লাইটটি আকাশে ওড়ে। এয়ারক্র্যাফটে ১৫৪ জন যাত্রী ও সাতজন ক্রু ছিলেন। উড্ডয়নের পরপরই ৮টা ৩৭ মিনিটে একটি ইঞ্জিনে পাখির আঘাত লাগে। এতে একটি ইঞ্জিন প্রায় বিকল হয়ে যেতে থাকে। পাইলট টের পেয়ে সাথে সাথে কন্ট্রোল টাওয়ারের সাথে যোগাযোগ করে ঢাকায় জরুরি অবতণ করানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। যাত্রীদেরও বিষয়টি পাইলট অবহিত করেন।

গতকাল একজন এভিয়েশন এক্সপার্ট নয়া দিগন্তকে বলেন, ঢাকার বিমানবন্দর রানওয়েতে পাখির উৎপাত বেড়ে গেছে। পাখির আঘাতে যেকোনো সময় আবারো ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এই বিষয়টি দেখার দায়িত্ব সিভিল এভিয়েশন অথরিটির। বিমান ম্যানেজমেন্টের উচিত হবে এই সমস্যাটি লিখিতভাবে সিভিল এভিয়েশন অথিরিটিকে জানানো। বার্ডহিটের কারণে যাত্রীরা যেমন ঝুঁকিতে থাকে, তেমনি আর্থিকভাবে বিমানকে ক্ষতির মুখেও পড়তে হয়।

অভিযোগ রয়েছে, গত এক বছরে শুধু ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর রানওয়েতে উড়োজাহাজ উড্ডয়ন অবতরণের সময় ২০টির মতো বার্ডহিটের ঘটনা ঘটেছে। এবিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার কোনো বিকল্প নেই। নতুবা ঘটতে পারে ভারতের হায়দারাবাদ ট্র্যাজেডির মতো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। নিভে যাবে শত শত নিরীহ মানুষের জীবন।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, ভারতের হায়দারাবাদ থেকে লন্ডনগামী (বোয়িং-৭৮৭-৮০০) যে এয়ারক্র্যাফটটি উড্ডয়নের পর পরই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল তার অন্যতম কারণ ছিল বার্ডহিটের ঘটনা। সেটিকে সামনে রেখেই আন্তর্জাতিক এভিয়েশন তদন্ত সংস্থাগুলো অনুসন্ধান চালাচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত জানা যায়নি ওই বিমান দুর্ঘটনার আসল কারণ।

বিষয়সমূহ