নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: ইফতেখার পারভেজ পুইয়ানের বিরুদ্ধে সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত না থাকা শিক্ষা সফরের (ফিল্ড ট্রিপ) বিল উত্তোলন এবং শিক্ষার্থীদের নম্বর পরিবর্তনের (মার্ক টেম্পারিং) অভিযোগ উঠেছে। একই বিভাগের শিক্ষক ও তার স্ত্রী মিম্মা তাবাসসুমের বিরুদ্ধেও নম্বর মূল্যায়ন ও বিভাগে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলোর তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের বর্ষ-২, টার্ম-২-এর শিক্ষা সফরের অনুমতি চেয়ে রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করা হলেও আবেদনপত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট টার্মের পরিবর্তে অন্য টার্মের সিলেবাস সংযুক্ত করা হয়। পরে বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি সিদ্ধান্ত দেয়, সংশ্লিষ্ট টার্মের সিলেবাসে ফিল্ড ট্রিপ না থাকায় এ বাবদ কোনো বিল করা যাবে না।

অভিযোগ রয়েছে, ওই সিদ্ধান্তের পরও সহকারী অধ্যাপক মো: ইফতেখার পারভেজ ১৩ হাজার ৭৪৯ টাকার বিল দাখিল করেন, যা পরে অনুমোদনও পায়।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার তামজীদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, বিভাগীয় চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত আবেদনপত্রের ভিত্তিতেই অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। সংযুক্ত নথি আলাদাভাবে যাচাই করা হয়নি।

তৎকালীন বিভাগীয় চেয়ারম্যান ড. মামুন মিয়া দাবি করেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং তার স্বাক্ষর নকল করা হয়েছে।

অন্যদিকে বর্তমান চেয়ারম্যান ড. নাজমা বেগম জানান, একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি কোনো বিল করেননি।

অভিযোগের বিষয়ে মো: ইফতেখার পারভেজ বলেন, প্রশাসনের অনুমোদন পাওয়ায় তিনি বিল করেছেন। সিলেবাসে ট্যুর না থাকলেও বিল করা যাবে না—এ বিষয়টি তার জানা ছিল না।

এদিকে, প্রতিবেদকের হাতে আসা নথিতে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভাইভা পরীক্ষার নম্বর পরিবর্তনের অভিযোগও উঠে এসেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ভাইভা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন শিক্ষার্থীর নম্বর সংশোধন করা হয়।

এ অভিযোগ অস্বীকার করে মো: ইফতেখার পারভেজ বলেন, পরীক্ষার শুরুতে দেয়া নম্বর পরে পুনর্মূল্যায়নের ভিত্তিতে বাড়ানো হয়েছিল এবং এতে কোনো অনিয়ম হয়নি।

এছাড়া, শিক্ষক মিম্মা তাবাসসুমের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা নম্বর পরিবর্তন, শ্রেণিকক্ষে আক্রমণাত্মক আচরণ ও মানসিক হয়রানিসহ ১০ দফা অভিযোগ লিখিতভাবে জমা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, একই একাডেমিক কমিটিতে শিক্ষক দম্পতি থাকায় মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তাদের মতামতই বেশি প্রাধান্য পায়।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ মে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষা সফরসহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে। কমিটির আহবায়ক করা হয় বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মহিনুজ্জামানকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, তদন্ত কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

২০২২ সাল থেকেই পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে নম্বর মূল্যায়ন ও শিক্ষার্থীদের সাথে আচরণ নিয়ে অভিযোগ ওঠে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সর্বশেষ শিক্ষা সফরের বিল ও নম্বর পরিবর্তনের অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

ভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘কমিটিকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’