প্রেসিডেন্টের ভাষণ নিয়ে অনলাইন জুয়া, তদন্তের মুখে ট্রাম্পের টেলিপ্রম্পটার
Printed Edition
সিএনএন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত টেলিপ্রম্পটার অপারেটর গ্যাব্রিয়েল পেরেজের বিরুদ্ধে আগাম গোপন তথ্য ব্যবহার করে অনলাইন প্রেডিকশন মার্কেটে বাজি ধরার অভিযোগ উঠেছে। প্রেসিডেন্টের ভাষণে কোন কোন শব্দ ব্যবহার করা হবে, তা আগে থেকে জেনে বাজি ধরা বা ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের (অভ্যন্তরীণ তথ্য পাচার) এই গুরুতর অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা কমোডিটি ফিউচার ট্রেডিং কমিশন (সিএফটিসি)। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরপরই ট্রাম্পের নির্দেশে পেরেজকে অবৈতনিক প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠিয়েছে হোয়াইট হাউজ।
প্রেডিকশন মার্কেট বা ভবিষ্যদ্বাণীভিত্তিক অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম কালশির অভ্যন্তরীণ নজরদারি দল প্রথম এই সন্দেহজনক লেনদেনটি শনাক্ত করে। কালশির ‘মেনশন মার্কেটস’ নামে একটি বিশেষ বিভাগে ব্যবহারকারীরা বাজি ধরেন যে, কোনো জনসভায় বা অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো শীর্ষ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ঠিক কোন কোন শব্দ বা বাক্য উচ্চারণ করবেন। পেরেজ তার পদের সুবাদে ট্রাম্পের তৈরি করা ভাষণের খসড়া ও শেষ মুহূর্তের পরিবর্তনগুলো সবার আগে দেখার সুযোগ পেতেন। এই গোপন তথ্যের অপব্যবহার করে তিনি দেশের নাম, অর্থনৈতিক পরিভাষা ও নির্বাচনী স্লোগানের মতো সাধারণ শব্দগুলোর ওপর নিখুঁতভাবে বাজি ধরে বিপুল অর্থ উপার্জন করেন। কালশির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পেরেজ এই বাজি থেকে ৯০ হাজার মার্কিন ডলারেরও বেশি (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় এক কোটি টাকার বেশি) মুনাফা করেছিলেন। তবে অনিয়ম ধরা পড়ার সাথে সাথেই তার অ্যাকাউন্টটি ফ্রিজ করে দেয়া হয়েছে। কালশি কর্তৃপক্ষ সংগৃহীত সমস্ত তথ্য-প্রমাণসহ বিষয়টি মার্কিন সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিএফটিসির কাছে হস্তান্তর করেছে এবং সরকারি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে।
হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত হয়েছেন এবং তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও একটি চরম লজ্জাজনক ঘটনা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি আরো জানান, অভিযুক্ত কর্মচারীকে অবৈতনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং তিনি আর কোনোভাবেই হোয়াইট হাউজে কাজ করতে পারবেন না। হোয়াইট হাউজে কর্মরত স্টাফদের জন্য কঠোর নৈতিক নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও পেরেজ এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসেই হোয়াইট হাউজ থেকে একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশ জারি করে কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছিল। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো ধরনের আর্থিক লাভের জন্য সরকারি অপ্রকাশিত তথ্য নিয়ে প্রেডিকশন মার্কেটে ব্যবহার অপরাধ এবং তা মোটেও সহ্য করা হবে না।
গ্যাব্রিয়েল পেরেজ গত ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সফরসঙ্গী হিসেবে কাজ করছেন। ট্রাম্পের ভাষণ দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি এতটাই অপরিহার্য ছিলেন, ট্রাম্পের আগে জনসমক্ষে তার প্রশংসা করেছিলেন এবং পেরেজ ছাড়া অন্য কেউ তার প্রম্পটার সঠিকভাবে চালাতে পারে না বলেও দাবি করেছিলেন। হোয়াইট হাউজের সর্বোচ্চ বেতনভোগী কর্মীদের মধ্যে একজন পেরেজ। তিনি ‘ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট টু দ্য প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার’ পদে বছরে এক লাখ ৭৫ হাজার ডলার বেতন পেতেন।