দেশের অবস্থা ভালো না বলে বরাদ্দকৃত দোকান নিয়ে গেল বিআরটিসি!

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘দেশের অবস্থা ভালো না’। এই বলে প্রথমে দোকানটির দখল নেয় বিআরটিসির কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী। দেশের অবস্থা ভালো হলে দোকানটি আবারো বরাদ্দপ্রাপ্তকে বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু কয়েক দিন পরেই দোকানের মালিক বরাদ্দ বাতিলের নোটিশ পান। এরপর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দোকান মালিক তাবাসসুম চৌধুরী।

রাজধানীর ফুলবাড়িয়ার সিবিএস-২, ২৮ দোকান প্রকল্পে ১৯৯৫ সালে সাড়ে ৮ লাখ টাকার বিনিময়ে একটি দোকান বরাদ্দ নেন তাবাসসুমের বাবা শফিকুর রহমান চৌধুরী। পরে তার মেয়ে তাবাসসুমের নামে সরকারি সব নিয়ম মেনে তিনি বরাদ্দ হস্তান্তর করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরপরই দোকানটি বিআরটিসির কিছু কর্মকর্তা কর্মচারী দখলে নেয়। বিআরটিসির এস্টেট শাখার কর্মকর্তা কর্মচারীরা দোকান মালিককে মোবাইলে ফোন দিয়ে জানায়, যেহেতু দেশের পরিস্থিতি ভালো না, আপনার দোকানে আসাটা ঝুঁকিপূর্ণ। কয়েক দিন পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দোকানটি বুঝিয়ে দেবে। কয়েক দিন পর অফিসে গেলে দোকান না বুঝিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। ১৯ আগস্ট বরাদ্দ বাতিল করে তাকে একটি চিঠি ধরিয়ে দেয়া হয়। বিআরটিসির এস্টেট শাখা হতে দোকান বাতিলের চিঠিতে ৫৪০টি বাসের জন্য টিকিট কাউন্টার প্রয়োজন, সিবিএস-২ এর জায়গায় ৫৪০টি বাস কাউন্টার করার জন্য কোনো জায়গা নাই- এসব উল্লেখ করে বরাদ্দ বাতিল করা হয়। বিআরটিসির নিজস্ব ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হলেও সেখানে বিভিন্ন বাস কাউন্টারের জন্য ভাড়া দেয়া হয় বলে অনুসন্ধানে দেখা যায়।

৯৫ সালে যখন ১নং দোকানটি বরাদ্দ দেয়া হয় তখন চিঠিতে ওরকম কোনো শর্ত ছিল না। তাবাসসুম জানান, আমার ১নং দোকান হতে প্রতি মাসে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ ৮ হাজার টাকা ভাড়া পেতো। জানামতে উক্ত দোকানের ভাড়া বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের হিসাব বিভাগে জমা হয় না বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ দোকান, মার্কেট, স্থাপনা, বাস ইত্যাদি নিজেরা পরিচালনা করে না, সবকিছু এস্টেট শাখার নিয়ন্ত্রণে চলে। তার নামে বরাদ্দকৃত ১নং দোকানটি বরিশাল ডিপোর নিয়ন্ত্রণে। ১নং দোকানের দরজার সামনে ও দোকানের ওপরে সাইন-বোর্ড ও চেয়ার-টেবিল বসিয়ে বিআরটিসির কর্মচারীরা একাধিক বেসরকারি পরিবহনের কাছে কাউন্টার ভাড়া দিয়েছে। তাবাসসুম জানান, তাদের ৩১ বছরের পুরাতন দোকান দ্বারা তার ও তার পিতার পরিবার জীবিকা নির্বাহ হতো। দোকানটি হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা।