কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে করণীয়
Printed Edition
কোষ্ঠকাঠিন্য বা কনস্টিপেশনের সমস্যায় ভোগেননি, এমন মানুষ মেলা ভার। বর্তমান যুগের অনিয়মিত লাইফস্টাইল, ফাস্টফুড খাওয়ার প্রবণতা এবং পানি কম খাওয়ার অভ্যাসের কারণে এই সমস্যা ঘরে ঘরে জাঁকিয়ে বসেছে। আর কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সবথেকে জনপ্রিয় ঘরোয়া দাওয়াই হলো ইসবগুলের ভুসি। কিন্তু অনেকেই ইসবগুলের স্বাদ বা আঠালো ভাবের জন্য এটি খেতে পছন্দ করেন না।
কী করবেন?
১. কালো কিশমিশের জাদুকরী পানি : কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় কালো কিশমিশ বা ‘ব্ল্যাক রেজিন্স’ অত্যন্ত মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার, যা অন্ত্রের গতিবিধি সচল রাখতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমানোর আগে ১০-১২টি কালো কিশমিশ এক গ্লাস পানিতে ভালো করে ধুয়ে ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে খালি পেটে সেই পানি ফুটিয়ে হালকা গরম অবস্থায় খেয়ে নিন এবং কিশমিশগুলো চিবিয়ে খান। মাত্র কয়েকদিনেই এর সুফল টের পাবেন।
২. ২. ত্রিফলা চূর্ণের প্রাচীন দাওয়াই : আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে আমলকী, হরিতকী ও বহেড়ার মিশ্রণ অর্থাৎ ‘ত্রিফলা’কে পেটের সমস্ত রোগের মহা-ওষুধ বলা হয়েছে। এটি প্রাকৃতিক রেচক বা ল্যাক্সেটিভ হিসেবে কাজ করে এবং বৃহদন্ত্রকে উদ্দীপিত করে মল নিষ্কাশন সহজ করে তোলে। রোজ রাতে খাওয়ার এক ঘণ্টা পর বা ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে এক চা চামচ ত্রিফলা চূর্ণ মিশিয়ে খেয়ে নিন। এটি নিয়মিত সেবনে কোষ্ঠকাঠিন্যের স্থায়ী সমাধান হয়।
৩. ৩. রাতে এক গ্লাস গরম দুধ ও খাঁটি ঘি : শুনতে কিছুটা অদ্ভুত লাগলেও, আয়ুর্বেদ মতে গরম দুধ এবং গরুর খাঁটি ঘিয়ের মিশ্রণ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার অন্যতম সেরা ও দ্রুত কার্যকরী উপায়। ঘি অন্ত্রের দেওয়ালে লুব্রিকেশন বা মসৃণতা সৃষ্টি করে, ফলে জমে থাকা মল সহজেই নির্গত হয়। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস ভালো করে ফোটানো গরম দুধে এক চা চামচ খাঁটি গাওয়া ঘি মিশিয়ে নিন। হালকা গরম থাকতে থাকতেই এটি খেয়ে ঘুমান। সকালে পেট পরিষ্কার হতে বাধ্য।
৪. ৪. পাতিলেবুর রস ও ইষদুষ্ণ পানি : একদম সহজলভ্য এবং ঝটপট কার্যকরী হলো পাতিলেবুর রস। লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড পরিপাকতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে এবং শরীরে জমে থাকা টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস ইষদুষ্ণ (হালকা গরম) পানিতে অর্ধেক পাতিলেবুর রস ও সামান্য বিট লবণ মিশিয়ে খালি পেটে খেয়ে নিন। এটি হজমশক্তি বাড়াতেও দারুণ সাহায্য করে।
৫. এর পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত তিন থেকে চার লিটার পানি খাওয়া বাধ্যতামূলক। ডায়েটে রাখুন পর্যাপ্ত সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল। ইন্টারনেট।