শপথের পর সংসদীয় দলের সভা
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা শপথ নিয়ে সংশয়
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পর সংসদীয় দলের সভা ডেকেছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপি। গতকাল সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, শপথ অনুষ্ঠান শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনে এ সভা হবে। তিনি বলেন, সংসদীয় দলের এ সভায় সংসদ নেতা নির্বাচন হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন ইনশা আল্লাহ।
আজ সকালে সংসদ সদস্যদের শপথের পর বিকেলে সংসদে দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ হবে।
সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেয়ার বিধান রয়েছে। গত শুক্রবার রাতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭টিতে জয়ীদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
বিএনপি ও মিত্রদল ২১২ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্য দিকে জামায়াতে ইসলামী ও মিত্রদল ৭৭ আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন।
ওদিকে গতকাল দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ, এটা যদি কনস্টিটিউশনে (সংবিধান) ধারণ হয়, সে মর্মে অ্যামেন্ডমেন্ট (সংশোধন) হয় এবং সে শপথ পরিচালনার জন্য সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ফরম হয়, কে শপথ পাঠ করাবেন সেটা নির্ধারিত হয়- এতগুলো হয়, তারপরে হলে হতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আজ সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নেবেন। একই সাথে তাদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও আলাদা শপথ নেয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচিতদের দু’টি শপথের বিষয়ে প্রস্তুতিও নিচ্ছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। কিন্তু বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এ শপথ নেবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে। কারণ, দলটি মনে করে, বিদ্যমান সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ বলে কিছু নেই। বিদ্যমান সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে বিভিন্ন পদের শপথের বিষয়ে বলা আছে। সেখানে সংসদ সদস্যদের শপথের কথা আছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের বিষয় নেই।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করা। সকাল ১০টায় সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সাংবিধানিকভাবে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অ্যাভেইলেবল না থাকলে বা অপারগ হলে বা তাদের মনোনীত প্রতিনিধি না থাকলে দ্বিতীয় বিকল্প হচ্ছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। সে হিসেবে সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ হবে। এটা সিইসির সাংবিধানিক এখতিয়ার আছে।
পরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশ পরিচালনায় বিএনপি সরকারের সামনে অনেকগুলো বড় চ্যালেঞ্জ আছে। আমরা চাই ঐক্যবদ্ধভাবে দেশটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতিসহ সব ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে খসরু বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো সব ধ্বংস হয়ে গেছে। এগুলোর বিষয়েও চ্যালেঞ্জ আছে। সুতরাং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। জনগণ যে আস্থা আমাদের ওপর রেখেছে, সে আস্থাটা আমাদের মাথায় থাকবে।