নির্বাচনে অংশ নেবে কি না পুনর্বিবেচনা করবে এনসিপি : আসিফ মাহমুদ
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, আমরা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবো কি না তা পুনর্বিবেচনা করার সময় এসেছে। গত রাতে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ এনে আসিফ মাহমুদ বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দল বা জনগণের যে আস্থা অর্জনের কথা ছিল, তা হারিয়েছে তারা (ইসি)। যদি এভাবে নির্বাচনের কার্যক্রম সামনের দিকে যেতে থাকে, তাহলে আমরা শঙ্কা প্রকাশ করছি যে, বাংলাদেশে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন বাস্তবায়ন করতে পারবে না ইসি।
তিনি বলেন, দল হিসেবে আজকের পর আমরা কোনো ধরনের আস্থা পাচ্ছি না। তাই এই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবো কি না- এ বিষয়ে আমাদের পার্টির রাজনৈতিক পর্ষদে সিদ্ধান্ত নেবো। তবে বিষয়টি অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করব।
তিনি আরো বলেন, আজ (১৮ জানুয়ারি) আপিল শুনানি চলাকালে আইনের বাইরেও চাপ বা আবেগের ভিত্তিতে অনেক রায় দিয়েছে ইসি। এক কথায় পুরো জিনিসটা নাটকের মতো মঞ্চায়িত হয়েছে। এ ছাড়া, প্রায় প্রত্যেক দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিকে ছাড় দিয়েছেন তারা। এমনকি শুনানির একটা পর্যায় শেষ হওয়ার পর বলা হলো সিদ্ধান্ত নিয়ে রায় দেবেন। এ জন্য ১৫ মিনিট সময় দেয়া হলো। অথচ দেড় ঘণ্টায়ও শেষ হয়নি সেই সময়। আর এ সময়টায় যা ঘটেছে তা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য অশনিসঙ্কেত। তারা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠক করার পর রায় দিলেন। তাই আমরা মনে করি এটা এক ধরনের ফ্যাব্রিকেটেড (সাজানো) শুনানির রায় দেয়া হয়েছে।
আসিফ বলেন, আইন লঙ্ঘন করে অনেক বিতর্কিত প্রার্থীকে বৈধতা দেয়া হয়েছে। ঋণখেলাপি হওয়ায় প্রথমে চট্টগ্রামের বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা অবৈধ বা বাতিল হবে বলে একজন কমিশনার জানানোর পর হঠাৎ পাশে একটু কথা বলে তিনি বললেন এটা গ্রহণযোগ্য। তারা ব্যাখ্যা করলেন গ্যারান্টার হিসেবে তাকে দায়মুক্তি দেয়া হলো। তাই এসব বিষয়ে ভবিষ্যতে আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো।
আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সোমবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে দেখা করব। অন্যান্য স্টেকহোল্ডার, জোট শরিক, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সহযোগী ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সহযোগী রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবো- এই নির্বাচনে অংশ নেবো কি না।