রোনালদোদের বিদায় করে কোয়ার্টারে স্পেন

স্পেন ১-০ পর্তুগাল

Printed Edition
khela-1
পর্তুগালের বিপক্ষে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করা মিকেল মেরিনোকে নিয়ে উল্লাস করছেন মিকেল ওয়ায়ারজাবাল ও ফাবিয়ান রুইজ : ইন্টারনেট

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। সেই সাথে ট্রফি জয়ের মিশন অধরাই থেকে গেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। ডালাসে গতকাল ‘আইবেরিয়ান ডার্বি’র শুরুটা হয়েছিল অনেকটা ঠিমেতালে। আক্রমণে সেভাবে আধিপত্য দেখা গেল না দুই দলের কাউকেই। সেভাবে আক্রমণ করতে দেখা যায়নি দুই দলের কাউকে। মাঝের বিরতির পর আরো কমে আসে খেলার গতি। এর মাঝে শেষের দিকে আচমকা এক ঝলকে পর্তুগালের রক্ষণ ভেঙে জালে বল পাঠিয়ে দিলেন বদলি নামা মিকেল মেরিনো। তার একমাত্র গোলেই শেষ পর্যন্ত রোনালদোদের হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ আট নিশ্চিত করল স্পেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে গতকাল শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। পুরো ম্যাচে ৫৬ শতাংশ সময় বল পজিশনে রেখে গোলের জন্য নেয়া ১৫ শটের ছয়টি লক্ষ্যে রেখে একবারই জাল স্পর্শ করে স্পেন। অপরদিকে ১০ শটের তিনটি লক্ষ্যে থাকলেও লা রোজাদের শেষ প্রহরী উনাই সিমনের তেমন পরীক্ষা নিতে পারেনি পর্তুগাল।

ক্লাব ফুটবলে অফুরন্ত সাফল্য পেলেও বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়া হয়নি রোনালদোর। এই মহাতারকা জাতীয় দলের হয়ে একবার জিতেছেন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। কিন্তু পেলেন না সোনালি ট্রফির স্বাদ। এই পরাজয়ে সমাপ্তি ঘটল পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী, রেকর্ড ছয় বিশ্বকাপের গোল করা রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায়েরও।

ডালাসে শুরু হওয়া ম্যাচের ৯ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। দানি ওলমোর থ্রু পাস ধরে গোলরক্ষককে একা পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন চলতি আসরে মোট চারটি গোল করা মিকেল ওয়ারজাবাল। চার মিনিট পর পেদ্রির থেকে বল কেড়ে নিয়ে ব্রুনো ফার্নান্দেজ বাড়ান রোনালদোকে। ডি-বক্সে ঢুকে দুরূহ কোণ থেকে পর্তুগিজ অধিনায়কের নেয়া জোরালো শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন উনাই সিমন। প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের আগে-পরে বেশ কিছুক্ষণ আক্রমণে চাপ ধরে রাখে স্পেন। যদিও দিয়োগো কস্তাকে তেমন পরীক্ষায় ফেলতে পারছিল না তারা।

৩৭ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ভীতি ছড়ায় পর্তুগাল। ডান দিক থেকে নেতোর বাড়ানো ক্রসে হেড করেন জোয়াও ফেলিক্স। বল গোলরক্ষকের কাঁধে লেগে ছয় গজ বক্সের মুখে চলে যায়, কোনোমতে ভলি করার চেষ্টা করেন রোনালদো। শটে গতি না থাকায় ছুটে এসে গ্লাভসবন্দী করেন এই গোলরক্ষক। ৪১ মিনিটে গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল পর্তুগাল। ডান দিক থেকে নুনো মেন্ডিসের জোরালো শটে বল পেদ্রো পেরোর মাথায় লেগে ক্রসবারে প্রতিহত হলে এ যাত্রায় বেঁচে যায় স্পেন। প্রথমার্ধে শেষ পর্যন্ত গোলশূন্যভাবেই মাঠ ছাড়ে দুই দল।

বিরতি থেকে ফেরার পর আক্রমণেই ধার যেন আরো কমে আসে দুই দলেরই। এর মধ্যে ৫৬ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় পর্তুগাল। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন শুরু থেকে দারুণভাবে রক্ষণ সামলানো প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের এই ডিফেন্ডার। দ্বিতীয় পানি পানের বিরতির পরপর গোল করার সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি পর্তুগাল। ব্রুনো ফার্নান্দেজের নেয়া শট পাশের জাল কাঁপালে এবারো এগিয়ে যাওয়া হলো না রোনালদোদের। কিছুক্ষণ পর দানি ওলমোর নেয়া জোরালো শট সøাইড করে জোয়াও নেভেস আটকে দিলে এবার এগিয়ে যাওয়া হয়নি স্পেনের। নির্ধারিত সময় শেষ হলে মনে হচ্ছিল ম্যাচটি গড়াতে যাচ্ছে অতিরিক্ত সময়ে। যোগ করা সময় দেয়া হয় ৬ মিনিটে।

কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময় শুরু হতেই এলোমেলো হয়ে পড়ে ম্যাচের শুরু থেকে দারুণভাবে রক্ষণ সামলানো পর্তুগাল। ডি-বক্সের অনেকটা বাইরে ফ্রি কিক পায় স্পেন। ছোট করে নেয়া ফ্রি কিকের পর সতীর্থদের পা ঘুরে বল পেয়ে দারুণ এক রক্ষণচেরা থ্রু বল বাড়ান ফেরান টরেস। আর ছুটে গিয়ে নিখুঁত শটে ব্যবধান গড়ে দেন বদলী নামা মেরিনো। উল্লাসে মেতে ওঠে স্পেন শিবির।

যোগ করা সময়ের অন্তিম মুহূর্তে ভালো পজিশনে বল পেয়ে হেড করেন বার্নার্দো সিলভা। কিন্তু বল ক্রসবারে ঘেঁষে আশ্রয় নেয় জালের ওপরে। একটু পরেই বাজে শেষের বাঁশি। শুরু হয় স্পেনের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার উদযাপন। আর অন্যপাশে আরেকবার ব্যর্থতার গল্প লিখে হতাশায় নুইয়ে পড়ে পর্তুগিজ শিবির।

ক্যামেরার চোখে ধরা পড়ে রোনালদোর অশ্রুসিক্ত চোখ। বারবার চেষ্টা করেও না পাওয়ার বেদনা নিয়ে থেমে গেল ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ যাত্রা।