তিন স্বাগতিকের বিদায়
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিরল এক অধ্যায়ের সাক্ষী ফুটবল বিশ্ব। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শুরুটা ছিল ব্যতিক্রমী। প্রথমবারের মতো মেগা আসরের আয়োজক ছিল তিন দেশ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় যৌথভাবে আয়োজন ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। তবে টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে শেষ ৩২-এর বাধা পেরোলেও কোয়ার্টারে ওঠার লড়াইয়ে ছিটকে গেল তিন স্বাগতিক দল। ফলে আয়োজক দেশ ছাড়াই হবে কোয়ার্টার ফাইনাল, যা টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
বিশ্বকাপ থেকে সবার আগে বিদায় নিয়েছে কানাডা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়ায় দেশটির ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। কানাডার শুরুটা ছিল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র দিয়ে। দ্বিতীয় ম্যাচে গত বিশ্বকাপের আয়োজক এশিয়ার দেশ কাতারকে জোনাথন ডেভিসের হ্যাটট্রিকের সুবাদে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করা। ‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে সুাইজারল্যান্ডের কাছে হারলেও জায়গা করে নিয়েছিল নকআউট তথা শেষ ৩২-এ। শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ে ১-০ গোলের জয় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। কিন্তু কোয়ার্টারে ওঠার লড়াইয়ে আর শেষ রক্ষা হলো না কানাডিয়ানদের। শেষ ষোলোয় মরক্কোর বিপক্ষে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ করে কানাডা। মরক্কোর গতিময় আক্রমণ ও কার্যকর ফিনিশিংয়ের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে কানাডার রক্ষণভাগ।
দ্বিতীয় দল হিসেবে বিদায় মেক্সিকোর। অথচ টুর্নামেন্টের শুরুটা কি দুর্দান্তই না ছিল উত্তর আমেরিকার দেশটির। গ্রুপ ‘এ’তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শুরুটা করেছিল সহ-আয়োজকরা। পরের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে নকআউটে জায়গা করে নেয়া। শেষ ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল সহ-আয়োজকরা। নকআউটে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল তারা। এই পর্যন্ত প্রতিপক্ষের জালে আটবার বল পাঠালেও নিজেদের জাল ক্লিনশিট রেখেছিল মেক্সিকো। কিন্তু শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আর পেরে উঠল না তারা। শক্তিশালী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়ে দারুণ প্রতিরোধ গড়লেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের ব্যবধানে হার মানে স্বাগতিকরা। ম্যাচজুড়ে লড়াকু ফুটবল খেলেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রক্ষণভাগের ভুলের খেসারত দিতে হয় মেক্সিকানদের। নিজেদের সমর্থকদের সামনে স্বপ্নভঙ্গের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় দলটিকে।
সবশেষে স্বাগতিকদের আশা টিকিয়ে রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধা কাজে লাগিয়ে দলটি শেষ ষোলো পর্যন্ত ভালোই এগিয়েছিল। গ্রুপ ‘ডি’তে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে শুরুটা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে নকআউটের টিকিট কাটে সহ-আয়োজক দেশটি। আর গ্রুপের শেষ ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে শেষ সময়ের গোলে ৩-২ ব্যবধানে হারলেও নকআউটের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১০ জনের দল নিয়েও ২-০ গোলের জয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপ যাত্রারও ইতি ঘটে শেষ সহ-আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের। ম্যাচে বেলজিয়ামের আক্রমণভাগ ছিল দুর্দান্ত, অন্য দিকে সুযোগ তৈরি করেও সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ডরা।
তিন স্বাগতিকের এমন একসাথে বিদায় বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিরল ঘটনা। আয়োজক দেশগুলো সাধারণত ঘরের মাঠের সমর্থন, পরিচিত পরিবেশ এবং বাড়তি আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল করে থাকে। অতীতে অনেক আয়োজক দল অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল কিংবা সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছে। কিন্তু এবার এক সাথে বিদায় নিলো শেষ ষোলোর লড়াইয়ে তিনটি আয়োজক দেশ।