সংস্কারের ধারাবাহিকতা রাখার তাগিদ ইইউর

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বে জোর

Printed Edition
first-3
ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন : পিআইডি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারকে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সময়ে শুরু হওয়া সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার তাগিদ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেছেন, আমরা সাংবিধানিক, বিচার বিভাগ, শ্রম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে যাব। ইইউ-বাংলাদেশ সম্পর্কের পূর্ণ সম্ভাবনাকে আমরা কাজে লাগাতে চাই।

গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জার্মানি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।

মাইকেল মিলার বলেন, আমরা বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার। এ দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী ও সহায়তা প্রদানকারী। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে এসেছি। ইইউ-বাংলাদেশ সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা ইইউ ও বাংলাদেশ সম্পর্কের বিস্তৃত পরিসর নিয়ে কথা বলেছি। নতুন সরকারের সাথে উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অভিবাসন, মানবিক বিষয়াবলি, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কিভাবে কাজ এগিয়ে নেয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, আজ সব বিষয় আলোচনার টেবিলে ছিল। এই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি। আমরা আশা করি, নিকটতম ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সাথে এটি স্বাক্ষর করতে পারব।

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বড় পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানোর জন্য ইইউকে ধন্যবান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে এবং আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইইউর সাথে বাংলাদেশে পারষ্পরিক লাভজনক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি অভিন্ন অগ্রাধিকার ইস্যুগুলোতে বাংলাদেশের সাথে কাজ করার জন্য ইইউর আগ্রহকে স্বাগত জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বে জোর : এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সাথে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে উভয়পক্ষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং শান্তি ও উন্নয়নের প্রতি অঙ্গীকারের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের ওপর জোর দেন।

আলোচনায় উভয়পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, অভিবাসন ও জনগণের মধ্যে সম্পৃক্ততাসহ সহযোগিতার মূল ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনা করে। আগামী মার্চের শুরুতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের বাংলাদেশ সফর আলোচনায় স্থান পেয়েছে। সব ক্ষেত্রে বর্ধিত সহযোগিতার মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে উভয়পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আলোচনায় রোহিঙ্গা সমস্যাটিও স্থান পেয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মিয়ানমারে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য রাজনৈতিক সমর্থন কামনা করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। পরে ফেসবুকে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পেইজে দেয়া পোস্টে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন লিখেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন। আমাদের দুই দেশকে আরো নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে একসাথে কাজ চালিয়ে যেতে পেরে আমি আনন্দিত।

সবার ওপরে থাকবে বাংলাদেশ : রাষ্ট্রদূতদের সাথে সাক্ষাৎ শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন, গত রবিবার থেকে আমাদের দেশে বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের সাথে বৈঠক শুরু করেছি। আমরা তাদের কাছে বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক নীতির আউটলাইন তুলে ধরেছি। আমাদের লক্ষ্য হলো, বাংলাদেশ ফার্স্ট। সবার ওপরে থাকবে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, আমরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব, পরস্পরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করব না এবং আমাদের নীতিমালা হবে পারস্পরিক স্বার্থ ও জাতীয় মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে।

খলিলুর রহমান বলেন, আমরা প্রতিটি দেশের সাথে পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। এখন পর্যন্ত সৌদি আরব, চীন, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি। আমি লক্ষ্য করেছি, তারা আমাদের সরকারের প্রতি গভীর আস্থা রাখছেন এবং আমাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।