‘তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আইন হিসেবে রূপান্তর জরুরি’

Printed Edition
3rd-3
‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার অধ্যাদেশ’ কার্যকর বাস্তবায়ন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার : পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুমোদন হওয়া একটি বড় অর্জন হলেও প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হলো আইন হিসেবে তার রূপান্তর করা। এই অধ্যাদেশ যেন কাগজে শক্ত হয়ে না থাকে, আইনে পরিণত করে বাস্তবে তার সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে হবে বলে মত দিয়েছেন অংশীজনেরা।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টার (সিআইসিসি)-তে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর কার্যকর বাস্তবায়নে করণীয় শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এই মতামত ব্যক্ত করেছেন বিভিন্ন অংশীজনেরা।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু জাফর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ড. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদ।

সভায় জানানো হয়, উপদেষ্টা পরিষদের সর্বশেষ বৈঠকে (২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫) স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদিত হয়েছে।

অনুমোদিত এই অধ্যাদেশটির কার্যকর বাস্তবায়নে সংসদে পাস করে আইনে পরিণত করা অত্যন্ত জরুরি। সভার স্বাগত বক্তব্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি বলেন, তামাকজনিত কারণে প্রতিদিন ৫৬৪ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। বিমান দুর্ঘটনায় যদি এত সংখ্যক মানুষ মারা যেত, আমরা স্তব্ধ হয়ে যেতাম। কিন্তু মৃত্যু এখানে নীরব, ধোঁয়ার মতো ধীরে আসে, আর আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। তামাক খাত থেকে সরকার যেখানে বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পায়, সেখানে চিকিৎসা ব্যয়, কর্মক্ষমতা হারানো ও অকাল মৃত্যুর কারণে ক্ষতি হয় ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

ফরিদা আখতার বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অধ্যাদেশটি অনুমোদিত হয়েছে। কিন্তু তামাক কম্পানিগুলোও কিন্তু বসে নেই। তারা তাদের স্বার্থের জন্য সর্বোচ্চটাই করবে। সামনে যেহেতু নির্বাচন, তাই আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গিয়ে প্রতিশ্রুতি আদায় করতে হবে। ক্ষমতায় গিয়ে যেন তারা অধ্যাদেশটিকে দ্রুত আইন হিসেবে সংসদে পাস করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরজাহান বেগম বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুমোদনের সফলতার ভাগিদার আমরা সবাই। আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই অবস্থায় আমরা আসতে পেরেছি। তবে এতে খুব বেশি আপ্লুত হওয়ার সুযোগ নেই। পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এসে যদি অধ্যাদেশটি সংসদে পাস না করে তবে আমাদের এতদিনের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করার জন্য আমাদের প্রতিনিয়ত অ্যাডভোকেসি করে যেতে হবে। অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করতে আমাদের সবাইকে স্ব স্ব জায়গা থেকে চেষ্টা চালাতে হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের উদ্দেশে তিনি স্ব স্ব মন্ত্রণায়লকে ধূমপানমুক্ত করারও আহ্বান জানান তিনি।