অনলাইন বেটিং (জুয়া) পরিচালনা, অবৈধ অর্থ লেনদেন ও বিদেশে অর্থপাচারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

শুক্রবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সিআইডি জানায়, সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার মনিটরিং সেলের নিয়মিত অনলাইন মনিটরিংয়ে দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অনলাইন বেটিং ও জুয়া কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। এসব ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচার করে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ায় প্রলুব্ধ করা হতো।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব বেটিং ওয়েবসাইটে অংশ নিতে ব্যবহারকারীদের প্রথমে ‘টপ-আপ’ বা ডিপোজিট করতে হতো। এজন্য বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হতো। অর্থ জমা হওয়ার পর ব্যবহারকারীর বেটিং অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ ই-মানি বা বেট মানি যুক্ত করা হতো, যা পরে জুয়ায় ব্যবহার করা হতো।

তদন্তে আরো জানা গেছে, অবৈধ লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত এমএফএস অ্যাজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব নিয়মিত পরিবর্তন করা হতো। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অ্যাজেন্টদের কাছ থেকে এসব নম্বর ও হিসাব সংগ্রহ করে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে বেটিং সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে পাঠানো হতো। পরে এসব নম্বর ও হিসাব বেটিং সাইটে প্রদর্শন করা হলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবহারকারীরা সেখানে অর্থ লেনদেন করতেন। সংগৃহীত অর্থ থেকে অ্যাজেন্টরা নির্দিষ্ট কমিশন রেখে অবশিষ্ট টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করত। পরে বাইন্যান্সের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হতো বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে সিআইডি।

সাইবার মনিটরিং সেলে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে সিআইডির পক্ষ থেকে পল্টন থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলার নম্বর ৩৫(৮)২৬। এতে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর ১৫/১৬/১৭/১৮/১৯(১)/২২/২৩/২৪(১)/২৪(২)/২৫/(২৭) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলাটির তদন্তে পাওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে সিআইডি চক্রের জড়িতদের অবস্থান শনাক্ত করে। এর ধারাবাহিকতায় গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে খুলনা জেলার খানজাহান আলী ও খালিশপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে অন্য সহযোগী আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা শেষে সিআইডির ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস শাখার অভিযানকারী দল বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সিআইডি কার্যালয়ে ফিরে আসে।

সিআইডি আরো জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামিরা উল্লিখিত অনলাইন বেটিং ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পরে রিমান্ডের আবেদনসহ আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।