বড়াইবাড়ি দিবস আজ
সীমান্তে বীরত্ব ও আত্মত্যাগের গৌরবগাথা
Printed Edition
মোস্তাফজুর রহমান তারা রৌমারী (কুড়িগ্রাম)
আজ ২৬তম ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ি দিবস। ২০০১ সালের এই দিনে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ি সীমান্তে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও সীমান্ত রক্ষার এক অনন্য ইতিহাস রচিত হয়। জাতির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সীমান্তরক্ষীরা যে আপসহীন, বড়াইবাড়ি তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল গভীর রাতে আন্তর্জাতিক সীমান্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বর্তমান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বিজিবি) সদস্যরা দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সীমান্ত পিলারের ১০৬৬ আশপাশে শুরু হয় তীব্র গোলাগুলি ও মুখোমুখি সংঘর্ষ। এতে উভয় পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে বাংলাদেশের সাহসী সীমান্তরক্ষীরা প্রাণ দেন। তাদের আত্মত্যাগ শুধু একটি সীমান্ত চৌকি রক্ষার জন্যই নয়, বরং দেশের সার্বভৌম মর্যাদা অক্ষুণœ রাখার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। বড়াইবাড়ির মাটিতে ঝরে পড়া সেই রক্ত আজও মনে করিয়ে দেয়, স্বাধীনতা ও সীমান্ত সুরক্ষায় কোনো আপস নেই।
দিবসটি উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বক্তারা বলেন, বড়াইবাড়ির ঘটনা কেবল একটি সীমান্ত সংঘর্ষ নয়; এটি জাতীয় চেতনার অংশ, যা নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার পর দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে এবং পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার হয়। তবুও বড়াইবাড়ি স্মরণ করিয়ে দেয়, সীমান্ত নিরাপত্তায় সতর্কতা ও প্রস্তুতির বিকল্প নেই। রৌমারীর সীমান্তঘেঁষা জনপদের মানুষের কাছে দিনটি শোক ও গৌরবের প্রতীক। জাতি আজ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে বড়াইবাড়ির শহীদদের, যাদের আত্মত্যাগ ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে থাকবে।