সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা

জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড ১৮ কোটি মানুষ

Printed Edition

সংসদ প্রতিবেদক

  • আলেমদের সমন্বয়ে জাকাত কমিশন বা ‘জাকাত মন্ত্রণালয়’ গঠনের প্রস্তাব অধ্যাপক মুজিবের
  • মিথ্যা মামলায় জামায়াতের শীর্ষনেতারা জুডিশিয়াল কিলিংয়ের শিকার হয়েছেন : আজহার
  • ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব বিএনপির এমপি খোকনের
  • নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে প্রকল্প গ্রহণের দাবি সরকারদলীয় হুইপের

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব, বাজেটের বাস্তবতা, সুদভিত্তিক অর্থনীতি, করনীতি, ব্যাংকিং খাত, রাজনৈতিক পুনর্বাসন এবং অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের কোনো একক মাস্টারমাইন্ড নেই; এর প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ।

গতকাল রোববার সংসদের বাজেট অধিবেশনের ১৭তম কার্যদিবসে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত তার অতীত বক্তব্যের যে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, সেটি সময়ের প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করেই দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসের বক্তব্য এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাস্তবতা এক নয়।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান যাদের নেতৃত্বে সফল হয়েছে, তারা অবশ্যই সম্মানের দাবিদার। তবে ড. ইউনূস বিদেশে গিয়ে একজনকে আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড বলার পর তিনিই প্রথম এর প্রতিবাদ করেছিলেন। তার ভাষায়, ‘একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না। আমাদের যুবসমাজ কৃতিত্বের দাবিদার, আর প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ।’

এর আগে বাজেট আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিরোধীদলীয় নেতার পূর্ববর্তী বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছিলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রধান নায়ক তারেক রহমান। সেই সূত্র ধরেই বিরোধী দলকে বাজেট নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জাকাতভিত্তিক অর্থনীতির প্রস্তাব

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বাজেটে ‘জাকাত’ শব্দের অনুপস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে সুদভিত্তিক অর্থনীতির পরিবর্তে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালুর দাবি জানান।

তিনি বলেন, নামাজ ও জাকাত মানুষের চরিত্র গঠন এবং দারিদ্র্যবিমোচনের কার্যকর মাধ্যম হলেও বাজেটে জাকাতের কোনো উল্লেখ নেই। তিনি বলেন, সঠিকভাবে জাকাত আদায় করা গেলে বছরে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা সংগ্রহ সম্ভব, যা বাজেট ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য তিনি আলেমদের সমন্বয়ে একটি জাকাত কমিশন বা ‘জাকাত মন্ত্রণালয়’ গঠনের প্রস্তাব দেন।

একইসাথে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল, মদ, বিড়ি ও নেশাজাতীয় দ্রব্য নিষিদ্ধ, কওমি মাদরাসায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ, এমপিওবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ধাপে ধাপে এমপিওভুক্ত করা, শ্রমিকদের সময়মতো মজুরি নিশ্চিত, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ এবং নিজ নির্বাচনী এলাকার হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহের দাবি জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, মসজিদে রাজনীতি করা যাবে না-এমন বক্তব্য ইতিহাসসম্মত নয়; কারণ মদিনা রাষ্ট্রের কেন্দ্র ছিল মসজিদে নববী। পাশাপাশি ঋণ পরিশোধ না করে মৃত্যুবরণ সম্পর্কে ধর্মীয় সতর্কবার্তাও তুলে ধরেন তিনি।

সুদমুক্ত অর্থনীতি চালুর প্রস্তাব এ টি এম আজহারের

দেশের অর্থনীতিকে সুদের জাঁতাকল থেকে মুক্ত করতে সুদমুক্ত আর্থিক ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছেন রংপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। একইসাথে তিনি বিগত সরকারের আমলে দলের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসিকে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ আখ্যা দিয়ে এর বিচার দাবি করেছেন। বাজেট বক্তৃতার শুরুতে তিনি জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ করেন এবং বিগত ১৭ বছরের ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের শাসনামলে নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়াতে বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

জামায়াত নেতা আজহার বলেন, ‘আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ আমাদের শীর্ষ নেতাদের, যাদের অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় সাজিয়ে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন হজরত মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ ১১ জন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি দাবি জানাই, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক।’

সুদকে ‘বড় পাপ’ উল্লেখ করে জামায়াতের অন্যতম এই শীর্ষনেতা বলেন, ‘বাজেটে সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে এক লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ৯২ ভাগ মুসলিমের দেশে সুদের এই বোঝা মেনে নেয়া যায় না। সুদমুক্ত অর্থনীতি চালু করতে সরকার সুকুক (ইসলামী বন্ড) ইস্যুর মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের বিকল্প পথ বেছে নিতে পারে। ২০২০ সাল থেকে চালু হওয়া সুকুক বন্ডকে আরো জনপ্রিয় করলে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে সুদমুক্ত হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে।’

ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বেসিক ব্যাংক, হলমার্ক ও পিকে হালদারের লুটপাটে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হয়েছে। এর ওপর আবার ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে, যা সৎ করদাতাদের জন্য অপমানজনক এবং সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। আমরা এই সুযোগ বাতিলের দাবি জানাই।’

অর্থ পাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির রিপোর্ট অনুযায়ী বছরে সাত বিলিয়ন ডলার পাচার হচ্ছে। পাচারকৃত অর্থ দেশে বিনিয়োগ হলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেত। পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব

সরকারি দলের সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন কালো টাকা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রচলিত ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এসব নোট ব্যাংকে জমা দেয়ার সুযোগ দেয়া হলে অপ্রদর্শিত বিপুল অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসবে। যাদের অর্থের বৈধ উৎস নেই, তারা নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে তা বৈধ করতে পারবেন। এতে বিনিয়োগ ও অর্থপ্রবাহ বাড়বে।

তিনি অতিরিক্ত ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সংস্কৃতিরও সমালোচনা করে বলেন, ‘এমপি হলেই একটি ব্যাংক, নেতা হলেই একটি লিজিং কোম্পানি’-এই প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। একইসাথে অর্থপাচার ঠেকাতে দেশে আস্থাভিত্তিক আর্থিক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, সামাজিক নিরাপত্তা ও যুব কর্মসংস্থানের উদ্যোগ রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

রাজনৈতিক পুনর্বাসনের দাবি

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার তৃণমূলের হাজার হাজার নেতাকর্মী এখনো অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। তাদের পুনর্বাসনের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিরোধীদল বাজেটকে ‘দিবাস্বপ্ন’ বললেও এটি বাস্তবসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব বাজেট। সরকারের দাবি অনুযায়ী, কৃষিঋণ মওকুফ, বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, কৃষক কার্ড, ই-হেলথ কার্ড, শিশু হাসপাতাল, স্কুল ইউনিফর্ম, মিড-ডে মিল, পেপ্যাল, আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে, ফ্রিল্যান্সার সুবিধা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ওয়াইফাই, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংস্কার, পিংক বাস এবং স্থানীয় সরকারে বরাদ্দ-এসব উদ্যোগ বাজেটকে জনকল্যাণমুখী করেছে।

সরকারি ঋণের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, এটি ভোগের জন্য নয়; উৎপাদন ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে কৌশলগত বিনিয়োগ। একই সাথে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের জন্য বাজেট বরাদ্দকে তিনি স্বাগত জানান।

বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত হয়েছে। সংবিধানের মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় মূলনীতি অনুসরণ করেই এটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাজেট বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং সরকার সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত। বিগত সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পদ্ধতিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প সফল হয়েছে। কৃষক কার্ড, যুব কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের কাছে সেবা পৌঁছে দেয়াই এখন প্রধান লক্ষ্য।

সড়ক-রেলে বড় বিনিয়োগ

সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ বলেন, সড়ক খাতে প্রায় ৩৬ হাজার ৯১৭ কোটি এবং রেলপথে প্রায় ৯ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে ১০৬টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। আগামীতে তিন হাজার কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, রাজধানীর বাইরে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, মনোরেল, বৈদ্যুতিক যানবাহন, পাঁচ লাখ দক্ষ চালক তৈরি, ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন, ট্রেনে ইন্টারনেট, স্টেশনে সৌরবিদ্যুৎ এবং নতুন লোকোমোটিভ ও কোচ সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েই প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে তিনি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিরোধী দলের সমালোচনা খুব একটা আমলে নেয়ার মতো নয় :

সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনা খুব একটা আমলে নেয়ার মতো নয়। তার মতে, সংসদে মূলত কিছু শঙ্কার কথা এসেছে; নেতিবাচক মন্তব্য খুব কম। ই-চালান, কর অব্যাহতি কমানো, রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং নতুন ভ্যাট কাঠামোর মাধ্যমে রাজস্ব ঘাটতি পূরণ সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা: এম এ মুহিত অভিযোগ করেন, বিরোধীদল কেবল সেই সংস্কারের কথা বলে, যেখান থেকে তারা রাজনৈতিক সুবিধা পাবে। অথচ স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার নিয়ে তারা কোনো কার্যকর প্রস্তাব দেয়নি।

প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় করমুক্ত আয়সীমা ছয় লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেন। একই সাথে তিনি বাজেটকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ ভিশনের বাস্তব প্রতিফলন বলে অভিহিত করেন।

সরকারি দলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘ নির্বাসনকালীন অভিজ্ঞতা ও লন্ডনের শিক্ষা ব্যবস্থার আদলে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তার মতে, এটি স্মরণকালের সবচেয়ে মানবিক ও দরিদ্রবান্ধব বাজেট।

হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলও বাজেটকে ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ার সাহসী পরিকল্পনা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি বাস্তবায়ন নিয়েই যত আলোচনা থাকুক, দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা এই বাজেটেই নিহিত।

নির্যাতন-ক্ষতির শিকার নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে পৃথক প্রকল্প গ্রহণের দাবি :

বাজেটের ওপর আলোচনায় আরেক হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে গণতন্ত্রের পক্ষে ভূমিকা রাখা বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যারা টেলিভিশন, সেমিনার ও বিবৃতির মাধ্যমে গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই আজ অবহেলিত। তাদের সম্মান জানিয়ে রাষ্ট্রের সাথে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

একই সাথে আন্দোলনে নির্যাতন, কারাবাস ও ক্ষতির শিকার নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে পৃথক প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এতে জুলাইয়ের গণ-আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন হবে। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতির নীতির কারণেই সরকার পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী নিহত হয়নি।