খালেদা জিয়ার স্মরণে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা
‘তিনি নিজে অসুস্থ ছিলেন, কিন্তু সবার সুস্থতা নিয়ে তার উদ্বেগ ছিল’
৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, তিনি নিজে অসুস্থ ছিলেন- কিন্তু সবার সুস্থতা নিয়ে তার উদ্বেগ ছিল। তিনি আমাদের সাথে ছিলেন। জাতির ঐক্যবদ্ধ থাকার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার উপস্থিতি আমাদের ভীষণ প্রয়োজন ছিল। তার চলে যাওয়া জাতির বড় ক্ষতি।’ গতকাল খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের এক বিশেষ সভায় প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন বলে তার প্রেস ইউং থেকে জানানো হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আজকে গভীর শোকের সময় আমরা সবাই সমবেত হয়েছি। পুরো জাতি বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করছিল, যাতে তিনি আমাদের সাথে আরো অনেক বছর থাকেন। আমরা তার জন্য মাগফেরাত কামনা করি। জাতির পক্ষ থেকে আমরা তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। তার দাফন ও জানাজার নামাজ বিষয়ে যা কিছু প্রয়োজন সব ধরনের সহায়তা করবে সরকার।’
স্মৃতিচারণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সর্বশেষ উনার সাথে দেখা হয়েছিল ২১ নভেম্বর সশস্ত্রবাহিনী দিবসে। সেদিন তিনি খুব উৎফুল্ল ছিলেন। আমার সাথে অনেকক্ষণ গল্প করেছেন। আমার, আমার স্ত্রীর স্বাস্থ্যের বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন। তিনি নিজে অসুস্থ ছিলেন, কিন্তু সবার সুস্থতা নিয়ে তার উদ্বেগ ছিল।’
এ দিকে সভায় শুরুতেই তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন ও তার মাগফেরাত কামনা করে মুনাজাত করা হয়। ধর্ম উপদেষ্টা আফম খালিদ হোসেন মুনাজাত পরিচালনা করেন।
সভায় বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা (৩১ ডিসেম্বর এবং ১ ও ২ জানুয়ারি) এবং আজ বুধবার একদিনের সাধারণ ছুটির সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে একটি শোক প্রস্তাব গৃহীত হয় যা পাঠ করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান।
রাষ্ট্রীয় শোক পালনের অংশ হিসেবে তিন দিন দেশের সব সরকারি আধা সরকারি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। একই সাথে আগামীকাল দেশের প্রতিটি মসজিদে খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মুনাজাতের আয়োজন করা হবে। অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়গুলোতেও আয়োজন হবে বিশেষ প্রার্থনার। এ ছাড়া সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে শোকবই খোলা হবে।
গতকালের সভায় বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাসহ সব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি জানান, আজ বুধবার বাদ জোহর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা ও এর সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। তাকে শহীদ রাষ্ট্রপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শেখ হাসিনার দায় রয়েছে : আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশনের রায়ের মধ্যে বারবার করে বলা হয়েছে যে, বেগম জিয়াকে যেই মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ রংলি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, জিঘাংসাপ্রসূতভাবে দেয়া হয়েছিল।’ মঙ্গলবার দুপুরে যমুনায় ব্রিফিংকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ সরকার মিসেস জিয়াকে ‘অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে সাজা দিয়েছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘উনাকে জেলখানায় বিভিন্ন সময় যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল, তা না হলে উনাকে আমরা হয়তো এত তাড়াতাড়ি হারাতাম না। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, বেগম জিয়ার এই মৃত্যুর পেছনে ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং উনার সরকারের অবশ্যই দায় রয়েছে।’