অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা গর্বের : তাসকিন

Printed Edition
khela-3
অস্ট্রেলিয়ায় মাছ ধরার সময় তাসকিনের সাথে স্বাগতিক দলের অ্যালেক্স ক্যারি ও জেক ওয়েদারাল্ড : বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মাঠের ব্যস্ততা আর অনুশীলনের ফাঁকে অস্ট্রেলিয়ায় ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন তাসকিন আহমেদ। দুই অসি ক্রিকেটার অ্যালেক্স ক্যারি ও জেক ওয়েদারাল্ডকে সাথে নিয়ে ডারউইনের পানিতে নৌকায় চড়ে মাছ ধরার অভিজ্ঞতা নিলেন বাংলাদেশের এই পেসার। বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজকে সামনে রেখে ডারউইন ওয়াটারফ্রন্টে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়। মাছ ধরা ও জলকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা ডারউইনের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশের সাথেও এর রয়েছে বেশ মিল। সেই মিলকে তুলে ধরতেই ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজন করা হয় এই ভিন্নধর্মী মিডিয়া কার্যক্রম। মিডিয়া সেশন ও ফটোশুট শেষে তাসকিন, ক্যারি ও ওয়েদারাল্ড একটি মাছ ধরার নৌকায় চড়ে কিছু সময় মাছ ধরার অভিজ্ঞতা নেন তিন ক্রিকেটার।

১৩ আগস্ট সেখানেই শুরু হবে প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ২২ আগস্ট ম্যাকেতে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে ডারউইনে প্রথমবার খেলতে যাওয়া পেসার তাসকিন আহমেদ মিডিয়া সেশনে বলেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে তাদের ঘরের মাঠে খেলার সুযোগ বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ এবং একই সাথে গর্বের বিষয়।

প্রশ্ন : অনুশীলন কেমন চলছে?

তাসকিন : এখন পর্যন্ত সব কিছু ভালোই চলছে। ডারউইনে এটাই আমার প্রথমবার। এখানকার আবহাওয়া বেশ সুন্দর, উষ্ণ এবং মনোরম, অনেকটা বাংলাদেশের মতোই। আমি এর আগেও কয়েকবার অস্ট্রেলিয়ায় এসেছি, কিন্তু ডারউইনে এটাই আমার প্রথমবার এবং টেস্ট সিরিজ খেলতে এখানেও প্রথমবার। আমি এটা উপভোগ করছি এবং অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।

প্রশ্ন : বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রেক্ষাপটে, দেশের বাইরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলার পর অনেক, অনেক দিন কেটে গেছে। দল এবং দেশের জন্য এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

তাসকিন : অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে এখানে আসতে পেরে আমরা সম্মানিত। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি দল, এবং অস্ট্রেলিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেট খেলা আমাদের এবং দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত। সিরিজটা সহজ হবে না, কিন্তু আমরা ভালো করার আশা করছি।

প্রশ্ন : ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে গত শনিবারের ম্যাচের পর দলের অনুভূতি কেমন?

তাসকিন : ওই প্রস্তুতি ম্যাচটা হেরে খুব একটা ভালো অনুভূতি হয়নি। ক্রিকেটে এমনটা হয়েই থাকে। আমরা এখনো এখানকার পরিস্থিতি এবং পিচের সাথে দ্রুত মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। হেরে গেলেও প্রস্তুতিটা ভালো ছিল এবং আমরা মূল ম্যাচে ভালো করার আশা করছি।

প্রশ্ন : বাংলাদেশে ওডিআই সিরিজ জয়ের পর থেকে আপনারা কতটা আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন?

তাসকিন : ওটা আমাদের জন্য একটা দারুণ সিরিজ ছিল, বিশেষ করে ঐতিহ্যগতভাবে মিরপুরের উইকেটগুলো টার্নিং ও ধীরগতির হয়। কিন্তু গত সিরিজে খেলার উপযোগী পরিস্থিতি বেশ ভালো ছিল। আমরা দল হিসেবে ভালো খেলে জিতেছি; যা এই সিরিজে আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। ঘরের মাঠে এবং বাইরে খেলার মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে। দেখা যাক কী হয়।

প্রশ্ন : প্রথম ওভারেই উইকেট নেয়ার জন্য আপনার একটি খ্যাতি রয়েছে। ট্র্যাভিস হেডের জন্য আপনার কী পরিকল্পনা আছে?

তাসকিন : (হেসে) নিঃসন্দেহে, সে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। কিন্তু ক্রিকেট হলো ব্যাট-বলের খেলা। আমি আমার প্রক্রিয়া অনুসরণ করব, যেভাবে গত কয়েক বছর ধরে কাজ করে আসছি। এটা সহজ হবে না, আমি আমার প্রক্রিয়া মেনে চলব এবং দেখব কী হয়।

প্রশ্ন : অন্তত প্রথম টেস্টে নাহিদ ও শরিফুল না থাকায় আপনার কি মনে হয় যে আপনার দায়িত্ব আরো বেড়ে গেছে?

তাসকিন : হ্যাঁ, আমরা তাদের অভাব বোধ করব, বিশেষ করে নাহিদ রানাকে। আজকাল বিশ্ব ক্রিকেটে সে এক বড় হুমকি। দুর্ভাগ্যবশত, সে ইনজুরড। অস্ট্রেলিয়ায় খেলাটা বোলারদের জন্য একটা দারুণ সুযোগ। রানা আর শরিফুল এখানে থাকলে হয়তো পরিস্থিতি অন্যরকম হতো।

প্রশ্ন : তাজুল ইসলাম কেমন আছেন? আপনার কি মনে হয় তিনি টেস্টে খেলবেন?

তাসকিন : আজ (গতকাল) অনুশীলন করেছে। সামান্য ইনজুরড ছিল, এখন সে ঠিক আছে।

প্রশ্ন : আপনার কি ২০০৩ সালের সিরিজ দেখার কথা মনে আছে? তখন আপনি বেশ তরুণ ছিলেন।

তাসকিন : তখন আমি ক্রিকেট খেলা শুরু করিনি। সেটা অনেক আগের কথা। তবে আমাদের জন্য খুব একটা ভালো ছিল না। ২৩ বছর পর এখানে একটি টেস্ট সিরিজ খেলতে পেরে আমি ভাগ্যবান। দেখা যাক, আমরা এটাকে স্মরণীয় করে রাখতে পারি কি না।

প্রশ্ন : বিশ্বজুড়ে সফল হতে পারে এমন একদল ফাস্ট বোলার তৈরি করা আপনার এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

তাসকিন : এটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমরা যখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতির কথা ভাবি, তখন আইসিসি ইভেন্ট এবং অন্যান্য বড় টুর্নামেন্টে খেলার সময় প্রায়ই খেলার উপযোগী পরিবেশ পেয়ে থাকি। আমাদের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য ওই ধরনের পরিবেশ ও উইকেট প্রয়োজন। মূল লক্ষ্য হলো দিনে দিনে উন্নতি করা।