জাতীয় সংসদে ৭ বিল পাস

নোট অব ডিসেন্টে থাকায় তিনটি আলোচনার টেবিলে

Printed Edition

সংসদ প্রতিবেদক

নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার ও অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে দ্রুত আইনে রূপ দেয়ার প্রক্রিয়ায় জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তবে বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) থাকায় আলোচনার মধ্যেই আটকে গেছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল। এ দিন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনসহ মোট সাতটি বিল পাস হয়েছে। একই দিন ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা (সংশোধন) আইন’ বিলটি অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে অধ্যাদেশের ১০টি বিল উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান। আর কৃষি ভূমি সুরক্ষা আইনের বিলটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

সংসদে উপস্থাপিত তথ্য মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি আইনে রূপান্তর হচ্ছে। এর মধ্যে ১০টি বিল আকারে উত্থাপন করা হলে সাতটি পাস এবং তিনটি বিল আপত্তির কারণে আলোচনার জন্য রেখে দেয়া হয়। এরআগে গত রোববার আরো ২টি বিল পাস হয় সংসদে।

গতকাল পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে-‘ভোটার তালিকা (সংশোধন) আইন-২০২৬’, ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬’, ‘নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সংশোধন আইন-২০২৬’, ‘নির্বাচন কমিশন কর্মচারী (বিশেষ বিধান) সংশোধন আইন-২০২৬’, ‘জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) আইন-২০২৬’, ‘জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) রহিতকরণ আইন-২০২৬’ এবং ‘বাংলাদেশ ল অফিসার্স (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬’।

অন্য দিকে বিরোধী দলের আপত্তির কারণে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) আইন-২০২৬’, ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ আইন-২০২৬’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২ (রহিতকরণ) আইন-২০২৬’- এই তিনটি বিল আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে। আলোচনা শেষে এগুলো পুনরায় পাসের জন্য উত্থাপন করা হবে।

গতকাল সোমবার ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান ১০টি বিল উত্থাপন করেন। বিলগুলোর ওপর আলোচনা শেষে কণ্ঠভোটে পাস হয়। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বিলের একটি ধারার ভাষাগত অস্পষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। জবাবে আইনমন্ত্রী বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দেন।

চিফ হুইপ মো: নূরুল ইসলাম মনি জানান, ৯ এপ্রিলের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো পাস হতে হবে। তবে প্রয়োজনে শুক্রবারেও সংসদ চলতে পারে।

আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনসংক্রান্ত কার্যক্রম আরো কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২’-এ সংশোধন আনা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটার তালিকা হালনাগাদে নমনীয়তা আনতে প্রতি বছর ১ জানুয়ারির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত অন্য তারিখেও ভোটার হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ জারির পর প্রথম সংসদ অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে তা বিল আকারে উত্থাপন ও পাস করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় উত্থাপিত অধ্যাদেশগুলো ধাপে ধাপে আইনে পরিণত হচ্ছে।

দুই বেলা চলবে সংসদ অধিবেশন, প্রয়োজনে বসবে শুক্রবারেও : অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষায় জাতীয় সংসদ অধিবেশন এখন থেকে দিনে দুই বেলা (দুই সেশনে) চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম সংসদে জানান, ১৩৩টি বিল পাসের বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করতে আগামীকাল (আজ) মঙ্গলবার থেকে প্রতিদিন দুই সেশনে অধিবেশন চলবে। প্রথম সেশন শুরু হবে সকাল সাড়ে ১০টায় এবং দ্বিতীয় সেশন শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৩টায়।

এ ছাড়া আগামী বৃহস্পতিবারের ‘বেসরকারি সদস্য দিবস’ বাতিল করে সরকারি বিল পাসের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এমনকি প্রয়োজন হলে আগামী শুক্রবারও অধিবেশন চালানোর প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতির ভাষণে ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা : এ দিকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য সারোয়ার জামাল নিজাম, মুন্সীগঞ্জ-১ এর সংসদ সদস্য মো: আবদুল্লাহ, বাগেরহাট-২ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, নেত্রকোনা-৩ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হেলালী, সিরাজগঞ্জ-১ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সেলিম রেজা, পাবনা-৪ থেকে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য আবু তালেব মণ্ডল।

আলোচনায় অংশ নিয়ে শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হওয়ায় রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ দিতে পারছি না। তিনিও গুম খুন নির্যাতনের প্রত্যক্ষদর্শী। বক্তব্যে তিনি তার এলাকার রেল, সড়ক, পরিবহন সমস্যার কথা তুলে ধরে সেগুলো সমাধানের দাবি জানান।

আবু তালেব মণ্ডল বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কোনো সংবিধানের আলোকে কারাগারে ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ ১১ শীর্ষ নেতাদের কোন সংবিধানের আলোকে শহীদ করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকার গত ১৭ বছর যেভাবে গুম খুন নির্যাতনের রেকর্ড করেছে সেগুলো কোন সংবিধানের আলোকে করেছিল। এরপরও আমরা যদি সংবিধান সংস্কার না করি, গণভোটের তোয়াক্কা না করি, তাহলে বুঝতে হবে আমরা কপাল পোড়া। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের কারণেই প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন, অনেকেই গুম থেকে মুক্তি পেয়েছেন, বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। তাই আমাদের সবাইকে সংবিধানের সংস্কার করতে হবে।