সুইজ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর উদ্বেগ
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে সুইজারল্যান্ড ধারাবাহিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে।
গতকাল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
এ সময় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সঙ্ঘাত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, এই সঙ্কটের কারণে অনেক বাংলাদেশী কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত এবং দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। এ অবস্থায় তাদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতার প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী ‘ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম’ (ঙঊচ) উন্নয়নে সুইজারল্যান্ডের কারিগরি সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করেছে।
সাক্ষাৎকালে সুইজ রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি বিগত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার বিদ্যমান সুসম্পর্ক ও নিবিড় দেশগুলোর সাথে আরো শক্তিশালী শ্রম কূটনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানাই যাতে বাংলাদেশের অভিবাসী নারী শ্রমিকদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ বজায় রাখা যায় এবং প্রয়োজনে দ্রুত কনস্যুলার সহায়তা পাওয়া যায়। সভাপতির বক্তব্যে নুসরাত সুলতানা আফরোজ বলেন, নিরাপদ অভিবাসন কেবল কর্মসংস্থানের বিষয় নয়; এটি নারীর মর্যাদা, মানবাধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয়। তিনি বলেন, নারী অভিবাসীদের মতামত ও অভিজ্ঞতাকে নীতিনির্ধারণে গুরুত্ব দিতে হবে। কর্মশালায় আরো বক্তব্য রাখেন জাপান থেকে আগত নারী উন্নয়ন শক্তির স্বেচ্ছাসেবক মারিকো আদাচি ও মোহাম্মদ ইয়াসিন পাটোয়ারী, শিলিডের নির্বাহী সদস্য সালিনা আক্তার এবং বাংলাদেশ গৃহকর্মী নিয়োগকর্তা সমিতির প্রতিনিধি রিয়া আক্তার। বক্তারা নারী অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক মর্যাদা এবং দেশে ফিরে পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কর্মশালা থেকে সরকারের প্রতি একাধিক দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিদেশে যাওয়ার আগে সব নারী অভিবাসী শ্রমিকের জন্য বাধ্যতামূলক প্রাক-প্রস্থান প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা; প্রশিক্ষণে ভাষা শিক্ষা, শ্রম আইন, মানবাধিকার, আত্মরক্ষা, এইচআইভি ও এইডস প্রতিরোধ, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত করা; মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি বাংলাদেশ দূতাবাসে ২৪ ঘণ্টার জরুরি সহায়তা কেন্দ্র ও নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা; নির্যাতনের শিকার নারী শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার, চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা; নারী অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য জাতীয় বাজেটে পৃথক বরাদ্দ রাখা; অবৈধ দালাল ও মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ; দেশে ফিরে আসা নারী শ্রমিকদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ এবং গন্তব্য দেশগুলোর সাথে শ্রম অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়ন। উক্ত সফল কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সরকারিভাবে বাজেট বরাদ্দ করে সরকারি সংস্থার সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কাজ করা। বিজ্ঞপ্তি।