ট্রাম্পের হুমকি পাত্তা দিলেন না কিউবার প্রেসিডেন্ট
Printed Edition
সিএনএন
ভেনিজুয়েলা আক্রমণের পর শর্তহীন চুক্তি করতে কিউবাকে হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন হুমকির পর বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিজ-ক্যানেল। সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে ট্রাম্পের এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিজ-ক্যানেল বলেছেন, আমাদের কী করতে হবে তা নির্ধারণ অন্য কেউ করতে পারে না। কিউবা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। এ ছাড়া কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেছেন, অন্যান্য দেশ থেকে জ্বালানি বা তেল আমদানি করার সম্পূর্ণ অধিকার আছে কিউবার এবং কোনো দেশের বাজার বা বাণিজ্য নির্ধারণ যুক্তরাষ্ট্রকে করতে দেয়া উচিত নয়।
এর আগে শনিবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে বলেন, ‘কিউবার দিকে আর তেল বা অর্থ যাবে না- জিরো! আমি দৃঢ়ভাবে পরামর্শ দিচ্ছি, দেরি হওয়ার আগেই তারা একটি চুক্তি করুক।’ ট্রাম্পের ভাষায়, বহু বছর ধরে কিউবা ভেনিজুয়েলার তেল ও আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং বিনিময়ে তারা ভেনিজুয়েলায় নিরাপত্তা পরিষেবা দিয়ে থাকত। কিন্তু এখন তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং কিউবা যদি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো চুক্তি না করে, তাহলে তাকে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তবে কিউবার বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে তা বিস্তারিত বলা হয়নি।
ভেনিজুয়েলা থেকে তেল ও অর্থের প্রবাহ এখন বন্ধ হয়ে যাবে উল্লেখ করে কিউবাকে দ্রুতই ওয়াশিংটনের সাথে একটি চুক্তি করা নয়তো পরিণতি ভোগ করার বিষয়ে হুঁশিয়ার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ৩ জানুয়ারিতে ভেনিজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটক করে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিউবার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। ভেনিজুয়েলা কিউবার দীর্ঘদিনের মিত্রদেশ। ভেনিজুয়েলা থেকে কিউবায় দিনে প্রায় ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল যায় বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু এখন এই তেলের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
রোববার সোশাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘কিউবা বহু বছর ধরে ভেনিজুয়েলা থেকে আসা বিপুল পরিমাণ তেল ও অর্থ পেয়ে আসছে। বিনিময়ে কিউবা ভেনিজুয়েলার সর্বশেষ দুই স্বৈরশাসককে নিরাপত্তা সেবা দিয়েছে। কিন্তু আর নয়। কিউবায় আর কোনো তেল বা অর্থ যাবে না- শূন্য! তাই বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই তাদেরকে আমি দৃঢ়ভাবে চুক্তি করতে বলছি।’
তবে ট্রাম্প এই চুক্তির শর্তগুলো কি এবং চুক্তি না করলে কি পরিণতি কিউবা ভোগ করতে পারে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। কিউবাকে নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা কি সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট কিছু না বললেও রোববার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বার্তা পুনরায় পোস্ট করেছেন। এতে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, যিনি একজন কিউবান-আমেরিকান, ফ্লোরিডার সাবেক সিনেটর এবং নির্বাসিত কিউবান নাগরিকের ছেলে- তিনি কিউবার প্রেসিডেন্ট হতে পারেন। ট্রাম্প ফের নিজেই পোস্টটি শেয়ার করে মন্তব্য করেছেন, ‘আমার এটি শুনতে ভালো লাগছে!’