অন্যকে ইফতারে মিলে পূর্ণ রোজার সওয়াব : মীযান মুহাম্মদ হাসান
Printed Edition
ইফতার একটি পুণ্যময় ইবাদত। সাধারণত সারা দিন রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় ইফতারি-খাবার গ্রহণ করা হয়। যা আমাদের সমাজে পরিচিত একটি মুসলিম সংস্কৃতি। তবে মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে সবাই এর সাথে পরিচিত। আর প্রতি রমজানে যেন এটি তৈরি করে এক উৎসবমুখর আমেজের। তবে মনে রাখতে হবে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতও। হাদিসে প্রিয় নবীজি সা: বলেছেন, ‘প্রত্যেক রোজাদারের জন্য রয়েছে দু’টি আনন্দ। যার একটি (প্রত্যহ) মিলে ইফতারের সময়। আর অপরটি হলো- আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ লাভের সময়’। (বুখারি ও মুসলিম)
মুসলিম সমাজে কোনো রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতার করানোটা যেমন আনন্দের, তেমনি তা পুণ্যেরও। আর সেই সাথে যদি মিলে পূর্ণ রোজার সাওয়াব। তবে কি এ সুযোগ হাত ছাড়া করা যায়? কখনো উচিত হবে হাতছাড়া করা? কখনোই নয়।
এ জন্য আমাদের সমাজের সামর্থ্যবান প্রত্যেকের জন্য আবশ্যক বা করণীয় হলো, আমরা সাধ্যমতো রোজাদার ব্যক্তির জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করব। অন্তত কিছু না কিছু আয়োজন করে কোনো ইফতার আয়োজনে অংশীদার হওয়া। কিংবা নিজে একাকী কিছু আয়োজন করে এক দু’জন রোজাদারকে আপ্যায়ন করা। বিশেষ করে মুসাফির পথিক বা ভ্রাম্যমাণ কোনো ব্যক্তির জন্য। গরিব অসহায় দরিদ্র মানুষের জন্যও ইফতার আয়োজন করে অর্জন করা যায় এমন পুণ্য। গরিব অসহায় প্রতিবেশীর বাড়িতেও পাঠানো যায় শুকনো বা রেডি ইফতারি। যাতে মিলবে পূর্ণ রোজার সাওয়াব। সাহাবি হজরত জায়েদ ইবনে খালিদ রা: থেকে বর্ণিত- রাসূল সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে অথবা কোনো যোদ্ধাকে জিহাদের সামগ্রী দ্বারা সজ্জিত করবে। সে তাদের অনুরূপ সাওয়াব-বিনিময় লাভ করবে।’ (শুয়াবুল ঈমান লিল বাইহাকি)
একইভাবে সুনানে তিরমিজি ও মুসনাদে আহমদের বিশুদ্ধ বর্ণনায়ও এসেছে- নবীজি সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, তাকেও (রোজাদারের) সমপরিমাণ নেকি দেয়া হবে। তবে রোজাদারের পুণ্য থেকে কোনো কম করা হবে না।’
প্রশ্ন হলো, কী দিয়ে ইফতার করাব? খুব করে নানান পদের আয়োজন হতে হবে। না, এমনটি জরুরি নয়। এমনকি এগুলো স্বাস্থ্যসম্মতও নয়। সামান্য পানি বা শরবত কিংবা কোনো ফল বা জুসও হতে পারে ইফতারের মানসম্মত আয়োজন। সহিহ বুখারির বিশুদ্ধ বর্ণনায় এসেছে, নবীজি সা: রুতাব তথা আর্দ্র খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। আর এ জাতীয় খেজুর না পেলে, শুকনো খেজুর দ্বারা। তাও পাওয়া না গেলে শুধু পানি দিয়ে তিনি ইফতার করতেন।
এ হাদিস থেকে বুঝে আসে নবীজি কী দ্বারা ইফতার করতেন। কাজেই পথচারী বা মুসাফির এমন কাউকে খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার করানোটাও পুণ্যের কাজ। এতে সঙ্কোচবোধ করা উচিত নয়। বিশেষত সময় সঙ্কীর্ণ হয়ে এলে। যখন ইফতারের সময় নিকটবর্তী হয়ে আসে। অথচ তখনো কোনো রোজাদার পথিক বা ভ্রাম্যমাণ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়। যিনি তার গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই হয়তো সময় হয়ে যাবে। আর তিনি যথাসময়ে ইফতার করতে পারবেন না। এ জন্য এমন লোকদের ইফতার করানো হবে মহা পুণ্যের কাজ। একই সাথে মিলবে একটি পূর্ণ রোজার সাওয়াবও। বহির্দেশে প্রায়ই দেখা যায়, তারা গণ-ইফতারের আয়োজন করেন। পথিক বা মুসাফির ট্রাভেলারদের জন্যও ইফতারের ব্যবস্থা করেন। এটি অত্যন্ত সুন্দর একটি ব্যবস্থাপনা। আমাদেরও উচিত মসজিদে মাদরাসায় বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে এমন ইফতার আয়োজন করা। কিংবা হাট বাজার বা লোকালয়ে যখন অনেক মানুষ তাদের গন্তব্যে ফিরতে অক্ষম হয়ে যায়, তখন তাদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করা। বিনিময়ে রোজার সাওয়াব লাভ করা। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ইফতার আয়োজনে শরিক হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর