ব্যাটিং ব্যর্থতায় হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের

নিউজিল্যান্ড জয়ী ২৬ রানে

Printed Edition
first-2
স্কয়ার কার্ট করছেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটার : নয়া দিগন্ত

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দেশের মাটিতে অনভিজ্ঞ কিউইদের বিপক্ষেও সেই পুরনো ব্যাটিং ব্যর্থতার ছাপ। শুরুটা দারুণ হলেও ছন্দ হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে টাইগারদের ইনিংস, আর তাতেই সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে হার দিয়ে যাত্রা শুরু। বোলারদের লড়াই সত্ত্বেও ব্যাটারদের ব্যর্থতা দলকে হার মানতে বাধ্য করে। ৫০ ওভারও খেলতে পারেনি টাইগাররা। ৪৮.৩ ওভারে ২২১ রানে অলআউট। ২৬ রানে ম্যাচটা জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড। এতে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০-তে এগিয়ে রইল লাথামের দল। ২১ রানে প্রথম উইকেট হারিয়ে সতর্ক শুরুর পর নিউজিল্যান্ডকে টেনেছেন হেনরি নিকোলস। পরে দ্রুত রান বাড়িয়ে ফিফটি পান ডিন ফক্সক্রফটও। তবে প্রতিপক্ষকে বেশি দূর বাড়তে দেননি শরীফুল ইসলাম। শুরু থেকেই বল হাতে আগুন ঝরাচ্ছিলেন বাংলাদেশের পেসাররা। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে একপর্যায়ে বেশ চাপে ছিল নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা; কিন্তু বোলারদের সেই পরিশ্রম অনেকটা ম্লান করে দিয়েছেন ফিল্ডাররা। ক্যাচ মিস আর মিস ফিল্ডিংয়ের মহড়ায় সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে স্বাগতিক দল। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪৭ রান করে তারুণ্যনির্ভর নিউজিল্যান্ড।

২৪৮ রানের লক্ষ্যে নামা বাংলাদেশ ৩.২ ওভারে ২ উইকেটে ২১ রানে পরিণত হয়। চতুর্থ ওভারের প্রথম ও দ্বিতীয় বলে তানজিদ ও শান্তকে বোল্ড করেন নাথান স্মিথ। হ্যাটট্রিক বলের মোকাবেলা করতে চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন লিটন। তবে হ্যাটট্রিক করতে পারেননি স্মিথ। সেই ধাক্কা সামলে নেন সাইফ ও লিটন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নিতে সাইফের লেগেছে ৫৯ বল। যেখানে ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ বলে জশ ক্লার্কসনকে হ্যাটট্রিক চার মারেন সাইফ। সাবলীল ব্যাটিং করতে থাকা সাইফ ৭৬ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৫৭ রান করে আউট হয়েছেন। তৃতীয় উইকেটে লিটনের সাথে যোগ করেন ৯৩ রান।

সাইফের বিদায়ের পর উইকেটে আসেন তৌহিদ হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে ১৮ রানের জুটি গড়েন তিনি। ২৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ডিন ফক্সক্রফটকে ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন লিটন। ৬৮ বলে ৩ চারে লিটন করেন ৪৬ রান। ২৭.২ ওভারে ৪ উইকেটে ১৩২ রান তখন বাংলাদেশের। আফিফ ৪৯ বলে ২৭ রান করার পর জায়দেন লিনক্সের বলে আউট হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন। যখন দলের হাল ধরা প্রয়োজন, সেখানে বাজে শট খেলে ১৫ বলে ৭ রান করে ফিরলেন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। রিশাদ ফিরলেন ৯ বলে ৪ নিয়ে। উইকেটে এসে রানের খাতাই খুলতে পারলেন না শরীফুল। ২০৩ রানে ৮ উইকেটের পতন। তখনই মূলত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। তৌহিদ হৃদয় এক প্রান্ত আগলে রেখে হাফ সেঞ্চুরি (৬০ বলে দু’টি করে চার ছক্কায় ৫৫ রান) করে ফিরলে ৪৮.৩ ওভারে ২২১ রানে মৃত্যু ঘটে বাংলাদেশের ইনিংসের।

এর আগে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে নিউজিল্যান্ড। ৮৩ বলে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন নিকোলস। ফক্সক্রফট ৫৮ বলে করেন ৫৯ রান। ২৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফল বোলার শরীফুল। অথচ এই ম্যাচ খেলার কথা ছিল না শরীফুলের। টিম শিটে নামও ছিল না। টসের ঠিক আগে মোস্তাফিজ হাঁটুতে অস্বস্তি বোধ করায় একাদশে আসে বদল। কোচ ফিল সিমন্স দ্রুত ছুটে টসের খানিক আগে টিম শিটে আনেন পরিবর্তন। তাতে টস কিছুটা দেরিতে হয়। শেষ মুহূর্তের এই বদলই নাটকীয়ভাবে কাজে লেগে যায়। শরীফুলের দারুণ বলে ৭ রান করে বোল্ড হন কেলি।

এরপর তিনে নামা উইল ইয়ংকে নিয়ে জুটি গড়েন নিকোলস। ইয়ং অবশ্য ক্রিজে এসেই জীবন পান। ১ রানে শরীফুলের বলে তার সহজ ক্যাচ স্লিপে ফেলে দেন সাইফ। এরপর কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে এগোতে থাকেন। ৮৮ বলে ৭৩ রানের জুটির পর ৩০ রান করে ইয়ং ফিরলে ভাঙে জুটি। এরপর অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার নিকোলস আর লাথামের জুটিটা (৩২ বলে ৩৩) জমে উঠতেই আঘাত হানেন মিরাজ। দারুণ কুইকারে বোল্ড হন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক (১৪)। সঙ্গীর বিদায়ের ধাক্কায় নিকোলসও পথ ধরেন ড্রেসিংরুমের। রিশাদের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বলে-ব্যাটে না হওয়ায় কিপার লিটন দাসের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

নিকোলসের ৮৩ বলে ৬৮ রানের ইনিংস থামার পর ভালোভাবেই ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। ডিন ফক্সক্রফটের সাথে মোহাম্মদ আব্বাস জুটির চেষ্টা করলেও বেশিদূর যাননি। আব্বাসকে অ্যারাউন্ড দ্য উইকেটে এসে ফেরত পাঠান শরীফুল। ফক্সক্রফট ক্রিজে টিকে বাড়াতে থাকেন রান। জশ ক্লার্কসনকে নিয়ে ৩৪ বলে যোগ করেন ২৭ রান। তাসকিনের বলে বোল্ড হন ক্লার্কসন।

ফক্সক্রফট দমে না গিয়ে তোলেন ফিফটি, স্লগ ওভারে রান বাড়ানোর কাজটা করছিলেন। তবে শেষটা টানতে পারেননি। নাহিদ রানাকে দু’টি চার মারার পর ইয়র্কারে বোল্ড হন। শেষ দিকে চেষ্টা করেও আড়াইশ’ পার করাতে পারেননি নাথান স্মিথ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউজিল্যান্ড : ৫০ ওভারে ২৪৭/৮ (নিকোলস ৬৮, ফক্সক্রফট ৫৯, ইয়াং ৩০, ল্যাথাম ১৪; শরীফুল ২/২৭, রিশাদ ২/৪৪, তাসকিন ২/৫০, মিরাজ ১/৫৪, নাহিদ ১/৬৫)।

বাংলাদেশ : (সাইফ ৫৭, তানজিদ ২, শান্ত ০, লিটন ৪৬, আফিফ ২৭, মিরাজ ৬, রিশাদ ৪, শরীফুল ০, তাসকিন ২, তৌহিদ ৫৫, নাহিদ রানা ০*, লিনক্স ১/৩২, টিকনার ৪/৪০, নাথান ৩/৪৫)।

ফল : নিউজিল্যান্ড ২৬ রানে জয়ী।

সিরিজ : তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে কিউইরা।

ম্যাচ সেরা : ডিন ফক্সক্রফট।

দ্বিতীয় ওয়ানডে : ২০ এপ্রিল, মিরপুর।