পিত্তথলিতে পাথর হলে করণীয়
Printed Edition
ডা: এস এম মোর্তুজা আহসান
বর্তমানে পিত্তথলিতে পাথর বা গল স্টোন একটি সাধারণ কিন্তু গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ, স্থূলতা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে এ রোগের প্রকোপ বাড়ছে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না নিলে এটি মারাত্মক জটিলতার কারণ হতে পারে।
পিত্তথলিতে পাথর কী : পিত্তথলি হলো যকৃতের নিচে অবস্থিত একটি ছোট থলির মতো অঙ্গ, যেখানে পিত্তরস জমা থাকে। এই পিত্তরস ঘন হয়ে গেলে বা রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট হলে পাথর তৈরি হয়।
লক্ষণ : অনেক ক্ষেত্রে পিত্তথলিতে পাথর থাকলেও কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে লক্ষণ দেখা দিলে সাধারণত-
ডান পাঁজরের নিচে বা পেটের ওপরের অংশে তীব্র ব্যথা।
তেল-ঝাল খাবারের পর ব্যথা বেড়ে যাওয়া
বমি বমি ভাব বা বমি
জ্বর এবং
চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস) ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসা
লক্ষণবিহীন পিত্তথলির পাথরে অনেক সময় অপারেশন প্রয়োজন হয় না। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ ও ফলোআপ যথেষ্ট হতে পারে।
তবে ব্যথা, জ্বর বা জন্ডিসের মতো উপসর্গ দেখা দিলে সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা হলো ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে পিত্তথলির পাথর অপসারণ। আধুনিক এই অপারেশনে ঝুঁকি কম এবং রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। সাধারণত ওষুধে পাথর পুরোপুরি দূর হয় না।
খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন
পিত্তথলির পাথর প্রতিরোধ ও উপসর্গ কমাতে-
কম তেল ও কম চর্বিযুক্ত খাবার খেতে হবে
শাকসবজি, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি গ্রহণ করতে হবে।
পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে
ভাজাপোড়া ও ফাস্টফুড এড়িয়ে চলতে হবে
কখন দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন-
ব্যথা অসহনীয় হলে
জ্বর বা জন্ডিস দেখা দিলে
বারবার বমি হলে।
উপসংহার
পিত্তথলিতে পাথর একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ। তবে অবহেলা করলে এটি মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, হেপাটোবিলিয়ারি সার্জন, ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট