চিকিৎসার প্রয়োজনে ১০ লাখ টাকা তোলার সুযোগ

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

Printed Edition
3rd-6
একীভূত হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ভুক্তভোগী গ্রাহকদের বিক্ষোভ কর্মসূচি : নয়া দিগন্ত

বিশেষ সংবাদদাতা

চিকিৎসার জরুরি প্রয়োজনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখিয়ে নিজ নিজ শাখা থেকে এই অর্থ তোলা যাবে। এর বেশি অর্থের প্রয়োজন হলে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, অসুস্থ রোগীর চিকিৎসার খরচ মেটাতে গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন। তবে কেউ যদি এর চেয়ে বেশি অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ বিষয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন, “গ্রাহক সত্যিই অসুস্থ কি না, তা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। কেউ যদি অর্থ উত্তোলনে সমস্যার সম্মুখীন হন, তাহলে তিনি সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ জানাতে পারবেন।”

তিনি আরো বলেন, গ্রাহকরা দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের এই ধৈর্যের প্রশংসা করছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন। সরকার যেভাবে আমানত সহায়তা দিচ্ছে, সেই অনুপাতে ধাপে ধাপে অর্থ ছাড় করা হচ্ছে। শুরুতে গ্রাহকদের জন্য দুই লাখ টাকা করে উত্তোলনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল, এখন চিকিৎসার মতো মানবিক প্রয়োজন বিবেচনায় সেই সীমা বিশেষ ক্ষেত্রে বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ঘোষণার মধ্যেই একই দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কয়েক শ’ গ্রাহক। নিজেদের জমানো অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবিতে তারা সেখানে অবস্থান নেন এবং দ্রুত লেনদেন স্বাভাবিক করার দাবি জানান। বিক্ষোভে অংশ নেয়া গ্রাহকদের অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ তুলতে না পেরে তারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। কারো চিকিৎসার খরচ আটকে আছে, কারো মেয়ের বিয়ের জন্য জমানো টাকা, আবার কারো সারাজীবনের সঞ্চয় ব্যাংকে আটকে রয়েছে। মাসের পর মাস শাখায় ঘুরেও কাক্সিক্ষত অর্থ না পাওয়ায় তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। একজন আমানতকারী বলেন, “আমার স্ত্রীর অপারেশনের জন্য জরুরি টাকা দরকার। কিন্তু ব্যাংক থেকে পুরো অর্থ তুলতে পারছি না। বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আসতে হয়েছে।” আরেকজন গ্রাহক অভিযোগ করেন, “সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য জমিয়ে রাখা টাকা তুলতে পারছি না। এই অনিশ্চয়তায় পরিবার নিয়ে চরম উদ্বেগে আছি।”

গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংকের লেনদেন স্বাভাবিক না থাকায় তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে গুরুতর প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা, শিক্ষা ও সামাজিক অনুষ্ঠানের মতো জরুরি প্রয়োজনও মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের মুনাফা কমানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটিও নতুন করে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বিক্ষোভকারী গ্রাহকরা এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একদিকে আমানত ফেরত পেতে বিলম্ব, অন্য দিকে মুনাফা কমানো দুই মিলিয়ে তারা দ্বিগুণ ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে এ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। একই সাথে চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়েও প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত পাওয়া মাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এমডি ও চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন হলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে। তবে ততদিন পর্যন্ত গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং তাদের জরুরি প্রয়োজন মেটানোই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।