কলেজে একটি বদলি করতে ৮ লাখ টাকা দিতে হয় : পরিকল্পনা উপদেষ্টা
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে বড় বড় দুর্নীতি কমেছে। কিন্তু অন্য দুর্নীতি আছে। মামলা বাণিজ্য আছে, বদলি বাণিজ্য আছে। কলেজে একটি বদলি করতে আট লাখ টাকা লাগে। গোয়েন্দা সংস্থাকে বলেছি, কিন্তু তারা এসব বের করতে পারেনি।
গতকাল বুধবার অর্থনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এ কথা বলেন। রাজধানীর কাওরানবাজারে এই অনুষ্ঠান হয়।
শিক্ষা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালের অভিজ্ঞতা থেকে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শত শত তদবির হয়। আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিলেই কাজ হতো, মন্ত্রণালয়ে আসতে হতো না। এখন সবাই বলে, একটা সুযোগ এসেছে, তাই মন্ত্রণালয়ে চলে আসেন। আমার রুমের সামনে অনেক লোক আসত। আমি তাদের ডিঙিয়ে রুমে যেতাম।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, আগের সরকারের ফেলে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আছে। এ বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ হতে পারে। মূল্যস্ফীতি যতটা কমার কথা, ততটা কমেনি।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের সমালোচনা করেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি আরো বলেন, গত সরকারের আমলে আপাতদৃষ্টিতে অর্থনীতি ভালো ছিল মনে হয়েছিল। কিন্তু ব্যাংক খাতের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছিল, তা বোঝা যাচ্ছিল। বিপুল অর্থ বিদেশে চলে গেছে। তার মতে, আর্থিক খাতের নিয়মশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছিল, যা বাজেটের শৃঙ্খলাকে নষ্ট করে। ২০২৪ সালে অভ্যুত্থান না হলেও পরে অভ্যুত্থান হতো, তা বোঝা যাচ্ছিল। যারা এসব (দুর্নীতি, অন্যায়) করেছেন, তারা তা বুঝতে পেরে অর্থনীতিকে আরো ভঙ্গুর করে রেখে গেছেন।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরো বলেন, বর্তমান সরকার এনজিও সরকার হলেও অর্থনীতির জন্য কাজ করেছে। তিনি আরো বলেন, এই সরকার কী ধরনের সরকার। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রত্যাশা পূরণের সরকার। বিগত সরকারের সময় মনে হচ্ছিল অর্থনীতি চলছিল। কিন্তু পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছিল। গণ-অভুত্থানের পর যুবসমাজের মধ্যে অস্থিরতাও তৈরি হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা তৈরি হয়। আগামী সরকারের আমলেও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিসহ এসব চ্যালেঞ্জ থেকে যাবে।
অনুষ্ঠানে ইআরএফ সদস্যদের সন্তানদের মধ্যে মেধাবৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তি দেয়া হয়। এ সময় আরো বক্তব্য দেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, ব্র্যাক ব্যাংকের অতিরিক্তি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হেড অব এসএমই ব্যাংকিং সৈয়দ আবদুল মোমেনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফের সভাপতি দৌলত আকতার। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।