হাবিপ্রবিতে শিক্ষামন্ত্রী
মনে হয় দেশ এখন ফেসবুক চালাচ্ছে
Printed Edition
দিনাজপুর ও হাবিপ্রবি প্রতিনিধি
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মন্তব্য করেছেন, মনে হয় ফেসবুক এখন দেশ চালাচ্ছে। ফেসবুকে বটবাহিনী আমাকে নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড বানায়। আমি নাকি পরীক্ষার রুটিন দেবো পরীক্ষার দিন, এসব অপপ্রচার চালায়। আমি বললাম এবার শূন্য পাস করলেও এমপিও বাতিল হবে না। আর বটবাহিনী লিখে দিলো এবার ফেল করলে এমপিও বাতিল। এখন দেখা যায় যেন ফেসবুকই দেশ চালায়!
গতকাল শুক্রবার সকালে দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টান্ডার্ডাইজেশন হয় র্যাংকিং এর উপর। এই র্যাংকিং যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বাড়াতে পারবেন, সেই ভিসিই থাকবে। আমি ভিসি বা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে দেখি কিভাবে তারা শিক্ষার উন্নয়ন করে এবং এগুলোর খতিয়ান আমি তৈরি করছি, আমি আমার মন্ত্রণালয়ে একটি সেল গঠন করছি কিভাবে তারা কাজ করছে তা দেখার জন্য। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে কাজ করছে সেটা দেখার জন্য এই সেল থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে। একজন ছাত্রের পিছনে অভিভাবকের খরচ হয় কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা। আর সেই ছাত্রের পিছনে সরকারের খরচ হয় ৮ লাখ টাকা। পড়াশোনার জন্য সময় দিতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য ছাত্রদেরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ওরিয়েন্টেশনে নবীন ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস, সৃষ্টি হয় এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো: এনামউল্লাহর সভাপতিত্বে ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: ফারুক হাসান ও উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: মহিদুল হাসানের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া এমপি, দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী, রংপুর-১ আসনের এমপি মো: রায়হান সিরাজী ও দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল। আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো: শফিকুল ইসলাম সিকদার, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর কবির, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো: আবু হাসান ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: নওশের ওয়ান।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, তোমরা শিক্ষার্থীরা ও তোমাদের শিক্ষকরা আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। বর্তমান বিশ্বায়নের এই যুগে টিকে থাকতে হলে তোমাদেরকে যোগ্য ও দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। অনেকই বলে আমাদের দেশের জনসংখ্যা বেশি কিন্তু আমি মনে করি দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে এই জনসংখ্যা কোনো সমস্যা নয়। বরং এই জনসংখ্যা জনসম্পদে পরিণত হবে। তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। বাইরের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকেও সেভাবেই সাজাতে হবে। তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য কেউ বাজেট চায় না। সবাই শুধু বাজেট চায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য। শুধু ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে নজর না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন হবে ফলাফলের ভিত্তিতে, যে বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যত বেশি এগিয়ে যাবে সেই অনুপাতে উন্নয়ন বরাদ্দ পাবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার গুরুত্ব দিতে হবে এবং নিয়োগে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতি চলবে না। বিগত সময়ে শিক্ষক নিয়োগে এমন কিছু হয়েছে কি না সেটাও খতিয়ে দেখছি আমরা।
এ ছাড়া বিকেলে শিক্ষামন্ত্রী জেলা শিল্পকলা একাডেমি ভবনে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রীয় সচিবদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় জাতীয় সংসদের হুইপ মো: আখতারুজ্জামান মিয়া এমপিসহ জেলার শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।