দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন চাইলেন চসিক মেয়র

Printed Edition
3rd-3
চট্টগ্রামে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন চসিক মেয়র : নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রাম ব্যুরো

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের সাথে মতবিনিময়কালে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং নগরবাসীর সেবা প্রদান চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।

গতকাল রোববার টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক সুজান জিন্ডেল এবং দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক সহকারী মো: মাসুক হায়দারের সাথে মতবিনিময়কালে মেয়র এসব কথা বলেন।

প্রতিনিধি দলটি জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন বলেন, ২০০১ সালের পর দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। ফলে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পায়নি। এ কারণে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে। আমরা আশাবাদী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী ভেঙে পড়া দেশের অর্থনীতিকে উদ্ধার করেছিলেন এবং বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটিয়েছিলেন, ঠিক সেভাবে তারেক জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে।

স্থানীয় নির্বাচনের সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, বর্তমানে সারা দেশে আমিই একমাত্র নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এর কারণ হলো, ২০২১ সালের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জালিয়াতির মাধ্যমে আমাকে হারিয়ে দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আদালতের রায়ে আমি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। অন্যান্য সিটি করপোরেশনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন না। মেয়র না থাকায় আপাতত প্রশাসক দিয়ে সেগুলো পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কারণ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নিজ নিজ এলাকার সমস্যাগুলো সম্পর্কে অবহিত থাকেন, ফলে তার পক্ষে সেগুলো সমাধান করা সহজ হয়। নির্বাচিত মেয়র না থাকায় বিভিন্ন এলাকায় সমস্যা হচ্ছে।

প্রতিনিধি দলটি জানায়, বাংলাদেশের জাতীয় আইনি কাঠামো এবং দেশটি যেসব আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মানদণ্ড গ্রহণ করেছে, তার ভিত্তিতেই সংসদীয় নির্বাচনের মূল্যায়ন করা হয়েছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এই মিশনটি তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এবং একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এই সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি মিশনের ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর, মিশনটি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছে একটি বিস্তারিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করবে। এই প্রতিবেদনে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সুপারিশগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং এটি মিশনের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হবে।